ক্লান্তি দূর করে দিনভর চাঙা রাখবে যেসব খাবার

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ক্লান্তি দূর করে দিনভর চাঙা রাখবে যেসব খাবার
ছবি: এআই

সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় শরীরে ক্লান্তি বা দুর্বলতা আসা স্বাভাবিক। তবে সবসময় দুর্বল লাগা ভালো লক্ষণ নয়। শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, পানিশূন্যতা, রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামা কিংবা শরীরের ভেতরে থাকা কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি হতে পারে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। এজন্য শরীরের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এর সহজ উপায় বাতলে দিয়েছেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জি। তার মতে খাবার ও জীবনযাপনের রুটিনে কিছু সহজ পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দূর করতে পারে।

এজন্য পালং শাক ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজির পাশাপাশি বেরি জাতীয় ফল খেতে হবে। এছাড়া কমলা-লেবুর মতো রঙিন ও সাইট্রাস ফল খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। এসব খাবার শরীরকে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে।

ওটস, কুইনোয়া, মিলেট এবং ব্রাউন রাইসের মতো খাবারও শরীরকে স্থির ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। ডিম, মাছ, ডাল, পনির এবং বাদামের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পেশি সুস্থ এবং শরীরে স্থিতিশীল শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া বাদাম, বীজ এবং অ্যাভোকাডো খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য শসা ও তরমুজ খেতে পারেন। পানিসমৃদ্ধ এসব খাবার শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা জরুরি।

ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। পুষ্টির কোনো কোনোটির ঘাটতির সঙ্গে ক্লান্তি ও শরীরে কম শক্তি অনুভব করার সম্পর্ক রয়েছে।

শরীরে কিছু পুষ্টি উপাদানের মাত্রা কমে গেলেও ক্লান্ত অনুভব হতে পারে। ভিটামিন বি১২ শরীরে শক্তি উৎপাদন এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাহায্য করে। অন্যদিকে ভিটামিন ডি ক্লান্তি কমাতে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক।

শরীরের জন্য আয়রনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। আয়রনের ঘাটতি হলে একজন ব্যক্তি দুর্বল ও ক্লান্ত অনুভব করতে পারেন। তেমনি ম্যাগনেসিয়ামও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এটি পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম, ঘুম এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে সহায়তা করে।

এছাড়া সকালে কিছু সময় সূর্যের আলোতে অবস্থান করা ভালো। এটা শরীরের ঘুম-জাগরণের চক্র বা স্লিপ সাইকেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি ভিটামিন ডি এর মাত্রা বজায় রাখতেও সহায়ক।

পাশাপাশি ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা অন্যান্য রিল্যাক্সেসন টেকনিকের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।

ক্লান্তি বা দুর্বলতা দূর করতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করা যাবে না। পাশাপাশি রিফাইন সুগার এবং আলট্রা প্রসেসড ফুড কমাতে হবে। প্রতিদিনের খাওয়ার সময় এবং ঘুমের সময় যতটা সম্ভব নিয়মিত রাখতে হবে।

/জেএইচ/