১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল
নিজস্ব প্রতিবেদক

১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১৬: ২৮

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নবম জাতীয় পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। তবে বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে এটি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়ন হবে। কীভাবে উত্তম উপায়ে তা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।
জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য এরইমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য আগামী জাতীয় বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে। তবে পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অর্থনীতির পরিস্থিতিও কঠিন। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তারপরও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২১ মে বৈঠকে বসবে বাস্তবায়ন কমিটি। প্রথম ধাপে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে। আর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি এখন ৫০ হাজার টাকা মূল বেতন পান, নতুন বেতনকাঠামোয় জুলাই মাসে তার মূল বেতন হবে ১ লাখ টাকা। কিন্তু তিনি আগামী জুলাই মাসেই মূল বেতনের পুরো অংশ পাবেন না। বর্তমান মূল বেতন থেকে যতটুকু বাড়ল, এর ৫০ শতাংশ পরিমাণ টাকা পাবেন তিনি। এর মানে, ওই কর্মকর্তা জুলাই মাস থেকে মূল বেতন হিসেবে ৭৫ হাজার টাকা পাবেন। বাকি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা আগের মতোই পাবেন।
দ্বিতীয় বছরের জুলাই মাসে নতুন বেতনকাঠামোর পুরো মূল বেতন অর্থাৎ ১ লাখ টাকা পাবেন। অন্যান্য সুবিধা আগের হিসাবেই পাবেন। এরপর তৃতীয় বছরের জুলাই মাসে গিয়ে ওই সরকারি কর্মকর্তা এক লাখ মূল বেতনের পাশাপাশি নতুন বেতনকাঠামো অনুসারে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পেনশন বাবদ আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নতুন কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। গ্রেড আগের মতো ২০টিই রাখা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশের মতো বাড়তে পারে। তবে যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাদের পেনশন ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন বাড়তে পারে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। আগামী অর্থবছরে তাদের জন্য কতটুকু দেওয়া যায়, তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এদিকে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৫৫ থেকে ৭৪ বয়সী পেনশনভোগীরা পেতে পারেন ৮ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া বেশি বেতনের সরকারি চাকরিজীবী, অর্থাৎ প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নবম জাতীয় পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। তবে বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে এটি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়ন হবে। কীভাবে উত্তম উপায়ে তা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।
জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য এরইমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য আগামী জাতীয় বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে। তবে পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অর্থনীতির পরিস্থিতিও কঠিন। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তারপরও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২১ মে বৈঠকে বসবে বাস্তবায়ন কমিটি। প্রথম ধাপে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে। আর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি এখন ৫০ হাজার টাকা মূল বেতন পান, নতুন বেতনকাঠামোয় জুলাই মাসে তার মূল বেতন হবে ১ লাখ টাকা। কিন্তু তিনি আগামী জুলাই মাসেই মূল বেতনের পুরো অংশ পাবেন না। বর্তমান মূল বেতন থেকে যতটুকু বাড়ল, এর ৫০ শতাংশ পরিমাণ টাকা পাবেন তিনি। এর মানে, ওই কর্মকর্তা জুলাই মাস থেকে মূল বেতন হিসেবে ৭৫ হাজার টাকা পাবেন। বাকি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা আগের মতোই পাবেন।
দ্বিতীয় বছরের জুলাই মাসে নতুন বেতনকাঠামোর পুরো মূল বেতন অর্থাৎ ১ লাখ টাকা পাবেন। অন্যান্য সুবিধা আগের হিসাবেই পাবেন। এরপর তৃতীয় বছরের জুলাই মাসে গিয়ে ওই সরকারি কর্মকর্তা এক লাখ মূল বেতনের পাশাপাশি নতুন বেতনকাঠামো অনুসারে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পেনশন বাবদ আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নতুন কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। গ্রেড আগের মতো ২০টিই রাখা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশের মতো বাড়তে পারে। তবে যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাদের পেনশন ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন বাড়তে পারে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। আগামী অর্থবছরে তাদের জন্য কতটুকু দেওয়া যায়, তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এদিকে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৫৫ থেকে ৭৪ বয়সী পেনশনভোগীরা পেতে পারেন ৮ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া বেশি বেতনের সরকারি চাকরিজীবী, অর্থাৎ প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১৬: ২৮

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নবম জাতীয় পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। তবে বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে এটি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়ন হবে। কীভাবে উত্তম উপায়ে তা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।
জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য এরইমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য আগামী জাতীয় বাজেটে নতুন পে স্কেলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে। তবে পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অর্থনীতির পরিস্থিতিও কঠিন। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তারপরও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২১ মে বৈঠকে বসবে বাস্তবায়ন কমিটি। প্রথম ধাপে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে। আর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে অন্যান্য ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি এখন ৫০ হাজার টাকা মূল বেতন পান, নতুন বেতনকাঠামোয় জুলাই মাসে তার মূল বেতন হবে ১ লাখ টাকা। কিন্তু তিনি আগামী জুলাই মাসেই মূল বেতনের পুরো অংশ পাবেন না। বর্তমান মূল বেতন থেকে যতটুকু বাড়ল, এর ৫০ শতাংশ পরিমাণ টাকা পাবেন তিনি। এর মানে, ওই কর্মকর্তা জুলাই মাস থেকে মূল বেতন হিসেবে ৭৫ হাজার টাকা পাবেন। বাকি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা আগের মতোই পাবেন।
দ্বিতীয় বছরের জুলাই মাসে নতুন বেতনকাঠামোর পুরো মূল বেতন অর্থাৎ ১ লাখ টাকা পাবেন। অন্যান্য সুবিধা আগের হিসাবেই পাবেন। এরপর তৃতীয় বছরের জুলাই মাসে গিয়ে ওই সরকারি কর্মকর্তা এক লাখ মূল বেতনের পাশাপাশি নতুন বেতনকাঠামো অনুসারে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পেনশন বাবদ আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নতুন কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। গ্রেড আগের মতো ২০টিই রাখা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশের মতো বাড়তে পারে। তবে যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাদের পেনশন ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন বাড়তে পারে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। আগামী অর্থবছরে তাদের জন্য কতটুকু দেওয়া যায়, তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এদিকে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৫৫ থেকে ৭৪ বয়সী পেনশনভোগীরা পেতে পারেন ৮ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া বেশি বেতনের সরকারি চাকরিজীবী, অর্থাৎ প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
/এফসি/

নবম পে স্কেলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ
নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা জানা গেলো


