বেটোপিয়া ইস্যুতে কঠোর বেসিস, অনিয়ম প্রমাণ হলে বাতিল হতে পারে সদস্যপদ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বেটোপিয়া ইস্যুতে কঠোর বেসিস, অনিয়ম প্রমাণ হলে বাতিল হতে পারে সদস্যপদ
বেসিস কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়

ফ্রিল্যান্সিং খাতে বেটোপিয়া গ্রুপকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, ব্যক্তিগত পরিচয় ও তথ্যের ব্যবহার, অর্ডার ও রিভিউ ব্যবস্থাপনা এবং প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যপদ বাতিলসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বেসিসের সহায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জুয়েল।

সংবাদ সম্মেলনে বেসিসের সহায়ক কমিটির সদস্য এবং এটোভা টেকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার ফেরদৌস আলম বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের পুরো ফ্রিল্যান্সিং খাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা সংগঠনটি চায় না। কোনো ধরনের প্রতারণার পক্ষে বেসিস অবস্থান নেবে না।

তিনি বলেন, বিডি কলিং/বেটোপিয়া বেসিসের সদস্য। প্রতিষ্ঠানটিকে তিন দিনের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্টদের সশরীরে এসে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে সদস্যপদ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসিস জানিয়েছে, প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, ভুয়া অর্ডার, কৃত্রিম রিভিউ তৈরি, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কারসাজি কিংবা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনকে তারা সমর্থন করে না। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করার আগে যথাযথ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, বেটোপিয়া–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের যেকোনো বৈধ তদন্ত বা অনুসন্ধানে সহযোগিতা করবে বেসিস। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সাইবার অপরাধ–সংশ্লিষ্ট সংস্থা, পুলিশ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ফ্রিল্যান্সার, সাবেক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগও সংগ্রহ করবে বেসিস। কারও এনআইডি, পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসের অ্যাকাউন্ট অন্য পক্ষ নিয়ন্ত্রণ করেছে এ ধরনের অভিযোগ থাকলে তা জানানোর সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। অভিযোগকারীদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়।

বেসিস বলছে, বেটোপিয়াকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ কেবল একটি প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ ঘটনায় দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতের কিছু কাঠামোগত দুর্বলতাও সামনে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, একজন ফ্রিল্যান্সারের নামে খোলা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্টের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, কর্মী বা ফ্রিল্যান্সারের এনআইডি, পাসপোর্ট ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য প্রতিষ্ঠান কীভাবে ব্যবহার করতে পারবে, চাকরি বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পরিচয়ের মালিকানা কার থাকবে এবং একটি প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সি কতগুলো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবে।

ইঞ্জিনিয়ার ফেরদৌস আলম বলেন, এসব বিষয়কে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতের সামগ্রিক কাঠামো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সিং ও মার্কেটপ্লেস গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করবে বেসিস।

এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের পারিশ্রমিক গ্রহণের জটিলতা, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের সীমাবদ্ধতা, ব্যাংকিং–সংক্রান্ত সমস্যা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, করব্যবস্থার অস্পষ্টতা এবং ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

বেসিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন বা কয়েকজনের অনিয়মের দায় দেশের লাখো সৎ ফ্রিল্যান্সারের ওপর চাপানো উচিত নয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কাজ করছেন এই বার্তাটি আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস ও বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

/এমআর/