শিরোনাম

সরকারের প্রত্যাশা পূরণে সহযোগী হিসেবে পদত্যাগ করেছি: দুদক চেয়ারম্যান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
সরকারের প্রত্যাশা পূরণে সহযোগী হিসেবে পদত্যাগ করেছি: দুদক চেয়ারম্যান
পদত্যাগের পর দুদক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রত্যাশা পূরণ ও কাজ করার সুযোগ করে দিতে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর দুদক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সরকারের প্রত্যাশা আছে। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সহযোগী হিসেবে আমরা পদত্যাগ করেছি। নির্বাচিত সরকার আসার ১৪তম দিনে আমরা পদত্যাগ করলাম। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে পদত্যাগ করা দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ উপস্থিত ছিলেন।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে ড. মোমেন বলেন, আমরা অনুভব করেছি যে পরিবর্তনের পর নির্বাচিত যে সরকার এসেছে, তাদেরও প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিশ্চয়ই আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন এখানে স্থাপন করবেন। এতে দুদক যেমন ভালো হবে, রাষ্ট্রেরও উপকার হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারের সময় যে অংশটুকু কাজ করতে পেরেছি, সেজন্য আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।

দুদকের ‘নখ-দাঁত’ থাকা না-থাকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, এটা বিচার করার মালিক আপনারা। আমাদের এতদিন নখ-দাঁত ছিল কি ছিল না, তা আপনারা ভালো বুঝতে পারবেন। আমরা আমাদের সময়টুকুতে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।

রাজনৈতিক প্রভাবে দুদক চলবে কি না– এমন প্রশ্নে বিদায়ী চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের নিজস্ব ইশতেহার ও প্রত্যাশা থাকে। সরকার সেই অনুযায়ী কাজ করবে, এতে আমি ব্যত্যয় কিছু দেখছি না। আমরাও অনুভব করছি যে এখন আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য লোকের কাজ করা প্রয়োজন।

দুদক আইন অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান বা কমিশনাররা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। সাধারণত এক মাস আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে এই চিঠি পাঠাতে হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তা কার্যকর হয়।

ড. মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পাঁচ বছরের মেয়াদে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ছিলেন। তার সঙ্গেই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ১১ ডিসেম্বর এবং হাফিজ আহসান ফরিদ ১৫ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

/এফসি/