শিরোনাম

রাবিতে আম্মার ও শিবিরের বিরুদ্ধে ‘মবের’ অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

রাবি সংবাদদাতা
রাবি সংবাদদাতা
রাবিতে আম্মার ও শিবিরের বিরুদ্ধে ‘মবের’ অভিযোগ, তদন্তে কমিটি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বাগ্‌বিতণ্ডা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থীকে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে মারধরের ঘটনাকে ‘মব সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে এর বিচার দাবি করেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। তারা বলছে, এটি ‘ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’।

ঘটনার দিন সোমবার রাতে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে সংঘর্ষের স্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও রাকসু ভবন পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত রবিবার রাতে প্রক্টর কার্যালয়ে বৈঠক হয়। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন একই বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিন আলম। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ার হুমকি দেন মহসিন। ওই বৈঠকে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মো. আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল হাসান। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে প্রক্টরের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

মারধরের শিকার আনাস ও মাহমুদুলকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে মতিহার থানার পুলিশ। দুজনই ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’-সংক্রান্ত একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে আবার বৈঠক হয়। সেখানে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেন। এ সময় তার মুঠোফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে মারধর করা হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে প্রক্টর দপ্তর থেকে বের হয়ে যান সবাই।

অভিযোগ আছে, এর কিছুক্ষণ পর রাকসু ভবনে গিয়ে সালাউদ্দিন আম্মার, রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিবের ওপর হামলার করেন আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন। এতে নাজমুস সাকিব আহত হন।

পরে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নিলে সেখানে তাদের সঙ্গে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তারা পাঠকক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেন। অভিযোগ উঠেছে, এরপর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা পাঠকক্ষে ঢুকে তাদের মারধর করেন। হামলা ঠেকাতে গিয়ে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীও আহত হন। আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এসব ঘটনার পর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচারের দাবি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও মারধরের ঘটনার তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

মারধরের শিকার আনাস ও মাহমুদুলকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে মতিহার থানার পুলিশ। দুজনই ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’-সংক্রান্ত একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মারধর ও হামলার ঘটনার বিচার দাবি

গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট এক বিবৃতিতে প্রক্টরের কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনাকে ‘মব সন্ত্রাস’ উল্লেখ করে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করে। একইসঙ্গে রাকসু ভবনে হামলার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি জানায় সংগঠনটি।

অন্যদিকে মারধরের ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচারের দাবিতে সোমবার প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

/এফসি/