শিরোনাম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগসহ ৫ দাবি রাহুল গান্ধীর

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগসহ ৫ দাবি রাহুল গান্ধীর
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (বামে) এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আটকের দৃশ্য (ডানে)। কোলাজ: সিজেডএন গ্রাফিক্স

নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ সময় তাকে ও বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও দুই ঘণ্টা পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানান।

বুধবার (২২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতা ছাত্রছাত্রীদের শোষণের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটে অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর দায় নিয়ে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, এটাই ছিল আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি। তবে তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আটক হন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা।

রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাবেক কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটক থাকাকালে রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি জানিয়ে একটি ভিডিও বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।

পাশাপাশি সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, বিক্ষোভ দমনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানান।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? প্রশ্নপত্র কেন ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়ানোর জন্য পরিবারগুলোকে কেন আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে হয়? এগুলো ন্যায্য প্রশ্ন এবং এই প্রশ্নগুলো করায় কোনো ভুল নেই।’

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে যারা একসঙ্গে লড়াই করছেন, আমি আপনাদের সবাইকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

সূত্র: এনডিটিভি

/জেএইচ/