শিরোনাম

‘প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করবে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করবে সরকার’
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন

প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করবে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে সরকারের ৫ মাস পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মাত্র ১৫০ দিন অর্থাৎ পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছে। সময়ের পরিমাপে এটা হয়তো খুব দীর্ঘ কোনো সময় নয়। কিন্তু, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি দিনই জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য। প্রতিটি মুহূর্তই দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা পালনের পরীক্ষা। আর প্রতিটি পদক্ষেপই মানুষের আস্থা অর্জনের নতুন পরীক্ষা।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার মূলত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয়সাশ্রয় ও দুর্নীতিমুক্ত পর্যালোচনা নিশ্চিত করে সরকারের সুশাসনের দৃঢ়বার্তা। একই সাথে সাম্প্রতিক বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের বিভিন্ন ধরনের বিনির্মাণ চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মাত্র ১৯ দিনে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় এবং ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলার রায় সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিতের নতুন নজির স্থাপিত হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনানির পর মা

তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিগত দিনের ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে পুনরুদ্ধারে ম্যান্ডেট পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব হাতে নিয়ে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মাঝেই তিনি মানুষের আস্থার চূড়ায় অবস্থান করছেন। দুই বছর আগে আজকের এই সময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছিল। ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী গুলি করে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ঢাকায় ফারহানাসহ অসংখ্য নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগে সে আন্দোলন পরিণত হয়েছিল।’

মাহদী আমিন বলেন, সকল শ্রেণির, সকল পেশা, সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের এক গণঅভুত্থানে যার প্রবল জনরোষে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে, সেই পথ পরিক্রমায় গণআকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে গণঅভ্যুত্থানে এবং গত ১৬ বছরে সবচাইতে বেশি গুম, খুন, হামলা, মামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার দল বাংলাদেশ জাতীয় দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার। আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সকল শহীদকে এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস-সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস-সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস-সচিব কে এম নাজমুল হক, গাজী শাহরিয়ার পামির, আশরোফা ইমদাদ উপস্থিত ছিলেন।

/এসবি/