ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি-মৃত্যুর তথ্যে গরমিল

ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি-মৃত্যুর তথ্যে গরমিল
নিজস্ব প্রতিবেদক

হামের পর দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে ডেঙ্গু। পরিস্থিতির অবনতি হলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। একই সময়ের একই হাসপাতালের তথ্য দুই পক্ষ থেকে দুই রকম হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যের এমন অসংগতি রোগের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাকেও জটিল করে তুলতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৬১ জন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৬ জন। তবে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, একই সময়ে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪৭৩ জন এবং মারা গেছেন ৩৫ জন।
অর্থাৎ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাবের তুলনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮৮ জন বেশি। অন্যদিকে মৃত্যুর হিসাবে হাসপাতালের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চেয়ে নয়জন বেশি।
শুধু সামগ্রিক হিসাবেই নয়, প্রতিদিনের রোগী ভর্তির তথ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ঢামেক কর্তৃপক্ষের হিসাবে ১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৪১, ১৪১, ১৫৩, ১৭৫, ১৯৩, ১৮৫, ৯১, ১৭৩, ১৯৯, ২০৫, ২০৪, ২২৮, ২১১ ও ১৯১ জন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে ১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিনই ঢামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি দেখানো হয়েছে ৭২ জন করে। হাসপাতালের তথ্যের সঙ্গে এ সংখ্যার বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।
একই ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যেও। হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন যথাক্রমে ১৭৭, ১৮০, ১৮০, ১৭৯, ১৯২, ২০০ ও ১৯০ জন।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ওই সাত দিনে প্রথম পাঁচদিন মুগদা হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৫২ জন করে এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম দিনে ছিল ৪৯ জন করে।
নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যাতেও রয়েছে বড় পার্থক্য। মুগদা হাসপাতালের হিসাবে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন ভর্তি রোগী ছিলেন যথাক্রমে ৪৭, ৪১, ৫২, ৬৯, ৩৬, ৬৬ ও ৫৩ জন। বিপরীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে ওই সাত দিনে নতুন রোগী ভর্তি দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ৩৩, ২২, ২৭, ২৮, শূন্য, শূন্য ও ২৯ জন।
মিটফোর্ড হাসপাতালের তথ্যেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক খোরশেদ মিনহাজুল আলম জানিয়েছেন, ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে সেখানে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭৬, ৬০, ৬৯, ৬৩, ৫১, ৬৪ ও ৭৩ জন। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে দৈনিক গড়ে ৪০ জনেরও কম ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন।
এসব বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর গণমাধ্যম বলেন, এক-দুই দিনের তথ্যে ভুল হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে টানা ১২ দিন একটি বড় হাসপাতালের তথ্যের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে এত বড় গরমিলের বিষয়টি অস্বাভাবিক। প্রতিদিন একই সংখ্যক রোগী দেখানো হলে তথ্য প্রকাশে গাফিলতি কিংবা প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করার আশঙ্কা তৈরি হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ডেঙ্গু, হাম বা করোনার মতো স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সময় প্রকৃত তথ্য কম দেখালে সরকারের ভাবমূর্তি ভালো থাকবে– এমন ভুল ধারণা থেকে অনেক সময় তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখা যায়। তবে প্রকৃত তথ্য গোপন করলে গুজব ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের এই অমিলের কারণ পরিষ্কার করা জরুরি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস গণমাধ্যমকে, ডেঙ্গু বা জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত জরুরি। কোথাও ভুল বা অসংগতি থাকলে তা যাচাই করা হবে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হামের পর দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে ডেঙ্গু। পরিস্থিতির অবনতি হলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। একই সময়ের একই হাসপাতালের তথ্য দুই পক্ষ থেকে দুই রকম হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যের এমন অসংগতি রোগের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাকেও জটিল করে তুলতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৬১ জন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৬ জন। তবে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, একই সময়ে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪৭৩ জন এবং মারা গেছেন ৩৫ জন।
অর্থাৎ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাবের তুলনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮৮ জন বেশি। অন্যদিকে মৃত্যুর হিসাবে হাসপাতালের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চেয়ে নয়জন বেশি।
শুধু সামগ্রিক হিসাবেই নয়, প্রতিদিনের রোগী ভর্তির তথ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ঢামেক কর্তৃপক্ষের হিসাবে ১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৪১, ১৪১, ১৫৩, ১৭৫, ১৯৩, ১৮৫, ৯১, ১৭৩, ১৯৯, ২০৫, ২০৪, ২২৮, ২১১ ও ১৯১ জন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে ১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিনই ঢামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি দেখানো হয়েছে ৭২ জন করে। হাসপাতালের তথ্যের সঙ্গে এ সংখ্যার বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।
একই ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যেও। হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন যথাক্রমে ১৭৭, ১৮০, ১৮০, ১৭৯, ১৯২, ২০০ ও ১৯০ জন।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ওই সাত দিনে প্রথম পাঁচদিন মুগদা হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৫২ জন করে এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম দিনে ছিল ৪৯ জন করে।
নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যাতেও রয়েছে বড় পার্থক্য। মুগদা হাসপাতালের হিসাবে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন ভর্তি রোগী ছিলেন যথাক্রমে ৪৭, ৪১, ৫২, ৬৯, ৩৬, ৬৬ ও ৫৩ জন। বিপরীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে ওই সাত দিনে নতুন রোগী ভর্তি দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ৩৩, ২২, ২৭, ২৮, শূন্য, শূন্য ও ২৯ জন।
মিটফোর্ড হাসপাতালের তথ্যেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক খোরশেদ মিনহাজুল আলম জানিয়েছেন, ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে সেখানে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭৬, ৬০, ৬৯, ৬৩, ৫১, ৬৪ ও ৭৩ জন। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে দৈনিক গড়ে ৪০ জনেরও কম ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন।
এসব বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর গণমাধ্যম বলেন, এক-দুই দিনের তথ্যে ভুল হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে টানা ১২ দিন একটি বড় হাসপাতালের তথ্যের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে এত বড় গরমিলের বিষয়টি অস্বাভাবিক। প্রতিদিন একই সংখ্যক রোগী দেখানো হলে তথ্য প্রকাশে গাফিলতি কিংবা প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করার আশঙ্কা তৈরি হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ডেঙ্গু, হাম বা করোনার মতো স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সময় প্রকৃত তথ্য কম দেখালে সরকারের ভাবমূর্তি ভালো থাকবে– এমন ভুল ধারণা থেকে অনেক সময় তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখা যায়। তবে প্রকৃত তথ্য গোপন করলে গুজব ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের এই অমিলের কারণ পরিষ্কার করা জরুরি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস গণমাধ্যমকে, ডেঙ্গু বা জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত জরুরি। কোথাও ভুল বা অসংগতি থাকলে তা যাচাই করা হবে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি-মৃত্যুর তথ্যে গরমিল
নিজস্ব প্রতিবেদক

হামের পর দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে ডেঙ্গু। পরিস্থিতির অবনতি হলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। একই সময়ের একই হাসপাতালের তথ্য দুই পক্ষ থেকে দুই রকম হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্যের এমন অসংগতি রোগের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাকেও জটিল করে তুলতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৬১ জন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৬ জন। তবে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, একই সময়ে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪৭৩ জন এবং মারা গেছেন ৩৫ জন।
অর্থাৎ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাবের তুলনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮৮ জন বেশি। অন্যদিকে মৃত্যুর হিসাবে হাসপাতালের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চেয়ে নয়জন বেশি।
শুধু সামগ্রিক হিসাবেই নয়, প্রতিদিনের রোগী ভর্তির তথ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ঢামেক কর্তৃপক্ষের হিসাবে ১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৪১, ১৪১, ১৫৩, ১৭৫, ১৯৩, ১৮৫, ৯১, ১৭৩, ১৯৯, ২০৫, ২০৪, ২২৮, ২১১ ও ১৯১ জন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে ১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিনই ঢামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি দেখানো হয়েছে ৭২ জন করে। হাসপাতালের তথ্যের সঙ্গে এ সংখ্যার বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।
একই ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যেও। হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন যথাক্রমে ১৭৭, ১৮০, ১৮০, ১৭৯, ১৯২, ২০০ ও ১৯০ জন।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ওই সাত দিনে প্রথম পাঁচদিন মুগদা হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৫২ জন করে এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম দিনে ছিল ৪৯ জন করে।
নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যাতেও রয়েছে বড় পার্থক্য। মুগদা হাসপাতালের হিসাবে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন ভর্তি রোগী ছিলেন যথাক্রমে ৪৭, ৪১, ৫২, ৬৯, ৩৬, ৬৬ ও ৫৩ জন। বিপরীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে ওই সাত দিনে নতুন রোগী ভর্তি দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ৩৩, ২২, ২৭, ২৮, শূন্য, শূন্য ও ২৯ জন।
মিটফোর্ড হাসপাতালের তথ্যেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক খোরশেদ মিনহাজুল আলম জানিয়েছেন, ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে সেখানে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭৬, ৬০, ৬৯, ৬৩, ৫১, ৬৪ ও ৭৩ জন। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে দৈনিক গড়ে ৪০ জনেরও কম ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন।
এসব বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর গণমাধ্যম বলেন, এক-দুই দিনের তথ্যে ভুল হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে টানা ১২ দিন একটি বড় হাসপাতালের তথ্যের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে এত বড় গরমিলের বিষয়টি অস্বাভাবিক। প্রতিদিন একই সংখ্যক রোগী দেখানো হলে তথ্য প্রকাশে গাফিলতি কিংবা প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করার আশঙ্কা তৈরি হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ডেঙ্গু, হাম বা করোনার মতো স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সময় প্রকৃত তথ্য কম দেখালে সরকারের ভাবমূর্তি ভালো থাকবে– এমন ভুল ধারণা থেকে অনেক সময় তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখা যায়। তবে প্রকৃত তথ্য গোপন করলে গুজব ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের এই অমিলের কারণ পরিষ্কার করা জরুরি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস গণমাধ্যমকে, ডেঙ্গু বা জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত জরুরি। কোথাও ভুল বা অসংগতি থাকলে তা যাচাই করা হবে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৯৩ 






