থার্ড টার্মিনাল চালুর আগেই দিতে হবে ঋণের কিস্তি

থার্ড টার্মিনাল চালুর আগেই দিতে হবে ঋণের কিস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। ৯৯ শতাংশ কাজ হলেও শেষ পর্যন্ত ওই সালে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর এই টার্মিনাল চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অর্থাৎ ২০২৭ সালের আগে এখান থেকে রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা নেই। আয় না থাকলেও আগামী মাস থেকেই থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নেওয়া বড় অঙ্কের জাপানি ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টার্মিনালটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ। বাকি ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসাবে দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।ঋণের প্রথম কিস্তি ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) জুন মাসে পরিশোধ করতে হবে। ডিসেম্বরে পরিশোধ করতে হবে এক হাজার কোটি টাকা। বেবিচকের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম বছরের ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করলেই প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক মুনাফার পুরোটাই শেষ হয়ে যাবে।
দুই বছর পর অবশ্য বার্ষিক কিস্তি কমে প্রায় এক হাজার কোটি টাকায় নেমে আসবে এবং ২০৫৬ সাল পর্যন্ত চলবে ঋণ পরিশোধ। এরপরও বেবিচকের আর্থিক চাপ খুব একটা কমবে বলে মনে করেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের অনেকেই বলছেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধের পর নিয়মিত কার্যক্রম ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বেবিচককে নিজস্ব সঞ্চয়ে হাত দিতে হবে। এর ফলে দেশব্যাপী বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এমনকি নেভিগেশন ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কেনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
থার্ড টার্মিনালের কার্যক্রম ২০২৪ সালে শুরু করায় সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বেবিচক এবং জাপানি প্রতিষ্ঠান জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, নিপ্পন কোই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের মেয়াদে চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি প্রায় থমকে গিয়েছিল। বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন পর জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মার্চ মাসে আলোচনা আবার শুরু হয়।
২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেবিচকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম মাফিদুর রহমান আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিতে ব্যর্থতার জন্য অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দরকষাকষির সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অবশ্য বলেছেন, তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে একাধিকবার আলোচনা চালিয়েছিলেন।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বেবিচকের আলোচনার পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, টার্মিনালের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি চুক্তি সম্পন্ন করা উচিত ছিল। সে ক্ষেত্রে বেবিচক থার্ড টার্মিনালের নিজস্ব আয় থেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারত বলেও মনে করেন তিনি।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই থার্ড টার্মিনাল থেকে রাজস্ব আসবে না। বেবিচকের বর্তমান চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, চুক্তি চূড়ান্ত করতে অন্তত তিন সময় মাস লাগবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাধ্যতামূলক পরীক্ষামূলক কার্যক্রম– অপারেশন রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওরাট) সম্পন্ন করতে আরও ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগবে। ফলে থার্ড টার্মিনাল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে হতে ২০২৭ সালে গড়াবে।
অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (মিতসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন এবং স্যামসাং সি অ্যান্ড টি করপোরেশন) ২১,৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থার্ড টার্মিনালটির কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের অক্টোবরে উদ্বোধন করা হয়েছিল। টার্মিনালটিতে রয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার ফ্লোর স্পেস। আছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি বহির্গমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি আগমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ৩টি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক।
থার্ড টার্মিনাল পুরোদমে চালু হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন দ্বিগুণ হবে। এই বিমানবন্দর দিয়ে বর্তমানে বছরে ৮০ লাখ যাতায়াত করে এবং ৫ লাখ টন পণ্য পরিবহন হয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। ৯৯ শতাংশ কাজ হলেও শেষ পর্যন্ত ওই সালে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর এই টার্মিনাল চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অর্থাৎ ২০২৭ সালের আগে এখান থেকে রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা নেই। আয় না থাকলেও আগামী মাস থেকেই থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নেওয়া বড় অঙ্কের জাপানি ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টার্মিনালটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ। বাকি ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসাবে দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।ঋণের প্রথম কিস্তি ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) জুন মাসে পরিশোধ করতে হবে। ডিসেম্বরে পরিশোধ করতে হবে এক হাজার কোটি টাকা। বেবিচকের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম বছরের ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করলেই প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক মুনাফার পুরোটাই শেষ হয়ে যাবে।
দুই বছর পর অবশ্য বার্ষিক কিস্তি কমে প্রায় এক হাজার কোটি টাকায় নেমে আসবে এবং ২০৫৬ সাল পর্যন্ত চলবে ঋণ পরিশোধ। এরপরও বেবিচকের আর্থিক চাপ খুব একটা কমবে বলে মনে করেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের অনেকেই বলছেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধের পর নিয়মিত কার্যক্রম ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বেবিচককে নিজস্ব সঞ্চয়ে হাত দিতে হবে। এর ফলে দেশব্যাপী বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এমনকি নেভিগেশন ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কেনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
থার্ড টার্মিনালের কার্যক্রম ২০২৪ সালে শুরু করায় সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বেবিচক এবং জাপানি প্রতিষ্ঠান জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, নিপ্পন কোই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের মেয়াদে চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি প্রায় থমকে গিয়েছিল। বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন পর জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মার্চ মাসে আলোচনা আবার শুরু হয়।
২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেবিচকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম মাফিদুর রহমান আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিতে ব্যর্থতার জন্য অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দরকষাকষির সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অবশ্য বলেছেন, তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে একাধিকবার আলোচনা চালিয়েছিলেন।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বেবিচকের আলোচনার পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, টার্মিনালের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি চুক্তি সম্পন্ন করা উচিত ছিল। সে ক্ষেত্রে বেবিচক থার্ড টার্মিনালের নিজস্ব আয় থেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারত বলেও মনে করেন তিনি।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই থার্ড টার্মিনাল থেকে রাজস্ব আসবে না। বেবিচকের বর্তমান চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, চুক্তি চূড়ান্ত করতে অন্তত তিন সময় মাস লাগবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাধ্যতামূলক পরীক্ষামূলক কার্যক্রম– অপারেশন রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওরাট) সম্পন্ন করতে আরও ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগবে। ফলে থার্ড টার্মিনাল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে হতে ২০২৭ সালে গড়াবে।
অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (মিতসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন এবং স্যামসাং সি অ্যান্ড টি করপোরেশন) ২১,৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থার্ড টার্মিনালটির কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের অক্টোবরে উদ্বোধন করা হয়েছিল। টার্মিনালটিতে রয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার ফ্লোর স্পেস। আছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি বহির্গমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি আগমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ৩টি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক।
থার্ড টার্মিনাল পুরোদমে চালু হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন দ্বিগুণ হবে। এই বিমানবন্দর দিয়ে বর্তমানে বছরে ৮০ লাখ যাতায়াত করে এবং ৫ লাখ টন পণ্য পরিবহন হয়।

থার্ড টার্মিনাল চালুর আগেই দিতে হবে ঋণের কিস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। ৯৯ শতাংশ কাজ হলেও শেষ পর্যন্ত ওই সালে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর এই টার্মিনাল চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অর্থাৎ ২০২৭ সালের আগে এখান থেকে রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা নেই। আয় না থাকলেও আগামী মাস থেকেই থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নেওয়া বড় অঙ্কের জাপানি ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টার্মিনালটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ। বাকি ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসাবে দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।ঋণের প্রথম কিস্তি ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) জুন মাসে পরিশোধ করতে হবে। ডিসেম্বরে পরিশোধ করতে হবে এক হাজার কোটি টাকা। বেবিচকের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম বছরের ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করলেই প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক মুনাফার পুরোটাই শেষ হয়ে যাবে।
দুই বছর পর অবশ্য বার্ষিক কিস্তি কমে প্রায় এক হাজার কোটি টাকায় নেমে আসবে এবং ২০৫৬ সাল পর্যন্ত চলবে ঋণ পরিশোধ। এরপরও বেবিচকের আর্থিক চাপ খুব একটা কমবে বলে মনে করেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের অনেকেই বলছেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধের পর নিয়মিত কার্যক্রম ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বেবিচককে নিজস্ব সঞ্চয়ে হাত দিতে হবে। এর ফলে দেশব্যাপী বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এমনকি নেভিগেশন ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কেনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
থার্ড টার্মিনালের কার্যক্রম ২০২৪ সালে শুরু করায় সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বেবিচক এবং জাপানি প্রতিষ্ঠান জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, নিপ্পন কোই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের মেয়াদে চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি প্রায় থমকে গিয়েছিল। বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিন পর জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মার্চ মাসে আলোচনা আবার শুরু হয়।
২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেবিচকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম মাফিদুর রহমান আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিতে ব্যর্থতার জন্য অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দরকষাকষির সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অবশ্য বলেছেন, তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে একাধিকবার আলোচনা চালিয়েছিলেন।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বেবিচকের আলোচনার পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, টার্মিনালের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি চুক্তি সম্পন্ন করা উচিত ছিল। সে ক্ষেত্রে বেবিচক থার্ড টার্মিনালের নিজস্ব আয় থেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারত বলেও মনে করেন তিনি।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই থার্ড টার্মিনাল থেকে রাজস্ব আসবে না। বেবিচকের বর্তমান চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, চুক্তি চূড়ান্ত করতে অন্তত তিন সময় মাস লাগবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাধ্যতামূলক পরীক্ষামূলক কার্যক্রম– অপারেশন রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওরাট) সম্পন্ন করতে আরও ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগবে। ফলে থার্ড টার্মিনাল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে হতে ২০২৭ সালে গড়াবে।
অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (মিতসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন এবং স্যামসাং সি অ্যান্ড টি করপোরেশন) ২১,৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থার্ড টার্মিনালটির কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের অক্টোবরে উদ্বোধন করা হয়েছিল। টার্মিনালটিতে রয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার ফ্লোর স্পেস। আছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি বহির্গমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি আগমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ৩টি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক।
থার্ড টার্মিনাল পুরোদমে চালু হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন দ্বিগুণ হবে। এই বিমানবন্দর দিয়ে বর্তমানে বছরে ৮০ লাখ যাতায়াত করে এবং ৫ লাখ টন পণ্য পরিবহন হয়।

দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


