ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সৌদির নতুন প্রতিরক্ষা জোট

ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সৌদির নতুন প্রতিরক্ষা জোট
সিজেডএন ডেস্ক

নৌপথ ও বিশ্ববাণিজ্য সুরক্ষার জন্য একটি ‘সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ সৌদির নেতৃত্বাধীন এই জোটে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার একটি কাঠামো হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই এতে ১৩টি দেশ সম্মতি দিয়েছে।
অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলো ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী কৌশলগত সামুদ্রিক করিডোরের অন্তর্ভুক্ত তিনটি জলপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের পথ সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার করেছে।
এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে বারবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হতো।
এছাড়া সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় নৌপথে বারবার হামলা চালিয়ে আসছে। সেইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটিও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সৌদি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। লোহিত সাগরে ইইউর ইতোমধ্যেই ‘অ্যাসপিডেস’ নামে একটি নৌ-সুরক্ষা মিশন চালু রয়েছে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটটি কীভাবে ভিন্ন ভূমিকা পালন করবে, তা স্পষ্ট নয়।
জানা গেছে, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কমোরোস এ জোটে স্বাক্ষর করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে একই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এ জোটে যোগ দেয়নি।
অন্যান্য দেশের জন্যও নিজ নিজ জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর জোটের সনদে যোগদানের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানিয়েছে সৌদি মন্ত্রণালয়।
অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলোর বিশ্বাস, সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। অভিন্ন ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতা ও সমন্বয়ই এ জোটের মূল ভিত্তি।
এদিকে দেশগুলো কী ধরনের জাহাজ বা বিমান সরবরাহ করবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে কার্যক্রমের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অভিযানগত পরিকল্পনা সমন্বয়, যৌথ মহড়া এবং সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। এটি কোনো রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করবে না বলেও জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবকে জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জোটটির সদর দপ্তরও সৌদি আরবে হবে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি।
গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ করে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর হয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে তার বেশিরভাগ তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। পাইপলাইনটি দেশের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র ও শোধনাগারকে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
যুদ্ধকালীন বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি করছিল সৌদি আরব। প্রণালিটি ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথের মুখোমুখি ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে হুথিদের অবরোধ দেশটির অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। এটি লোহিত সাগরে প্রবেশ ও প্রস্থানের দুটি প্রধান পথের একটি।
বাব আল-মান্দেব প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ২৯ কিলোমিটার। ফলে অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুখী নৌ চলাচল দুটি নির্দিষ্ট পথে সীমাবদ্ধ থাকে। তাই এ এলাকায় যেকোনো ধরনের হুমকি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়বে।
সূত্র: আল জাজিরা, গালফ নিউজ

নৌপথ ও বিশ্ববাণিজ্য সুরক্ষার জন্য একটি ‘সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ সৌদির নেতৃত্বাধীন এই জোটে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার একটি কাঠামো হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই এতে ১৩টি দেশ সম্মতি দিয়েছে।
অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলো ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী কৌশলগত সামুদ্রিক করিডোরের অন্তর্ভুক্ত তিনটি জলপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের পথ সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার করেছে।
এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে বারবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হতো।
এছাড়া সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় নৌপথে বারবার হামলা চালিয়ে আসছে। সেইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটিও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সৌদি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। লোহিত সাগরে ইইউর ইতোমধ্যেই ‘অ্যাসপিডেস’ নামে একটি নৌ-সুরক্ষা মিশন চালু রয়েছে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটটি কীভাবে ভিন্ন ভূমিকা পালন করবে, তা স্পষ্ট নয়।
জানা গেছে, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কমোরোস এ জোটে স্বাক্ষর করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে একই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এ জোটে যোগ দেয়নি।
অন্যান্য দেশের জন্যও নিজ নিজ জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর জোটের সনদে যোগদানের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানিয়েছে সৌদি মন্ত্রণালয়।
অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলোর বিশ্বাস, সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। অভিন্ন ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতা ও সমন্বয়ই এ জোটের মূল ভিত্তি।
এদিকে দেশগুলো কী ধরনের জাহাজ বা বিমান সরবরাহ করবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে কার্যক্রমের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অভিযানগত পরিকল্পনা সমন্বয়, যৌথ মহড়া এবং সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। এটি কোনো রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করবে না বলেও জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবকে জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জোটটির সদর দপ্তরও সৌদি আরবে হবে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি।
গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ করে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর হয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে তার বেশিরভাগ তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। পাইপলাইনটি দেশের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র ও শোধনাগারকে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
যুদ্ধকালীন বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি করছিল সৌদি আরব। প্রণালিটি ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথের মুখোমুখি ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে হুথিদের অবরোধ দেশটির অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। এটি লোহিত সাগরে প্রবেশ ও প্রস্থানের দুটি প্রধান পথের একটি।
বাব আল-মান্দেব প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ২৯ কিলোমিটার। ফলে অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুখী নৌ চলাচল দুটি নির্দিষ্ট পথে সীমাবদ্ধ থাকে। তাই এ এলাকায় যেকোনো ধরনের হুমকি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়বে।
সূত্র: আল জাজিরা, গালফ নিউজ

ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সৌদির নতুন প্রতিরক্ষা জোট
সিজেডএন ডেস্ক

নৌপথ ও বিশ্ববাণিজ্য সুরক্ষার জন্য একটি ‘সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ সৌদির নেতৃত্বাধীন এই জোটে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার একটি কাঠামো হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই এতে ১৩টি দেশ সম্মতি দিয়েছে।
অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলো ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী কৌশলগত সামুদ্রিক করিডোরের অন্তর্ভুক্ত তিনটি জলপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের পথ সুরক্ষিত রাখার অঙ্গীকার করেছে।
এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে বারবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হতো।
এছাড়া সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় নৌপথে বারবার হামলা চালিয়ে আসছে। সেইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটিও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সৌদি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল। লোহিত সাগরে ইইউর ইতোমধ্যেই ‘অ্যাসপিডেস’ নামে একটি নৌ-সুরক্ষা মিশন চালু রয়েছে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটটি কীভাবে ভিন্ন ভূমিকা পালন করবে, তা স্পষ্ট নয়।
জানা গেছে, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কমোরোস এ জোটে স্বাক্ষর করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে একই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এ জোটে যোগ দেয়নি।
অন্যান্য দেশের জন্যও নিজ নিজ জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর জোটের সনদে যোগদানের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানিয়েছে সৌদি মন্ত্রণালয়।
অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলোর বিশ্বাস, সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। অভিন্ন ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতা ও সমন্বয়ই এ জোটের মূল ভিত্তি।
এদিকে দেশগুলো কী ধরনের জাহাজ বা বিমান সরবরাহ করবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে কার্যক্রমের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অভিযানগত পরিকল্পনা সমন্বয়, যৌথ মহড়া এবং সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। এটি কোনো রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করবে না বলেও জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবকে জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জোটটির সদর দপ্তরও সৌদি আরবে হবে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি।
গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ করে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর হয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে তার বেশিরভাগ তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। পাইপলাইনটি দেশের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র ও শোধনাগারকে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
যুদ্ধকালীন বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি করছিল সৌদি আরব। প্রণালিটি ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথের মুখোমুখি ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে হুথিদের অবরোধ দেশটির অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। এটি লোহিত সাগরে প্রবেশ ও প্রস্থানের দুটি প্রধান পথের একটি।
বাব আল-মান্দেব প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ২৯ কিলোমিটার। ফলে অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুখী নৌ চলাচল দুটি নির্দিষ্ট পথে সীমাবদ্ধ থাকে। তাই এ এলাকায় যেকোনো ধরনের হুমকি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়বে।
সূত্র: আল জাজিরা, গালফ নিউজ

ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ‘হামলা’ হলে কী হতে পারে
কেন লোহিত সাগর কেন্দ্রিক সামরিক জোট গঠন করছে সৌদি আরব
সৌদি আরামকোয় হামলার দাবি হুথিদের







