সম্পর্কে শীতলতা, আটকে আছে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন

সম্পর্কে শীতলতা, আটকে আছে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন
সিজেডএন ডেস্ক

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা যে প্রস্তাব দিয়েছে– তা এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সম্মতি দেয়নি ভারত। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য প্রিন্ট লিখেছে, বিভিন্ন দেশে নতুন হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়া বাংলাদেশ শুরু করেছিল গত জুলাই মাসে। এর অংশ হিসেবে দিল্লিতে সিয়ামকে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য এক মাসেরও বেশি সময় আগে ভারতের অনুমোদন চাওয়া হয়।
কোনো কূটনীতিককে হাইকমিশনার করে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি বা ‘অ্যাগ্রিমঁ’ প্রয়োজন হয়। ভারত এখনো সেই সম্মতি না দেওয়ায় সিয়ামের নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারছে না ঢাকা।
এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে ভারতের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি আটকে থাকছে।
কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাষ্ট্র অন্য দেশে মিশনপ্রধান হিসেবে যাকে দায়িত্ব দিতে চায়, তার জন্য স্বাগতিক রাষ্ট্রের সম্মতি নিতে হবে।
তবে কোনো রাষ্ট্র প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে গ্রহণ না করলে সেই সিদ্ধান্তের কারণ জানাতে স্বাগতিক রাষ্ট্র বাধ্য নয়। কূটনীতিক নিয়োগ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে যেন কোনো প্রকাশ্য কূটনৈতিক ঘটনা তৈরি না হয়, সেজন্য সাধারণত এই প্রক্রিয়া গোপন রাখা হয়।
আসাদ আলম সিয়াম বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের একজন। গত বছর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেয়। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রিন্ট লিখেছে, সিয়ামকে দিল্লিতে হাইকমিশনার করে পাঠানোর বিষয়টি আটকে থাকার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে।
গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়। গত সপ্তাহের শেষে নয়া দিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনেও যোগ দেননি তিনি। বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তাকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সম্মেলনে বাংলাদেশ কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। ভারতে বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহও সম্মেলনে অংশ নেননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক সচল রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে ঢাকায় দুইদিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠক হয়। আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলসহ রেল যোগাযোগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা করা হয়।
দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনের ভাষ্য, তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর গত ৭ মাসে দুই দেশ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ দল ও কারিগরি পর্যায়ের যোগাযোগও পুনরায় সক্রিয় করেছে। তবে রাজনৈতিক শীতলতা দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে।
হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানও প্রভাব ফেলছে
ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছে ভারত। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টিও এখনো ঝুলে আছে।
দ্য প্রিন্ট লিখেছে, রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠার পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলন ভূমিকা রেখেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এখনো তিনি দিল্লিতেই আশ্রয় নিয়ে আছেন। ঢাকা তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানালেও দিল্লি তাতে সাড়া দেয়নি।
সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল রাখতে বিভিন্নভাবে পথ খুঁজছে দিল্লি ও ঢাকা। এর অংশ হিসেবেই ভারত চলতি বছরের শুরুতে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার করে পাঠায়। জুনের শেষ দিকে তিনি দায়িত্ব নেন।
ভারত সরকার মন্ত্রীর মর্যাদায় তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নয়াদিল্লি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, এটি তারই প্রকাশ। কিন্তু তারেক রহমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছিল, গত এক মাসে তা আবারও থমকে গেছে।
নয়াদিল্লির প্রত্যাশা ছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের মধ্যে দিয়ে সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। কিন্তু দুই দেশ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেই কোনো না কোনো সমস্যা সামনে এসেছে।

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা যে প্রস্তাব দিয়েছে– তা এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সম্মতি দেয়নি ভারত। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য প্রিন্ট লিখেছে, বিভিন্ন দেশে নতুন হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়া বাংলাদেশ শুরু করেছিল গত জুলাই মাসে। এর অংশ হিসেবে দিল্লিতে সিয়ামকে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য এক মাসেরও বেশি সময় আগে ভারতের অনুমোদন চাওয়া হয়।
কোনো কূটনীতিককে হাইকমিশনার করে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি বা ‘অ্যাগ্রিমঁ’ প্রয়োজন হয়। ভারত এখনো সেই সম্মতি না দেওয়ায় সিয়ামের নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারছে না ঢাকা।
এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে ভারতের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি আটকে থাকছে।
কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাষ্ট্র অন্য দেশে মিশনপ্রধান হিসেবে যাকে দায়িত্ব দিতে চায়, তার জন্য স্বাগতিক রাষ্ট্রের সম্মতি নিতে হবে।
তবে কোনো রাষ্ট্র প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে গ্রহণ না করলে সেই সিদ্ধান্তের কারণ জানাতে স্বাগতিক রাষ্ট্র বাধ্য নয়। কূটনীতিক নিয়োগ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে যেন কোনো প্রকাশ্য কূটনৈতিক ঘটনা তৈরি না হয়, সেজন্য সাধারণত এই প্রক্রিয়া গোপন রাখা হয়।
আসাদ আলম সিয়াম বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের একজন। গত বছর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেয়। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রিন্ট লিখেছে, সিয়ামকে দিল্লিতে হাইকমিশনার করে পাঠানোর বিষয়টি আটকে থাকার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে।
গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়। গত সপ্তাহের শেষে নয়া দিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনেও যোগ দেননি তিনি। বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তাকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সম্মেলনে বাংলাদেশ কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। ভারতে বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহও সম্মেলনে অংশ নেননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক সচল রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে ঢাকায় দুইদিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠক হয়। আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলসহ রেল যোগাযোগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা করা হয়।
দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনের ভাষ্য, তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর গত ৭ মাসে দুই দেশ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ দল ও কারিগরি পর্যায়ের যোগাযোগও পুনরায় সক্রিয় করেছে। তবে রাজনৈতিক শীতলতা দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে।
হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানও প্রভাব ফেলছে
ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছে ভারত। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টিও এখনো ঝুলে আছে।
দ্য প্রিন্ট লিখেছে, রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠার পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলন ভূমিকা রেখেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এখনো তিনি দিল্লিতেই আশ্রয় নিয়ে আছেন। ঢাকা তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানালেও দিল্লি তাতে সাড়া দেয়নি।
সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল রাখতে বিভিন্নভাবে পথ খুঁজছে দিল্লি ও ঢাকা। এর অংশ হিসেবেই ভারত চলতি বছরের শুরুতে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার করে পাঠায়। জুনের শেষ দিকে তিনি দায়িত্ব নেন।
ভারত সরকার মন্ত্রীর মর্যাদায় তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নয়াদিল্লি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, এটি তারই প্রকাশ। কিন্তু তারেক রহমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছিল, গত এক মাসে তা আবারও থমকে গেছে।
নয়াদিল্লির প্রত্যাশা ছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের মধ্যে দিয়ে সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। কিন্তু দুই দেশ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেই কোনো না কোনো সমস্যা সামনে এসেছে।

সম্পর্কে শীতলতা, আটকে আছে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন
সিজেডএন ডেস্ক

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা যে প্রস্তাব দিয়েছে– তা এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সম্মতি দেয়নি ভারত। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য প্রিন্ট লিখেছে, বিভিন্ন দেশে নতুন হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়া বাংলাদেশ শুরু করেছিল গত জুলাই মাসে। এর অংশ হিসেবে দিল্লিতে সিয়ামকে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য এক মাসেরও বেশি সময় আগে ভারতের অনুমোদন চাওয়া হয়।
কোনো কূটনীতিককে হাইকমিশনার করে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি বা ‘অ্যাগ্রিমঁ’ প্রয়োজন হয়। ভারত এখনো সেই সম্মতি না দেওয়ায় সিয়ামের নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারছে না ঢাকা।
এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে ভারতের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি আটকে থাকছে।
কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাষ্ট্র অন্য দেশে মিশনপ্রধান হিসেবে যাকে দায়িত্ব দিতে চায়, তার জন্য স্বাগতিক রাষ্ট্রের সম্মতি নিতে হবে।
তবে কোনো রাষ্ট্র প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে গ্রহণ না করলে সেই সিদ্ধান্তের কারণ জানাতে স্বাগতিক রাষ্ট্র বাধ্য নয়। কূটনীতিক নিয়োগ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে যেন কোনো প্রকাশ্য কূটনৈতিক ঘটনা তৈরি না হয়, সেজন্য সাধারণত এই প্রক্রিয়া গোপন রাখা হয়।
আসাদ আলম সিয়াম বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের একজন। গত বছর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেয়। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রিন্ট লিখেছে, সিয়ামকে দিল্লিতে হাইকমিশনার করে পাঠানোর বিষয়টি আটকে থাকার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে।
গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়। গত সপ্তাহের শেষে নয়া দিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনেও যোগ দেননি তিনি। বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তাকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সম্মেলনে বাংলাদেশ কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। ভারতে বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহও সম্মেলনে অংশ নেননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক সচল রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে ঢাকায় দুইদিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠক হয়। আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলসহ রেল যোগাযোগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা করা হয়।
দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনের ভাষ্য, তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর গত ৭ মাসে দুই দেশ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ দল ও কারিগরি পর্যায়ের যোগাযোগও পুনরায় সক্রিয় করেছে। তবে রাজনৈতিক শীতলতা দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে।
হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানও প্রভাব ফেলছে
ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছে ভারত। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টিও এখনো ঝুলে আছে।
দ্য প্রিন্ট লিখেছে, রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠার পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলন ভূমিকা রেখেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এখনো তিনি দিল্লিতেই আশ্রয় নিয়ে আছেন। ঢাকা তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানালেও দিল্লি তাতে সাড়া দেয়নি।
সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল রাখতে বিভিন্নভাবে পথ খুঁজছে দিল্লি ও ঢাকা। এর অংশ হিসেবেই ভারত চলতি বছরের শুরুতে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার করে পাঠায়। জুনের শেষ দিকে তিনি দায়িত্ব নেন।
ভারত সরকার মন্ত্রীর মর্যাদায় তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নয়াদিল্লি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, এটি তারই প্রকাশ। কিন্তু তারেক রহমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছিল, গত এক মাসে তা আবারও থমকে গেছে।
নয়াদিল্লির প্রত্যাশা ছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের মধ্যে দিয়ে সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। কিন্তু দুই দেশ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেই কোনো না কোনো সমস্যা সামনে এসেছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী






