যুদ্ধের মধ্যেই বড় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পেলো ইরান

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
যুদ্ধের মধ্যেই বড় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পেলো ইরান
ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাত ও হামলায় ইরানের মূল জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন এক প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। রবিবার (২৩ আগস্ট) দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন আবিষ্কৃত এই ক্ষেত্রে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারেরও (৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট) বেশি গ্যাসের মজুত রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তেলমন্ত্রী মোহসিন পাকনেজাদ জানান, ফার্স প্রদেশের দক্ষিণে নতুন গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত হয়েছে। এই ক্ষেত্রটি থেকে অন্তত ১৬০ বিলিয়ন ঘনমিটার (৫,৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখান থেকে টানা ১৫ বছর ধরে প্রতিদিন ২৮০ মিলিয়ন ঘনমিটারের (প্রায় ১ বিলিয়ন ঘনফুট) বেশি গ্যাস পাওয়া যাবে যা দেশটির দৈনন্দিন গ্যাস ব্যবহারের তুলনায় খুবই সামান্য অংশ।

তেলমন্ত্রী নতুন এই ক্ষেত্রটিকে ‘মিষ্টি প্রাকৃতিক গ্যাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ এতে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের মাত্রা অনেক কম। ফলে এটি প্রক্রিয়াজাত করা ও উত্তোলনের খরচ বেশ কম হবে। তবে ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এখান থেকে বাস্তবে উৎপাদন শুরু করতে আরও কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর থেকেই ইরানের জ্বালানি খাত বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ চলাকালে দেশটির গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র, তেল ডিপো এবং পরিবহন পথগুলো বারবার হামলার মুখে পড়ে। গত জুলাইয়ে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সংঘাতের কারণে দিনে প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন কমে গিয়েছিল। তবে সব ধাক্কা সামলে ইরান কয়েক মাসের মধ্যে প্রতিদিন ১০০ মিলিয়ন ঘনমিটার উৎপাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

/এমএকে/