শিরোনাম

বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে অপরাধ বাড়ছে: শাহরিয়ার কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে অপরাধ বাড়ছে: শাহরিয়ার কবির
গোলটেবিল বৈঠক

বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে অপরাধ বাড়ছে মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দুর্বল আইন প্রয়োগ এবং মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। সঠিক সময়ে অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের মধ্যে আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমছে।’

শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ হলে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (সিআইপিজি) আয়োজিত 'আইন-শৃঙ্খলা অবনতির বহুমাত্রিক কারণ ও টেকসই সমাধানের উপায়' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিসহ বহুমাত্রিক কারণ রয়েছে। এসবের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের আদালতগুলোতে লাখ লাখ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। অপরাধের দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা না গেলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। ত্রুটিপূর্ণ এজাহার, এফআইআর ও চার্জশিটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।’

পুলিশের দুর্নীতি, নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের সমালোচনা করে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও দণ্ডবিধিসহ পুরোনো আইন সংস্কার, তদন্ত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, মামলার নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ এবং বিচার প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা প্রয়োজন। অপরাধী যে দল বা মতেরই হোক, 'আইন সবার জন্য সমান' এই নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিআইপিজির চেয়ারম্যান ড. মো. মোজাম্মেল হক, সাবেক সচিব মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুমসহ আরও অনেকে।

/এসআর/