শিরোনাম

চাঁদাবাজির তথ্য চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সিটিজেন ডেস্ক
চাঁদাবাজির তথ্য চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন নির্দেশনার পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)সহ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করছেন। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং নেপথ্যের প্রভাবশালীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে যত বড় প্রভাবশালীই জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্টদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তালিকা হাতে পেলেই অভিযান শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে পুলিশের সব ইউনিটকে সতর্ক রাখা হয়েছে। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানও চলছে।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো নির্দিষ্ট দল নেই। তারা সুবিধা নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে থাকে। অতীতের তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, চাঁদাবাজি বন্ধে প্রধানমন্ত্রী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করতে পারেন।

মাঠপর্যায়ে কাজ করা একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে চাঁদাবাজদের তৎপরতা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালেও তারা সক্রিয় রয়েছে। অনেক জায়গায় প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বেড়েছে। রাজধানীতে সড়ক, ফুটপাত থেকে শুরু করে নদীর বালুমহাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দাদের হিসাবে, শুধু গুলিস্তান এলাকায়ই বছরে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়ে থাকে।

এদিকে রাজধানীর পল্টন ও গুলিস্তান এলাকায় দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কয়েকজন সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন টিটু ও তার ঘনিষ্ঠ আবু সুফিয়ানের নাম এসেছে।

চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগে গত ১২ অক্টোবর বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শাহবাগ থানাধীন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা বলেন, গোপন প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা এখনও এলাকায় প্রভাব বজায় রেখে চলেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। অনেক হকার অভিযোগ করেছেন, চাঁদা না দিলে তাদের ব্যবসা করতে দেওয়া হয় না। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

/এসএ/