শিগগিরই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

শিগগিরই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
সিজেডএন ডেস্ক

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথ তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের ক্ষমতা মালয়েশিয়া সরকারের হাতে। ওই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকায় এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এককভাবে শর্ত পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত।
তবে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক আলোচনার ফলে মালয়েশিয়া বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়।
১০ হাজার কর্মী ‘জিরো কস্টে’
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিমানভাড়াসহ অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মী পাঠানো হবে।
প্রথম দফার কর্মীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদিত ২৫টি এজেন্সির পাশাপাশি আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।
ফলে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিতর্কিত এজেন্সি বাদ
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এদিকে ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তির মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ আরও ভালোভাবে নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে সরকার।
১৬ মেডিকেল সেন্টার দিয়ে শুরু
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর জন্য মেডিকেল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
এর ভিত্তিতে বিতর্কিত ও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অনুমোদিত তালিকার ১৬টি সেন্টারের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শ্রমবাজার চালুর পর মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলো পুনরায় যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা করবে।
নিরাপত্তা ও প্রতারণা ঠেকাতে নজরদারি
বাংলাদেশি কর্মীদের বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, সরাসরি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কাউকে টাকা না দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা না করা এবং পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল ও প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্যও সবাইকে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথ তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের ক্ষমতা মালয়েশিয়া সরকারের হাতে। ওই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকায় এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এককভাবে শর্ত পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত।
তবে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক আলোচনার ফলে মালয়েশিয়া বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়।
১০ হাজার কর্মী ‘জিরো কস্টে’
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিমানভাড়াসহ অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মী পাঠানো হবে।
প্রথম দফার কর্মীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদিত ২৫টি এজেন্সির পাশাপাশি আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।
ফলে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিতর্কিত এজেন্সি বাদ
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এদিকে ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তির মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ আরও ভালোভাবে নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে সরকার।
১৬ মেডিকেল সেন্টার দিয়ে শুরু
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর জন্য মেডিকেল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
এর ভিত্তিতে বিতর্কিত ও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অনুমোদিত তালিকার ১৬টি সেন্টারের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শ্রমবাজার চালুর পর মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলো পুনরায় যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা করবে।
নিরাপত্তা ও প্রতারণা ঠেকাতে নজরদারি
বাংলাদেশি কর্মীদের বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, সরাসরি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কাউকে টাকা না দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা না করা এবং পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল ও প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্যও সবাইকে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

শিগগিরই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
সিজেডএন ডেস্ক

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথ তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের ক্ষমতা মালয়েশিয়া সরকারের হাতে। ওই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকায় এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এককভাবে শর্ত পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত।
তবে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক আলোচনার ফলে মালয়েশিয়া বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়।
১০ হাজার কর্মী ‘জিরো কস্টে’
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিমানভাড়াসহ অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মী পাঠানো হবে।
প্রথম দফার কর্মীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদিত ২৫টি এজেন্সির পাশাপাশি আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।
ফলে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিতর্কিত এজেন্সি বাদ
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এদিকে ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তির মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ আরও ভালোভাবে নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে সরকার।
১৬ মেডিকেল সেন্টার দিয়ে শুরু
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর জন্য মেডিকেল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
এর ভিত্তিতে বিতর্কিত ও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অনুমোদিত তালিকার ১৬টি সেন্টারের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শ্রমবাজার চালুর পর মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলো পুনরায় যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা করবে।
নিরাপত্তা ও প্রতারণা ঠেকাতে নজরদারি
বাংলাদেশি কর্মীদের বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, সরাসরি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কাউকে টাকা না দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা না করা এবং পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল ও প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্যও সবাইকে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।









