শিরোনাম

প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গত কয়েক মাস ধরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেই চলেছে। সম্প্রতি রংপুরের একটি বাসায় শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের পুলিশ হেডকোয়ার্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত এই তিন মাসেই সারাদেশে ৯৩৪টি খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৩০০-এর বেশি খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সেই হিসাবে দৈনিক খুনের ঘটনা ঘটেছে ১০টিরও বেশি।

বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, চুরি ডাকাতির পরিমাণ আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও খুন বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

সাত মাসে ২০৭৬টি মামলা

প্রতি মাসে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় মামলা নিয়ে মাসিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বছরের প্রথম ৭ মাসে খুন বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২০৭৬টি। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চ মাসে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মে মাসে ৩১০, জুন মাসে ৩২৬ এবং জুলাই মাসে ২৯৮টি।

অপরাধ বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, দেশে বৈধ এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতাসহ নানা কারণে খুন ও অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, এখন অনেকের হাতে হাতে অস্ত্র চলে গেছে। অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান বাড়ছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, পারিবারিক বিবাদ কিংবা ক্ষমতার আধিপত্যের কারণে খুন ও সহিংসতা বাড়ছে।

শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে। বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তবে, পুলিশ ও বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের চেয়ে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রথম ৬ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয় বিএনপি সরকার। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে সারা দেশে খুনের ঘটনায় ১ হাজার ৭৮৯টি মামলা হয়েছে। আগের ছয় মাসে হয়েছিল ১ হাজার ৭৮০টি। সেই হিসাবে খুনের মামলা বেড়েছে ৯টি।

রাজনৈতিক সংঘাত

বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে যতগুলো কারণ রয়েছে তার মধ্যে রাজনৈতিক কারণ অন্যতম। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি, জামায়াত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী কিংবা এনসিপির মধ্যে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত জুলাই মাস পর্যন্ত সারাদেশে ৪০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ২ হাজার ৯৭৪ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সহিংসতায় ৪ জন, জামায়াত বিএনপির সহিংসতায় ৯ জন আর বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হয়েছে ১৬ জন। ওই ৭৭ জনের মধ্যে দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্ট বলছে, চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে মব সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১৩৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে ঢাকায় ৫০ জন। আর চট্টগ্রামে নিহত হয়েছে ৩১ জন।

অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর আগের মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অনেকেই ভীতি নিয়ে কাজ করছে। এই সুযোগে খুন, সহিংসতা ও নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড বাড়ছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

/এফসি/