যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিকল্প ছিল না: ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিকল্প ছিল না: ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী
সিজেডএন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে তৎকালীন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির অনিবার্য ফল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও অর্থনীতিবিদ ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তার মতে, সেই সময়কার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চুক্তিটি না করার সুযোগ কার্যত ছিল না।
রবিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘উন্নয়ন কৌশল ও নীতিগত স্বাধীনতা: বাংলাদেশের উন্নয়ন পথপরিক্রমা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার। এতে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, একজন গবেষক বা শিক্ষাবিদ হিসেবে কোনো চুক্তির সমালোচনা করা সহজ হতে পারে। কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে থাকলে বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার ভাষায়, সে সময় চুক্তিটি না করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত।
তিনি বলেন, চুক্তি করা এবং না করা—উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকি ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানতেন, বাংলাদেশ একটি কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছিল এবং ইন্দোনেশিয়াও একই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছিল। ফলে পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত একটি স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নেয়।
আলোচনায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য নীতিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম বৈদেশিক সহায়তা গ্রহণ করলেও নিজেদের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণে স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখেছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করে।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থার সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী সামাজিক পুঁজি গড়ে তোলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং অর্থনীতিকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি দেশের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেলেও বাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের পর গত তিন দশকে প্রয়োজনীয় অনেক সংস্কার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর সভাপতি কামরান টি. রহমান বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যেসব সংস্কারের শর্ত দেয়, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে তিনি নীতিগত স্বাধীনতার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের বদলে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিতে হবে। তার মতে, প্রকৃত নীতিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে দেশীয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকেও মুক্ত থাকতে হবে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং উচ্চ সুদহার ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি তৈরি করছে।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা এখন আগের তুলনায় বাংলাদেশের স্থানীয় বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এসব সহযোগিতার প্রকৃত সুফল অনেকাংশেই নির্ভর করবে বাংলাদেশের নিজস্ব দর-কষাকষির সক্ষমতার ওপর।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মেধা পাচার রোধে কার্যকর উদ্যোগের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দেশে বেকার মানুষের অভাব না থাকলেও তৈরি পোশাক শিল্পের মতো বৃহৎ খাতে ব্যবস্থাপক পর্যায়ের দক্ষ দেশীয় জনবল পাওয়া যায় না। তার অভিযোগ, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেও শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে একটি সাধারণ লেখা লিখতে সক্ষম হন না। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে তৎকালীন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির অনিবার্য ফল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও অর্থনীতিবিদ ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তার মতে, সেই সময়কার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চুক্তিটি না করার সুযোগ কার্যত ছিল না।
রবিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘উন্নয়ন কৌশল ও নীতিগত স্বাধীনতা: বাংলাদেশের উন্নয়ন পথপরিক্রমা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার। এতে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, একজন গবেষক বা শিক্ষাবিদ হিসেবে কোনো চুক্তির সমালোচনা করা সহজ হতে পারে। কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে থাকলে বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার ভাষায়, সে সময় চুক্তিটি না করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত।
তিনি বলেন, চুক্তি করা এবং না করা—উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকি ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানতেন, বাংলাদেশ একটি কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছিল এবং ইন্দোনেশিয়াও একই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছিল। ফলে পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত একটি স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নেয়।
আলোচনায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য নীতিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম বৈদেশিক সহায়তা গ্রহণ করলেও নিজেদের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণে স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখেছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করে।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থার সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী সামাজিক পুঁজি গড়ে তোলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং অর্থনীতিকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি দেশের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেলেও বাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের পর গত তিন দশকে প্রয়োজনীয় অনেক সংস্কার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর সভাপতি কামরান টি. রহমান বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যেসব সংস্কারের শর্ত দেয়, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে তিনি নীতিগত স্বাধীনতার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের বদলে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিতে হবে। তার মতে, প্রকৃত নীতিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে দেশীয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকেও মুক্ত থাকতে হবে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং উচ্চ সুদহার ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি তৈরি করছে।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা এখন আগের তুলনায় বাংলাদেশের স্থানীয় বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এসব সহযোগিতার প্রকৃত সুফল অনেকাংশেই নির্ভর করবে বাংলাদেশের নিজস্ব দর-কষাকষির সক্ষমতার ওপর।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মেধা পাচার রোধে কার্যকর উদ্যোগের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দেশে বেকার মানুষের অভাব না থাকলেও তৈরি পোশাক শিল্পের মতো বৃহৎ খাতে ব্যবস্থাপক পর্যায়ের দক্ষ দেশীয় জনবল পাওয়া যায় না। তার অভিযোগ, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেও শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে একটি সাধারণ লেখা লিখতে সক্ষম হন না। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিকল্প ছিল না: ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী
সিজেডএন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে তৎকালীন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির অনিবার্য ফল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও অর্থনীতিবিদ ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তার মতে, সেই সময়কার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চুক্তিটি না করার সুযোগ কার্যত ছিল না।
রবিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘উন্নয়ন কৌশল ও নীতিগত স্বাধীনতা: বাংলাদেশের উন্নয়ন পথপরিক্রমা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার। এতে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, একজন গবেষক বা শিক্ষাবিদ হিসেবে কোনো চুক্তির সমালোচনা করা সহজ হতে পারে। কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে থাকলে বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার ভাষায়, সে সময় চুক্তিটি না করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত।
তিনি বলেন, চুক্তি করা এবং না করা—উভয় ক্ষেত্রেই ঝুঁকি ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানতেন, বাংলাদেশ একটি কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছিল এবং ইন্দোনেশিয়াও একই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছিল। ফলে পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত একটি স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নেয়।
আলোচনায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য নীতিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম বৈদেশিক সহায়তা গ্রহণ করলেও নিজেদের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণে স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখেছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করে।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থার সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী সামাজিক পুঁজি গড়ে তোলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং অর্থনীতিকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি দেশের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেলেও বাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের পর গত তিন দশকে প্রয়োজনীয় অনেক সংস্কার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর সভাপতি কামরান টি. রহমান বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যেসব সংস্কারের শর্ত দেয়, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে তিনি নীতিগত স্বাধীনতার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের বদলে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিতে হবে। তার মতে, প্রকৃত নীতিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে দেশীয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকেও মুক্ত থাকতে হবে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং উচ্চ সুদহার ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি তৈরি করছে।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা এখন আগের তুলনায় বাংলাদেশের স্থানীয় বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এসব সহযোগিতার প্রকৃত সুফল অনেকাংশেই নির্ভর করবে বাংলাদেশের নিজস্ব দর-কষাকষির সক্ষমতার ওপর।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মেধা পাচার রোধে কার্যকর উদ্যোগের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দেশে বেকার মানুষের অভাব না থাকলেও তৈরি পোশাক শিল্পের মতো বৃহৎ খাতে ব্যবস্থাপক পর্যায়ের দক্ষ দেশীয় জনবল পাওয়া যায় না। তার অভিযোগ, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেও শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে একটি সাধারণ লেখা লিখতে সক্ষম হন না। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।


-CznNewsLab-d8d3db-480x270.webp)





-CznNewsLab-2c9955-256x144.webp)
