শিরোনাম

ফারাক্কা বাঁধ এখন দেশের মানুষের জন্য স্থায়ী মরণফাঁদ: মির্জা ফখরুল

সিটিজেন ডেস্ক
ফারাক্কা বাঁধ এখন দেশের মানুষের জন্য স্থায়ী মরণফাঁদ: মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ফেসবুক

ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে বরাবরই সরব বিএনপির মাহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লং মার্চ করেছিলেন তিনি। এবার ভারতের দ্বারা নির্মিত এই বাঁধ বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ঐতিহাসিক ১৬ মে ‘ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্তর্জাতিক আইনকানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক ধারা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভারতের এই একতরফা নীতির কারণে বাংলাদেশ নিষ্ফলা ঊষর ভূমি হয়ে ওঠার আলামত ইতিমধ্যেই চারদিকে ফুটে উঠেছে।

ভারত কর্তৃক গঙ্গা নদীতে বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা অভিমুখে লং মার্চ করেছিলেন অবিসংবাদিত মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সেই কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে মাওলানা ভাসানীর ডাকে লাখো জনতা গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের সংগ্রামে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ভারতে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহার করার ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়াসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত বিপর্যয়কে উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করে ভারতকে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়, যা এখন এ দেশের মানুষের জন্য স্থায়ী মরণফাঁদ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই বঞ্চনা ও দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জনদুর্দশার আশঙ্কায় দূরদর্শী জননেতা মওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল করে ভারত সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এর মাধ্যমে তিনি বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আনেন। তখন থেকেই ব্যাপক মানববিপর্যয় সৃষ্টিকারী ফারাক্কা বাঁধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে।

ফারাক্কা দিবসের ৪৯তম বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে দেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে এবং নদী রক্ষায় দেশবাসীকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

/জেএইচ/