‘হ্যাঁ’ জয়লাভে চার মূলনীতিসহ যেসব পরিবর্তন হবে সংবিধানে

‘হ্যাঁ’ জয়লাভে চার মূলনীতিসহ যেসব পরিবর্তন হবে সংবিধানে

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়েছে। এ জয়ের ফলে আগামী সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন সংস্কার, উচ্চকক্ষসহ বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়ন করবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ সংসদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত চতুর্থ গণভোটে অংশ নিয়েছেন ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬ জন। অর্থাৎ, ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন (৬৮.০৬%)। আর সংস্কার বাস্তবায়নে অসম্মতি জানিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন (৩১.৯৪%)।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পাওয়ায় এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচিত সংসদের সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। তারা ১৮০ দিন বা ছয় মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কারের পদক্ষেপ নেবেন।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। নিচে এগুলো আলোচনা করা হলো–
ভাষা, জাতি ও মৌলিক সংস্কার
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের নাগরিকরা এতদিন বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর পরিচয় হবে বাংলাদেশি।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, প্রয়োজন নেই গণভোটেরও। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংবিধানের প্রস্তাবনা– ৮, ৪৮, ৫৬ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট লাগবে।
বর্তমান সংবিধানে ৭ এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান ছিল। জুলাই সনদে সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ– বর্তমান সংবিধানের এই চারটি মূলনীতি। তবে গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের মূলনীতি হবে– সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি।
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে সেই অনুচ্ছেদে যুক্ত হবে– সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবে জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে– নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী: ক্ষমতা ও ভারসাম্য
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি হয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। এর ফলে মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। সনদে নতুন যে প্রস্তাবনা আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে– জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধী দলীয় নেতা/উপনেতাও উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে, জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্মকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি তার নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্মকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে।
আগে সরকারের অনুমোদনে যে কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে– শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার শপথ নিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ছিল না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– এক ব্যক্তি এক জীবনে ১০ বছরের বেশি অর্থাৎ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
অন্যদিকে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারেন। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।

সংসদ, নির্বাচন ও সরকার ব্যবস্থা
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধীদল, দ্বিতীয় বিরোধীদলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষ বিশিষ্ট থাকলেও এবার জুলাই সনদে সেটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করা হবে। এক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারেই উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে।
দেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে নারীদের সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এটি বাড়ানোর কোনো কথা বলা নেই বিদ্যমান সংবিধানে। সেটি ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে জুলাই সনদে।
সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। জুলাই সনদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে।
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। তবে, জুলাই সনদে বলা হয়েছে– বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
এতদিন বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে তা অনুমোদন করতে হবে।
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে এতদিন নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকলেও গণভোটে জুলাই সনদ পাস হওয়ায় একক কর্তৃত্ব হারাবে ইসি। এখন ইসির সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই দায়িত্ব পালন করবে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে– স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

আইন ও বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তন
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বলা আছে– রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। তবে, জুলাই সনদের এই অংশে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে আপিল বিভাগ থেকে।
আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করার কথা আছে বিদ্যমান সংবিধানে। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। আগে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেও থাকলেও জুলাই সনদে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টে ন্যস্ত করার মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে জুলাই সনদে।
এর আগে সংবিধানে থাকলেও কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে– স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ন্যায়পাল নিয়োগ হবে।
একইভাবে সরকারি কর্মকমিশন নিয়োগ, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ বিরোধী দলের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।
সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা বিদ্যমান আইনে না থাকলেও জুলাই সনদে তা যুক্ত করা হয়েছে।
আইন সংশোধনে সংস্কার হবে ৩৭টি
৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরে জুলাই সনদের আরও ৩৭টি সংস্কার প্রস্তাব সংশোধন করা যাবে আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণ করা হবে।
আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য যেসব বিষয় রাখা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে– সীমানা পুনর্নির্ধারণে আইন প্রণয়ন, বিচারকদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সাবেক বিচারপতিদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন, বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি। আরও রয়েছে– জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর, বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণ, আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটালাইজ করা ও আইনজীবীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয়।
এছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) এবং সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন করার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।
জুলাই সনদ অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করা হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়েছে। এ জয়ের ফলে আগামী সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন সংস্কার, উচ্চকক্ষসহ বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়ন করবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ সংসদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত চতুর্থ গণভোটে অংশ নিয়েছেন ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬ জন। অর্থাৎ, ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন (৬৮.০৬%)। আর সংস্কার বাস্তবায়নে অসম্মতি জানিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন (৩১.৯৪%)।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পাওয়ায় এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচিত সংসদের সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। তারা ১৮০ দিন বা ছয় মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কারের পদক্ষেপ নেবেন।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। নিচে এগুলো আলোচনা করা হলো–
ভাষা, জাতি ও মৌলিক সংস্কার
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের নাগরিকরা এতদিন বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর পরিচয় হবে বাংলাদেশি।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, প্রয়োজন নেই গণভোটেরও। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংবিধানের প্রস্তাবনা– ৮, ৪৮, ৫৬ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট লাগবে।
বর্তমান সংবিধানে ৭ এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান ছিল। জুলাই সনদে সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ– বর্তমান সংবিধানের এই চারটি মূলনীতি। তবে গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের মূলনীতি হবে– সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি।
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে সেই অনুচ্ছেদে যুক্ত হবে– সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবে জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে– নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী: ক্ষমতা ও ভারসাম্য
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি হয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। এর ফলে মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। সনদে নতুন যে প্রস্তাবনা আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে– জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধী দলীয় নেতা/উপনেতাও উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে, জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্মকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি তার নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্মকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে।
আগে সরকারের অনুমোদনে যে কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে– শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার শপথ নিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ছিল না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– এক ব্যক্তি এক জীবনে ১০ বছরের বেশি অর্থাৎ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
অন্যদিকে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারেন। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।

সংসদ, নির্বাচন ও সরকার ব্যবস্থা
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধীদল, দ্বিতীয় বিরোধীদলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষ বিশিষ্ট থাকলেও এবার জুলাই সনদে সেটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করা হবে। এক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারেই উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে।
দেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে নারীদের সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এটি বাড়ানোর কোনো কথা বলা নেই বিদ্যমান সংবিধানে। সেটি ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে জুলাই সনদে।
সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। জুলাই সনদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে।
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। তবে, জুলাই সনদে বলা হয়েছে– বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
এতদিন বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে তা অনুমোদন করতে হবে।
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে এতদিন নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকলেও গণভোটে জুলাই সনদ পাস হওয়ায় একক কর্তৃত্ব হারাবে ইসি। এখন ইসির সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই দায়িত্ব পালন করবে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে– স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

আইন ও বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তন
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বলা আছে– রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। তবে, জুলাই সনদের এই অংশে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে আপিল বিভাগ থেকে।
আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করার কথা আছে বিদ্যমান সংবিধানে। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। আগে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেও থাকলেও জুলাই সনদে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টে ন্যস্ত করার মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে জুলাই সনদে।
এর আগে সংবিধানে থাকলেও কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে– স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ন্যায়পাল নিয়োগ হবে।
একইভাবে সরকারি কর্মকমিশন নিয়োগ, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ বিরোধী দলের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।
সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা বিদ্যমান আইনে না থাকলেও জুলাই সনদে তা যুক্ত করা হয়েছে।
আইন সংশোধনে সংস্কার হবে ৩৭টি
৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরে জুলাই সনদের আরও ৩৭টি সংস্কার প্রস্তাব সংশোধন করা যাবে আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণ করা হবে।
আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য যেসব বিষয় রাখা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে– সীমানা পুনর্নির্ধারণে আইন প্রণয়ন, বিচারকদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সাবেক বিচারপতিদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন, বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি। আরও রয়েছে– জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর, বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণ, আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটালাইজ করা ও আইনজীবীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয়।
এছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) এবং সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন করার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।
জুলাই সনদ অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করা হবে।

‘হ্যাঁ’ জয়লাভে চার মূলনীতিসহ যেসব পরিবর্তন হবে সংবিধানে

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়েছে। এ জয়ের ফলে আগামী সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন সংস্কার, উচ্চকক্ষসহ বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়ন করবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ সংসদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত চতুর্থ গণভোটে অংশ নিয়েছেন ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬ জন। অর্থাৎ, ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন (৬৮.০৬%)। আর সংস্কার বাস্তবায়নে অসম্মতি জানিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন (৩১.৯৪%)।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পাওয়ায় এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচিত সংসদের সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। তারা ১৮০ দিন বা ছয় মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কারের পদক্ষেপ নেবেন।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। নিচে এগুলো আলোচনা করা হলো–
ভাষা, জাতি ও মৌলিক সংস্কার
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের নাগরিকরা এতদিন বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর পরিচয় হবে বাংলাদেশি।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, প্রয়োজন নেই গণভোটেরও। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংবিধানের প্রস্তাবনা– ৮, ৪৮, ৫৬ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট লাগবে।
বর্তমান সংবিধানে ৭ এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান ছিল। জুলাই সনদে সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ– বর্তমান সংবিধানের এই চারটি মূলনীতি। তবে গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের মূলনীতি হবে– সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি।
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে সেই অনুচ্ছেদে যুক্ত হবে– সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবে জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে– নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী: ক্ষমতা ও ভারসাম্য
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি হয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। এর ফলে মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। সনদে নতুন যে প্রস্তাবনা আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে– জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধী দলীয় নেতা/উপনেতাও উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে, জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্মকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি তার নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্মকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে।
আগে সরকারের অনুমোদনে যে কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে– শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার শপথ নিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ছিল না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– এক ব্যক্তি এক জীবনে ১০ বছরের বেশি অর্থাৎ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
অন্যদিকে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারেন। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।

সংসদ, নির্বাচন ও সরকার ব্যবস্থা
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধীদল, দ্বিতীয় বিরোধীদলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষ বিশিষ্ট থাকলেও এবার জুলাই সনদে সেটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করা হবে। এক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারেই উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে।
দেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে নারীদের সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এটি বাড়ানোর কোনো কথা বলা নেই বিদ্যমান সংবিধানে। সেটি ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে জুলাই সনদে।
সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। জুলাই সনদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে।
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। তবে, জুলাই সনদে বলা হয়েছে– বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
এতদিন বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে তা অনুমোদন করতে হবে।
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে এতদিন নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকলেও গণভোটে জুলাই সনদ পাস হওয়ায় একক কর্তৃত্ব হারাবে ইসি। এখন ইসির সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই দায়িত্ব পালন করবে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে– স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

আইন ও বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তন
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বলা আছে– রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। তবে, জুলাই সনদের এই অংশে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে আপিল বিভাগ থেকে।
আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করার কথা আছে বিদ্যমান সংবিধানে। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে– প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। আগে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেও থাকলেও জুলাই সনদে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টে ন্যস্ত করার মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে জুলাই সনদে।
এর আগে সংবিধানে থাকলেও কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে– স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ন্যায়পাল নিয়োগ হবে।
একইভাবে সরকারি কর্মকমিশন নিয়োগ, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ বিরোধী দলের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।
সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা বিদ্যমান আইনে না থাকলেও জুলাই সনদে তা যুক্ত করা হয়েছে।
আইন সংশোধনে সংস্কার হবে ৩৭টি
৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরে জুলাই সনদের আরও ৩৭টি সংস্কার প্রস্তাব সংশোধন করা যাবে আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণ করা হবে।
আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য যেসব বিষয় রাখা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে– সীমানা পুনর্নির্ধারণে আইন প্রণয়ন, বিচারকদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সাবেক বিচারপতিদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন, বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি। আরও রয়েছে– জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর, বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণ, আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটালাইজ করা ও আইনজীবীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয়।
এছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) এবং সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন করার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।
জুলাই সনদ অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করা হবে।




