দিল্লিতে বিক্ষোভ: যন্তর মন্তরের আশপাশে ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ইন্টারনেট

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
 দিল্লিতে বিক্ষোভ: যন্তর মন্তরের আশপাশে ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ইন্টারনেট
দিল্লিতে বিক্ষোভকারীরা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আন্দোলন ঘিরে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য এখন থেকেই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে যন্তর মন্তর এলাকার চার কিলোমিটারের মধ্যে টানা ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। জনপথ ও কর্তব্যপথের আশপাশের এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দূর-দূরান্ত থেকে বিক্ষোভকারীরা যাতে রাজধানীতে পৌঁছাতে না পারেন, সেজন্য দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিগামী অন্তত ৬১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার জওয়ানকে।

এদিকে একসঙ্গে এতগুলো মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এক বিচারক এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘মশা মারতে আপনারা হাতুড়ি ব্যবহার করতে পারেন না’। বেশিরভাগ স্টেশন খোলা রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শীর্ষ আদালতের এমন মন্তব্যের পরপরই নড়েচড়ে বসেছেন পুলিশের শীর্ষকর্তারা। মেট্রো স্টেশনগুলো চালু রেখে কীভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়ে তারা জরুরি বৈঠকে বসেছেন।

ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেই মূলত এ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ পার্টি ও দেশটির বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বর্তমান সরকারের আজ্ঞাবহ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন এবং ওপর মহলের ইশারাতেই কাজ করছেন। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে, যেখানে রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ৭০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আবার তাদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়। বিরোধীদের ধারণা, তালিকা থেকে বাদ পড়া এই বিশাল সংখ্যক মানুষ নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। উল্লেখ্য, এর আগে মাত্র কয়েক মাস এভাবেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী জ্ঞানেন্দ্র কুমার।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/