শীতে কী কিনবেন, গিজার নাকি ইমারশন রড

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
শীতে কী কিনবেন, গিজার নাকি ইমারশন রড

অনেকেই শীতের সকালে ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই গরম পানির ব্যবস্থা করতে চান তারা। এ ক্ষেত্রে বাজারে সহজলভ্য দুটি পরিচিত উপকরণ হলো গিজার ও ইমারশন রড। পানি গরম করার কাজে দুটিই কার্যকর হলেও দাম, বিদ্যুৎ খরচ, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারের সুবিধার ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্নতা। ফলে প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী কোনটি কেনা ভালো, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

গিজার মূলত বিদ্যুৎচালিত পানি গরম করার একটি যন্ত্র। এতে নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতার ট্যাংকে পানি জমা থাকে এবং হিটিং এলিমেন্টের মাধ্যমে তা গরম করা হয়। বাজারে সাধারণত ১০, ১৫, ২৫ ও ৩০ লিটারসহ বিভিন্ন ধারণক্ষমতার গিজার পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং দৈনন্দিন পানির চাহিদা বিবেচনা করে এর মডেল নির্বাচন করা যায়।

গিজারের অন্যতম সুবিধা হলো, পানি গরম হওয়ার পর তা ট্যাংকে কিছু সময় ধরে রাখা যায়। ফলে প্রয়োজনের সময় বারবার পানি গরম করার ঝামেলা থাকে না। অনেক গিজারে আবার থার্মোস্ট্যাট প্রযুক্তি যুক্ত থাকে। নির্ধারিত তাপমাত্রায় পানি পৌঁছালে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিটিং বন্ধ করে দেয়। আবার পানি ঠান্ডা হতে শুরু করলে প্রয়োজন অনুযায়ী হিটিং চালু হয়।

তবে গিজার কেনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক খরচ তুলনামূলক বেশি। যন্ত্রের দাম ছাড়াও স্থাপন বা ইনস্টলেশনের জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। পাশাপাশি ট্যাংকের ধারণক্ষমতা যত বেশি হবে, নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি গরম করতে সাধারণত তত বেশি সময় ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে, ইমারশন রড হলো বিদ্যুৎচালিত একটি হিটিং কয়েল, যা বালতি বা উপযুক্ত পানির পাত্রে ডুবিয়ে পানি গরম করা হয়। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে স্বল্প বাজেটের মানুষের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি গরম করা যায় বলে ছোট পরিবার বা সীমিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি সুবিধাজনক।

তবে এই যন্ত্র ব্যবহারে নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পানি গরম করার সময় রডটি সম্পূর্ণ নির্ধারিত অংশ পর্যন্ত পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই পানিতে হাত দেওয়া যাবে না। পানি গরম হয়ে গেলে প্রথমে সুইচ বন্ধ করে প্লাগ খুলতে হবে। এরপর রডটি পানি থেকে বের করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের কাছ থেকে যন্ত্রটি দূরে রাখা জরুরি।

এ ছাড়া নিম্নমানের, নষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ ইমারশন রড ব্যবহারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কেনার সময় মানসম্মত ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত পণ্য নির্বাচন করা এবং সঠিক বৈদ্যুতিক সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ খরচের হিসাবেও গিজার ও ইমারশন রডের মধ্যে সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো পার্থক্য নেই। কোন যন্ত্র কত ওয়াটের, কী পরিমাণ পানি গরম করা হচ্ছে এবং কতক্ষণ চালু থাকছে-এসব বিষয়ের ওপর বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ নির্ভর করে।

উদাহরণ হিসেবে, ১৫০০ ওয়াট ক্ষমতার একটি ইমারশন রড এক ঘণ্টা চালালে প্রায় ১.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। একই ক্ষমতার গিজারের হিটিং এলিমেন্টও এক ঘণ্টা সক্রিয় থাকলে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে। তবে গিজারের থার্মোস্ট্যাট নির্ধারিত তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর হিটিং বন্ধ করে দেয়। এ কারণে এর প্রকৃত বিদ্যুৎ খরচ ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কমবেশি হতে পারে।

তাহলে কোনটি কেনা বেশি ভালো? পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি হলে এবং প্রতিদিন নিয়মিত গরম পানির প্রয়োজন পড়লে গিজার তুলনামূলক সুবিধাজনক। বিশেষ করে বাথরুমে স্থায়ীভাবে গরম পানির ব্যবস্থা করতে চাইলে এটি ভালো সমাধান হতে পারে। অন্যদিকে, পরিবারের সদস্য কম হলে কিংবা প্রতিদিন অল্প পরিমাণ পানি গরম করার প্রয়োজন থাকলে ইমারশন রড হতে পারে সাশ্রয়ী বিকল্প।

গিজার ও ইমারশন রডের মধ্যে কোনটি ভালো, তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন, বাজেট ও ব্যবহারের অভ্যাসের ওপর। তবে যন্ত্র কেনার পাশাপাশি নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গিজার অবশ্যই দক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে সঠিক নিয়মে স্থাপন করতে হবে। আর ইমারশন রড ব্যবহারের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকা অবস্থায় পানির সংস্পর্শে আসা থেকে বিরত থাকতে হবে।

/এসবি/