‘দিল্লি চলো’ আন্দোলন আজ, ভোটার তালিকা নিয়ে ভারতে কেন এত ক্ষোভ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
‘দিল্লি চলো’ আন্দোলন আজ, ভোটার তালিকা নিয়ে ভারতে কেন এত ক্ষোভ
দিল্লির যন্তর-মন্তরে ২৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন

গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভে উত্তাল ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ একাধিক শহর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ। তবে এর শুরু হয় ১০০ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে। এজন্য বিরোধী দলগুলো আজ (১০ অক্টোবর) দিল্লি চলো আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ও তরুণদের নিয়ে গঠিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করছে। এই দাবিতে আজ শনিবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে তারা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভোটার বেশি বাদ পড়েছেন। এসব জনগোষ্ঠীর ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম। সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের ফলে কোটি কোটি ভোটার বাদ পড়ার প্রভাব পড়েছে। এসব নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। তবে বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা এবং ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণেই দলটি নির্বাচনে আধিপত্য ধরে রেখেছে।

অন্যদিকে বিরোধী দলের মতে, বিষয়টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যের বরাতে বিজেপি জানায়, যাচাইপ্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ আগের ঠিকানা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন, আর প্রায় ৩ কোটি ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায়নি।

বাদ পড়া এই ভোটারের সংখ্যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

আগামী বছরের শুরু থেকে ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ভোটার যাচাইয়ের এ উদ্যোগ মোদির ১২ বছরের শাসনকালের অন্যতম বড় রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে।

বিক্ষোভের শুরু যেভাবে

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে উদ্বেগের কথা জানালেও তিনি বিষয়টি বিবেচনায় নেননি। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এর আগে গত জুলাইয়ে কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল সিজেপি।

আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে আজ তেলাপোকা পার্টি ‘চলো দিল্লি’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর-মন্তরে ২৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। সেইসঙ্গে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ

আগামী বছর ভারতের অন্তত সাতটি রাজ্যে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশও রয়েছে। এই রাজ্যকে জাতীয় রাজনীতির প্রবণতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হয়। ২০২৫ সালে রাজ্যটিতে ভোটার যাচাই শুরু হয়েছিল। সেখানে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ শতাংশ নাম বাদ গেছে। এদিকে যাদের নাম তালিকায় নেই, তাদেরই আবার ভোটার হতে নিজেদের পরিচয় ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার সচ্ছতা নিয়ে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

বিরোধীদের দাবি, নির্বিচার নাম বাদ দেওয়া এবং দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার কারণে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা নির্বাচনে লাখ লাখ মানুষ ভোট দিতে পারেননি। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসে বলে অভিযোগ বিরোধী দলের। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতের নির্বাচনেও এই পদ্ধতিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

ভোটার যাচাইপ্রক্রিয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পক্ষপাত করছেন। পুরো প্রক্রিয়ায় বিজেপি লাভবান হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দলগুলো।

/জেএইচ/