আগামী নির্বাচনে সাধারণ আসনে নারীদের ১০% বরাদ্দের পরিকল্পনা: ডা. জাহিদ

আগামী নির্বাচনে সাধারণ আসনে নারীদের ১০% বরাদ্দের পরিকল্পনা: ডা. জাহিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে আসা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০৩১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নারীদের জন্য সাধারণ আসনে ১০ শতাংশ আসন বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর ওম্যান অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ (সিডব্লিউসিএস) আয়োজিত ‘অ্যাডভোকেসি ফর চেইঞ্জ ইন উইমেন্স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই নারীর ক্ষমতায়ন শুরু হয়েছিল। এবার নির্বাচনে অন্য কোনো দল নারীদের সেভাবে মনোনয়ন না দিলেও, বিএনপি ৫ থেকে ৭ শতাংশ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন নারীদের। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জাগরণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ২০৩১ সালের নির্বাচনে নিজ দল (বিএনপি) থেকে ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই নারী ক্ষমতায়নের কথা বলা হলেও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এর বাস্তবায়ন কিছুটা কম ছিল। এর পেছনে রাজনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি আমাদের কালচারাল হেরিটেজ বা মনস্তাত্ত্বিক কিছু বিষয়ও জড়িত রয়েছে। যা যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে চলে আসছে। তবে গত চার-পাঁচ দশকে নারীর অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষায় এবং বিভিন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় অনেক এগিয়ে গেছে।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সমাজে তাদের কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ধাপে ধাপে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধ এবং বাল্যবিয়ে বন্ধে সামাজিক জনসচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সরকার সমাজের অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষদের সামনের সারিতে নিয়ে আসতে ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যার প্রধান লক্ষ্য হলো পরিবারগুলোর প্রধান নারী সদস্যকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কেয়ার ইকোনমি এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য কেয়ারগিভার তৈরি এবং তাদের ভাষাসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে। একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
ঢাকা ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাজ ফারহানার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিডব্লিউসিএসর সভাপতি অধ্যাপক ইসরাত শামীম।
প্রবন্ধে বলা হয়, অগ্রগতি সত্ত্বেও নারীরা এখনো অর্থায়ন, উৎপাদনশীল সম্পদ, ডিজিটাল সুযোগ, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং নেতৃত্বে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নারীরা কিছুটা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নিজেদের জীবনের ওপর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত রয়েছে।
জেলা পর্যায়ের পরামর্শমূলক কর্মশালাগুলো থেকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য কিছু বাস্তবভিত্তিক কৌশলও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে– আয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তি বৃদ্ধি, দক্ষতা-জ্ঞান ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং স্থায়ী পরিবর্তনের লক্ষ্যে ছোট ছোট পদক্ষেপ গ্রহণ। বিদ্যমান দক্ষতাকে স্থানীয় বাজারের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর, সঞ্চয় ও যৌথ উদ্যোগ, পারস্পরিক শেখা এবং বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ তৈরির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে আসা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০৩১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নারীদের জন্য সাধারণ আসনে ১০ শতাংশ আসন বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর ওম্যান অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ (সিডব্লিউসিএস) আয়োজিত ‘অ্যাডভোকেসি ফর চেইঞ্জ ইন উইমেন্স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই নারীর ক্ষমতায়ন শুরু হয়েছিল। এবার নির্বাচনে অন্য কোনো দল নারীদের সেভাবে মনোনয়ন না দিলেও, বিএনপি ৫ থেকে ৭ শতাংশ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন নারীদের। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জাগরণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ২০৩১ সালের নির্বাচনে নিজ দল (বিএনপি) থেকে ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই নারী ক্ষমতায়নের কথা বলা হলেও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এর বাস্তবায়ন কিছুটা কম ছিল। এর পেছনে রাজনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি আমাদের কালচারাল হেরিটেজ বা মনস্তাত্ত্বিক কিছু বিষয়ও জড়িত রয়েছে। যা যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে চলে আসছে। তবে গত চার-পাঁচ দশকে নারীর অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষায় এবং বিভিন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় অনেক এগিয়ে গেছে।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সমাজে তাদের কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ধাপে ধাপে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধ এবং বাল্যবিয়ে বন্ধে সামাজিক জনসচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সরকার সমাজের অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষদের সামনের সারিতে নিয়ে আসতে ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যার প্রধান লক্ষ্য হলো পরিবারগুলোর প্রধান নারী সদস্যকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কেয়ার ইকোনমি এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য কেয়ারগিভার তৈরি এবং তাদের ভাষাসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে। একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
ঢাকা ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাজ ফারহানার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিডব্লিউসিএসর সভাপতি অধ্যাপক ইসরাত শামীম।
প্রবন্ধে বলা হয়, অগ্রগতি সত্ত্বেও নারীরা এখনো অর্থায়ন, উৎপাদনশীল সম্পদ, ডিজিটাল সুযোগ, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং নেতৃত্বে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নারীরা কিছুটা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নিজেদের জীবনের ওপর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত রয়েছে।
জেলা পর্যায়ের পরামর্শমূলক কর্মশালাগুলো থেকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য কিছু বাস্তবভিত্তিক কৌশলও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে– আয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তি বৃদ্ধি, দক্ষতা-জ্ঞান ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং স্থায়ী পরিবর্তনের লক্ষ্যে ছোট ছোট পদক্ষেপ গ্রহণ। বিদ্যমান দক্ষতাকে স্থানীয় বাজারের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর, সঞ্চয় ও যৌথ উদ্যোগ, পারস্পরিক শেখা এবং বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ তৈরির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগামী নির্বাচনে সাধারণ আসনে নারীদের ১০% বরাদ্দের পরিকল্পনা: ডা. জাহিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে আসা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০৩১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নারীদের জন্য সাধারণ আসনে ১০ শতাংশ আসন বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর ওম্যান অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ (সিডব্লিউসিএস) আয়োজিত ‘অ্যাডভোকেসি ফর চেইঞ্জ ইন উইমেন্স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই নারীর ক্ষমতায়ন শুরু হয়েছিল। এবার নির্বাচনে অন্য কোনো দল নারীদের সেভাবে মনোনয়ন না দিলেও, বিএনপি ৫ থেকে ৭ শতাংশ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন নারীদের। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জাগরণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ২০৩১ সালের নির্বাচনে নিজ দল (বিএনপি) থেকে ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই নারী ক্ষমতায়নের কথা বলা হলেও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এর বাস্তবায়ন কিছুটা কম ছিল। এর পেছনে রাজনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি আমাদের কালচারাল হেরিটেজ বা মনস্তাত্ত্বিক কিছু বিষয়ও জড়িত রয়েছে। যা যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে চলে আসছে। তবে গত চার-পাঁচ দশকে নারীর অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষায় এবং বিভিন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় অনেক এগিয়ে গেছে।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সমাজে তাদের কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ধাপে ধাপে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধ এবং বাল্যবিয়ে বন্ধে সামাজিক জনসচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সরকার সমাজের অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষদের সামনের সারিতে নিয়ে আসতে ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যার প্রধান লক্ষ্য হলো পরিবারগুলোর প্রধান নারী সদস্যকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কেয়ার ইকোনমি এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য কেয়ারগিভার তৈরি এবং তাদের ভাষাসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে। একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
ঢাকা ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাজ ফারহানার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিডব্লিউসিএসর সভাপতি অধ্যাপক ইসরাত শামীম।
প্রবন্ধে বলা হয়, অগ্রগতি সত্ত্বেও নারীরা এখনো অর্থায়ন, উৎপাদনশীল সম্পদ, ডিজিটাল সুযোগ, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং নেতৃত্বে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নারীরা কিছুটা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নিজেদের জীবনের ওপর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত রয়েছে।
জেলা পর্যায়ের পরামর্শমূলক কর্মশালাগুলো থেকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য কিছু বাস্তবভিত্তিক কৌশলও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে– আয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তি বৃদ্ধি, দক্ষতা-জ্ঞান ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং স্থায়ী পরিবর্তনের লক্ষ্যে ছোট ছোট পদক্ষেপ গ্রহণ। বিদ্যমান দক্ষতাকে স্থানীয় বাজারের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর, সঞ্চয় ও যৌথ উদ্যোগ, পারস্পরিক শেখা এবং বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ তৈরির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’






