শিরোনাম

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রাজধানীর পল্টন থানার মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ ১১টি মামলার সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এই ১১টি মামলার মধ্যে মানবপাচারের মামলাটি ডিবি তদন্ত করছে। সেই মামলায় তিনি ডিবির হেফাজতে আছেন।

এর আগে সোমবার গভীর রাতের এক অভিযানে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন ‘এক-এগারোর’ পট পরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন।

২০০৬ সালের শেষ ভাগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর রাজনৈতিক মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। আন্দোলনরত দলগুলো জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়।

এ অবস্থায় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেন। বাতিল করা হয় ২২ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন।

আলোচিত সেই ঘটনাপ্রবাহের শুরুর দিনটি পরিচিতি পায় ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে। বলা হয়, জরুরি অবস্থা জারি এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামরিক কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পরে চার তারকা জেনারেল) মইন উ আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে মাসুদ উদ্দিন কার্যত সেই প্রভাবশালী কমিটি (গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি) পরিচালনা করতেন।

এসময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষ কয়েকজন ব্যবসায়ীকেও আটক করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও গ্রেপ্তার করে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়।

সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে পাল্টে ফেলে রাজনীতিকে নতুন চেহারা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওই সময়ই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ‘নাগরিক পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া ‍শুরু হয়। দীর্ঘ কয়েক মাসের তৎপরতায় নাগরিক সমাজের একটি অংশের সমর্থন পেলেও ড. ইউনূস শেষ পর্যন্ত সেই রাজনৈতিক উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়ান।

২০০৮ সালের ২ জুন মাসুদকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে নিযুক্ত করা হয়। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। ২০০৮ সালের ৮ জুন তাকে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিযুক্ত করে তৎকালীন সরকার। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে।

১৯৭৫ সালে রক্ষী বাহিনী গঠিত হলে সেই বাহিনীতে ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পরে তাদের সেনাবাহিনীতে আত্মীকরণ করা হয়।

সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর ২০১৮ সালে তিনি এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির মনোনয়নে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

/এফসি/