শিরোনাম

নতুন সংসদ শুরু কাল, স্পিকার কে সিদ্ধান্ত আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন সংসদ শুরু কাল, স্পিকার কে সিদ্ধান্ত আজ
জাতীয় সংসদ ভবন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। তবে অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন এবং নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংসদের শীর্ষ দুটি পদে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে চায় দলটি। স্পিকার পদে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম বেশি আলোচিত।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। জামায়াত এই পদ গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আজ বিরোধী দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

কাল শুরু হবে নতুন সংসদ অধিবেশন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।

সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। আগামীকাল বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হবে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন।

সাধারণত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। তবে এ অধিবেশন কত দিন চলবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠনের পর কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়কাল ঠিক করা হবে।

প্রথম বৈঠকে কী হবে

নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে কিছু নির্ধারিত কার্যক্রম থাকে। এর মধ্যে প্রথম কাজ হচ্ছে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন।

সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আর বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

এ কারণে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো সংসদ সদস্য এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সভাপতির সূচনা বক্তব্যের পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পড়াবেন। এই সময় অধিবেশনে সাময়িক বিরতি থাকবে। পরে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম আবার শুরু হবে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও অধ্যাদেশ

সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে এবং অধিবেশনজুড়ে এ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে অনুমোদন না হলে সেগুলোর কার্যকারিতা থাকবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে পরে অনুমোদন দেওয়া হবে।

ডেপুটি স্পিকার পদে জামায়াতের অবস্থান

জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে এবং উভয় কক্ষে বিরোধী দল থেকে একজন করে ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করার প্রস্তাব আছে।

এই প্রেক্ষাপটে সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে বিএনপি। তবে জামায়াত এই পদ গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

জামায়াতের তিনজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ এবং সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিষয়ে দলের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে আজ বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ উভয় ক্ষেত্রেই বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার থাকার কথা। এখানে অনুগ্রহের কোনো বিষয় নেই। বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলে জামায়াতও তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।

/এসএ/