শিরোনাম

আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন প্রস্তাব

আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন প্রস্তাব
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটি সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তিতে উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতে জ্বালানি, খনিজ ও উড়োজাহাজের কেনাবেচার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার আগে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক ইরানি কূটনীতিক এ কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ সমাধান এবং নতুন সামরিক উত্তেজনা এড়াতে চলতি মাসে দুই দেশ পুনরায় আলোচনা শুরু করে। যদি আলোচনায় সফলতা না আসে, তবে ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

স্লোভাকিয়ার ব্রাতিস্লাভায় সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান ও সমঝোতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। যদিও তা নাও হতে পারে। ইরানের সঙ্গে সফল চুক্তি আগে কেউ করতে পারেনি, তবে আমরা চেষ্টা করব।’

অন্যদিকে, হামলার শিকার হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দেওয়া ইরান রবিবার তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি বিভাগের উপপরিচালক হামিদ ঘানবারি আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেন, চুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত ও উচ্চ অর্থনৈতিক লাভজনক খাতে যুক্তরাষ্ট্রেরও সুবিধা থাকতে হবে।

তিনি জানান, যৌথ তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, খনিজ খাতে বিনিয়োগ এবং উড়োজাহাজ ক্রয়সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় আলোচনায় রয়েছে। ঘানবারির দাবি, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।

রয়টার্সের এক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিষয়টি রবিবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন। রুবিও জানিয়েছেন, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য যাচ্ছেন; ফলাফল কী হয়, তা দেখা যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জেনেভায় পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিতে রওনা হয়েছেন। তিনি সেখানে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বিবিসিকে জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সমঝোতায় ইরান প্রস্তুত। তিনি বলেন, চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা আন্তরিক, তা প্রমাণের দায়িত্ব এখন ওয়াশিংটনের।

ইরানের পারমাণবিক প্রধানের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে সর্বোচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করতে ইরান রাজি হতে পারে। তবে শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ইরান সম্মত হবে না। এটি অতীত আলোচনার অন্যতম বড় অচলাবস্থা ছিল।

সূত্র: রয়টার্স

/জেএইচ/