শিরোনাম

সৌদি আরব ও কাতারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে ইসরায়েল

সিটিজেন ডেস্ক
সিটিজেন ডেস্ক
সৌদি আরব ও কাতারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে ইসরায়েল
ইসরায়েলের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের একটি বিশেষ সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও কাতারের কাছে ইসরায়েলের তৈরি উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদপত্র হারেৎজ। উন্মুক্ত নথিপত্র, প্রতিরক্ষা চুক্তির তথ্য এবং বিভিন্ন আলোকচিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্রয়কৃত সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের জন্য ব্যবহৃত কম্পিউটারাইজড যুদ্ধ হেলমেট, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং বিশেষায়িত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সৌদি আরব ও কাতার—কোনো দেশের সঙ্গেই ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বা প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নেই।

হারেৎজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহৃত ১১টি বিমানের অন্তত তিনটিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের তৈরি ‘সি-মিউজিক’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। জনসমক্ষে প্রকাশিত বিভিন্ন আলোকচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের সময় এসব ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়।

এ ছাড়া ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কাতারের এফ-১৫ কিউএ ‘আবাবিল’ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো প্রায় ১৫ থেকে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের উপ-চুক্তি পেয়েছিল। ওই চুক্তির আওতায় কাতারকে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১৬০টি জেএইচএমসিএস কম্পিউটারাইজড যুদ্ধ হেলমেট, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ২ লাখ ডলার। পাশাপাশি সরবরাহ করা হয় এএন/এভিএস-৯ নাইট ভিশন গগলস।

সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ২০১০ সালের এক বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বোয়িংয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবের কাছে এফ-১৫এসএ যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তির অংশ হিসেবে ৪৬২টি জেএইচএমসিএস হেলমেট এবং সমসংখ্যক নাইট ভিশন ডিভাইস সরবরাহ করা হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন উন্মুক্ত ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করে হারেৎজ দাবি করেছে, সৌদি বিমানবাহিনী বর্তমানে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করে, কাতারের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকলেও দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলি রাজনৈতিক মহলের কিছু ব্যক্তির যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে কাতারের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ‘কাতারগেট’ নামে পরিচিত।

এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও কাতারের কাছে ইসরায়েলি সামরিক প্রযুক্তি পৌঁছানোর দাবি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

সূত্র: হারেৎজ, টাইমস অব ইসরায়েল

/এমআর/