দেশের ৫৫ শতাংশের বেশি নদী-খাল কার্যকারিতা হারিয়েছে: ডিসিসিআই

দেশের ৫৫ শতাংশের বেশি নদী-খাল কার্যকারিতা হারিয়েছে: ডিসিসিআই
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের ১৪১৫টির বেশি নদীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপরিকল্পিত দখল এবং পলি জমার কারণে এই নদী ও খালগুলোর ৫৫ শতাংশেরও বেশি আজ কার্যকারিতা হারিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বাংলাদেশের বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ডিসিসিআই। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডিসিসিসআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, নদী পথের পিছিয়ে পড়ার কারণে দেশের ৭৭ শতাংশ পণ্য পরিবহন সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরো প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আর সড়ক পথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ৫৫-৬০% কম এবং এটি ৪-৬ গুণ জ্বালানি সাশ্রয় করে থাকে, ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
তাসকীন আহমেদ বলেন, রাজধানীর চারপাশের ৪টি নদীর ১১২ কিলোমিটার নৌপথকে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আদলে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই, যার মাধ্যমে যানজট নিরসন ও নদীভিত্তিক পর্যটন গড়ে তুলতে সম্ভব হবে।
এ সময় নদীভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা কাজে লাগাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো এবং এ খাতের বিনিয়োগে বেসরকারি খাতকে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বার সভাপতি। একই সঙ্গে নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং নাব্যতা বাড়াতে ড্রেজিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়াতে কার্যকর সাপ্লাইচেইন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার বাস্তবায়ন এবং নদীর সংলগ্ন এলাকায় অ্যাগ্রোভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার উপর জোরারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, রাজধানীর ঢাকার চারপাশের খালগুলো প্রাত্যহিক জীবনের রক্তনালির মতো। যদিও দখল ও দূষণেল ফলে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, তবে বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির সুফল পেতে সারা দেশের খালগুলোর মধ্যকার আন্ত:সংযুক্ত একান্ত অপরিহার্য।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পের বর্জ্য যেন নদীতে না পড়ে সেদিকে সবাইকেই সজাগ থাকতে হবে এবং বিশেষকরে ছোট শিল্প-কারখানায় যেন স্বল্প খরচে ইটিপি স্থাপন করা যায় সে বিষয়ে প্রযুক্তি সহায়তার প্রদানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সেমিনারের নির্ধারিত আলোচনায় পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ হোসেন, সেন্টার ফর ইনভাইরনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন সরকার, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সিনিয়র স্পেশালিস্ট মো. তানিম সারওয়ার, আল্টাফুয়েল ড্রেজিং অ্যান্ড মেরিন সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শওকত ইকবাল এবং ভিত্তি স্থপতি বৃন্দ লিমিটেডের ফাউন্ডার পার্টার স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নদীতে পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করে নীচু কালভার্ট বা সেতু নির্মাণ বন্ধ করতে হবে এবং খাল খননের ক্ষেত্রে পানির প্রবাহ কোন দিকে যাচ্ছে সেটা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, সরকারের প্রায় ১৫টি সংস্থা নদীর সাথে জড়িত থাকলেও এককভাবে কেউ দায়িত্ব নিচ্ছেনা, এমতাবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতায়, দায়বদ্ধতার পাশাপাশি একটি একক অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠান নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের ১৪১৫টির বেশি নদীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপরিকল্পিত দখল এবং পলি জমার কারণে এই নদী ও খালগুলোর ৫৫ শতাংশেরও বেশি আজ কার্যকারিতা হারিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বাংলাদেশের বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ডিসিসিআই। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডিসিসিসআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, নদী পথের পিছিয়ে পড়ার কারণে দেশের ৭৭ শতাংশ পণ্য পরিবহন সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরো প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আর সড়ক পথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ৫৫-৬০% কম এবং এটি ৪-৬ গুণ জ্বালানি সাশ্রয় করে থাকে, ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
তাসকীন আহমেদ বলেন, রাজধানীর চারপাশের ৪টি নদীর ১১২ কিলোমিটার নৌপথকে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আদলে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই, যার মাধ্যমে যানজট নিরসন ও নদীভিত্তিক পর্যটন গড়ে তুলতে সম্ভব হবে।
এ সময় নদীভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা কাজে লাগাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো এবং এ খাতের বিনিয়োগে বেসরকারি খাতকে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বার সভাপতি। একই সঙ্গে নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং নাব্যতা বাড়াতে ড্রেজিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়াতে কার্যকর সাপ্লাইচেইন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার বাস্তবায়ন এবং নদীর সংলগ্ন এলাকায় অ্যাগ্রোভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার উপর জোরারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, রাজধানীর ঢাকার চারপাশের খালগুলো প্রাত্যহিক জীবনের রক্তনালির মতো। যদিও দখল ও দূষণেল ফলে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, তবে বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির সুফল পেতে সারা দেশের খালগুলোর মধ্যকার আন্ত:সংযুক্ত একান্ত অপরিহার্য।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পের বর্জ্য যেন নদীতে না পড়ে সেদিকে সবাইকেই সজাগ থাকতে হবে এবং বিশেষকরে ছোট শিল্প-কারখানায় যেন স্বল্প খরচে ইটিপি স্থাপন করা যায় সে বিষয়ে প্রযুক্তি সহায়তার প্রদানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সেমিনারের নির্ধারিত আলোচনায় পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ হোসেন, সেন্টার ফর ইনভাইরনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন সরকার, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সিনিয়র স্পেশালিস্ট মো. তানিম সারওয়ার, আল্টাফুয়েল ড্রেজিং অ্যান্ড মেরিন সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শওকত ইকবাল এবং ভিত্তি স্থপতি বৃন্দ লিমিটেডের ফাউন্ডার পার্টার স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নদীতে পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করে নীচু কালভার্ট বা সেতু নির্মাণ বন্ধ করতে হবে এবং খাল খননের ক্ষেত্রে পানির প্রবাহ কোন দিকে যাচ্ছে সেটা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, সরকারের প্রায় ১৫টি সংস্থা নদীর সাথে জড়িত থাকলেও এককভাবে কেউ দায়িত্ব নিচ্ছেনা, এমতাবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতায়, দায়বদ্ধতার পাশাপাশি একটি একক অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠান নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।

দেশের ৫৫ শতাংশের বেশি নদী-খাল কার্যকারিতা হারিয়েছে: ডিসিসিআই
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের ১৪১৫টির বেশি নদীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপরিকল্পিত দখল এবং পলি জমার কারণে এই নদী ও খালগুলোর ৫৫ শতাংশেরও বেশি আজ কার্যকারিতা হারিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বাংলাদেশের বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ডিসিসিআই। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডিসিসিসআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, নদী পথের পিছিয়ে পড়ার কারণে দেশের ৭৭ শতাংশ পণ্য পরিবহন সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরো প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আর সড়ক পথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় ৫৫-৬০% কম এবং এটি ৪-৬ গুণ জ্বালানি সাশ্রয় করে থাকে, ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
তাসকীন আহমেদ বলেন, রাজধানীর চারপাশের ৪টি নদীর ১১২ কিলোমিটার নৌপথকে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আদলে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই, যার মাধ্যমে যানজট নিরসন ও নদীভিত্তিক পর্যটন গড়ে তুলতে সম্ভব হবে।
এ সময় নদীভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা কাজে লাগাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো এবং এ খাতের বিনিয়োগে বেসরকারি খাতকে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বার সভাপতি। একই সঙ্গে নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং নাব্যতা বাড়াতে ড্রেজিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়াতে কার্যকর সাপ্লাইচেইন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার বাস্তবায়ন এবং নদীর সংলগ্ন এলাকায় অ্যাগ্রোভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার উপর জোরারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, রাজধানীর ঢাকার চারপাশের খালগুলো প্রাত্যহিক জীবনের রক্তনালির মতো। যদিও দখল ও দূষণেল ফলে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, তবে বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির সুফল পেতে সারা দেশের খালগুলোর মধ্যকার আন্ত:সংযুক্ত একান্ত অপরিহার্য।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পের বর্জ্য যেন নদীতে না পড়ে সেদিকে সবাইকেই সজাগ থাকতে হবে এবং বিশেষকরে ছোট শিল্প-কারখানায় যেন স্বল্প খরচে ইটিপি স্থাপন করা যায় সে বিষয়ে প্রযুক্তি সহায়তার প্রদানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সেমিনারের নির্ধারিত আলোচনায় পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ হোসেন, সেন্টার ফর ইনভাইরনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন সরকার, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সিনিয়র স্পেশালিস্ট মো. তানিম সারওয়ার, আল্টাফুয়েল ড্রেজিং অ্যান্ড মেরিন সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন শওকত ইকবাল এবং ভিত্তি স্থপতি বৃন্দ লিমিটেডের ফাউন্ডার পার্টার স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নদীতে পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করে নীচু কালভার্ট বা সেতু নির্মাণ বন্ধ করতে হবে এবং খাল খননের ক্ষেত্রে পানির প্রবাহ কোন দিকে যাচ্ছে সেটা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, সরকারের প্রায় ১৫টি সংস্থা নদীর সাথে জড়িত থাকলেও এককভাবে কেউ দায়িত্ব নিচ্ছেনা, এমতাবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতায়, দায়বদ্ধতার পাশাপাশি একটি একক অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠান নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।

গড়াই নদী খনন প্রকল্পে শতকোটি টাকার বালু গায়েব






