শিরোনাম

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ

সিটিজেন ডেস্ক
সিটিজেন ডেস্ক
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

রবিবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদনটি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর বিস্তারিত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, তদন্তে খুলশী থানার তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সময় অপেশাদার ও শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ করেছেন। ঘটনার পর তাদের মধ্যে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

শুধু দায় নির্ধারণ নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে তদন্ত কমিটি সাত দফা সুপারিশও করেছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে পুলিশ সদস্যদের জন্য আচরণগত ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত ব্রিফিং, পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দ্রুত জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

নাঈম হাসানের গাড়িতে তল্লাশির পেছনে একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য কাজ করেছিল বলে জানা গেছে। স্বর্ণ চোরাচালানের সন্দেহে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে সেই তথ্যের উৎস বা এর সত্যতা সম্পর্কে কোনো পর্যবেক্ষণ রয়েছে কি না—এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন পুলিশ কমিশনার।

গত ১২ জুন রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম হাসান। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় তার গাড়ি থামানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ডিবি পুলিশের পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি চালকের কাগজপত্র জব্দ করেন এবং নাঈমকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিজেদের গাড়িতে তোলেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় ও পরিচয়পত্র প্রদর্শন করার পরও তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

নাঈমের অভিযোগ, খুলশী থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন। একই সময় সাদা পোশাকে থাকা আরেক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে মারধর করেন। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাকে থানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিএমপি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে এখন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

/এমআর/