শিরোনাম

লারিজানি হত্যাকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

সিটিজেন ডেস্ক
লারিজানি হত্যাকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি এবং দেশটির প্রয়াত শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি। ছবি: প্রেস টিভি

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি হত্যাার প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই লারিজানি হত্যাাকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি ইসারায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এই কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলি হামলায় আলি লারিজানি, তাঁর ছেলে মরতাজা এবং কয়েকজন সহযোদ্ধার নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।

মোজতবা খামেনি বলেন, লারিজানি ছিলেন জ্ঞানী, দূরদর্শী, মেধাবী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি। রাজনীতি, সামরিক, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও প্রশাসনসহ নানা ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে দায়িত্ব পালন করে লারিজানি নিজেকে রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

মোজতবা খামেনি আরও করেন, লারিজানিকে তার গুরুত্ব এবং ইসলামের শত্রুদের সঙ্গে তার গভীর বিদ্বেষের কারণেই হত্যা করা হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ইসলামি শাসব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। ‘প্রত্যেক ফোঁটা রক্তেরই মূল্য আছে, এবং এই শহীদদের হত্যাকারীদের খুব শিগগিরই সেই মূল্য দিতে হবে।’

ড. আলি লারিজানি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১২ বছর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন। পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মোহাম্মদ-বাকের কালিবাফ।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও অংশ নিয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই হত্যাকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ ও উসকানিমূলক আগ্রাসনের’ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়।

এই হামলার পর ইরান দ্রুত পাল্টা জবাব দেয়। তারা ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

এদিকে পৃথক আরেক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বাসিজ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও শোক প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, এই বেদনাদায়ক ঘটনায় ইরানি জাতি গভীরভাবে শোকাহত। এই হত্যাকাণ্ড বাসিজ বাহিনীর গুরুত্ব এবং শত্রুদের মধ্যে এই বাহিনীর আতঙ্কের বিষয়টি স্পষ্ট করে।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত হামলার লক্ষ্যবস্তু করে সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, এই কাপুরুষোচিত হামলা প্রমাণ করে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাসিজ বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই বাহিনীকে ভয় পায়।

/বিবি/