শিরোনাম

ভারতের ভিসা নীতিতে নতুন কড়াকড়ি

সিটিজেন ডেস্ক
ভারতের ভিসা নীতিতে নতুন কড়াকড়ি
ভারতীয় ভিসা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে ভারতে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভারত সরকার। সম্প্রতি দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস, ২০২৫’-এ সংশোধন এনে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ক্ষেত্রে নতুন কিছু বিধান কার্যকর করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত সরকার মনে করছে, অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটন বা চিকিৎসা ভিসায় দেশে প্রবেশ করলেও নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতেই নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

কেন আনা হলো নতুন নিয়ম?

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবস্থানরত বিদেশিদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছিল। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে কেউ ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে অবস্থান করলে তাকে শনাক্ত করাও সহজ হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ অভিবাসন এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। নতুন নিয়ম সেই বৃহত্তর নীতিরই অংশ।

কী কী পরিবর্তন এসেছে?

এর আগে কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতে টানা ১৮০ দিন অবস্থান করলে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত ১৪ দিনের একটি গ্রেস পিরিয়ড পেতেন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পরও ওই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ ছিল।

নতুন বিধিমালায় সেই অতিরিক্ত ১৪ দিনের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এখন কোনো বিদেশি নাগরিক ১৮০ দিনের বেশি ভারতে অবস্থান করতে চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ভারত সরকার জানিয়েছে, বিশেষ বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে অবস্থানের ক্ষেত্রে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের পরিকল্পনা থাকলে বিদেশি নাগরিকদের আগেভাগেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।

ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর জোর

নিয়ম কঠোর করার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করতে ডিজিটাল সেবার পরিধিও বাড়িয়েছে ভারত সরকার। নতুন ব্যবস্থায় বিদেশি নাগরিকদের জন্য কিছু সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

ভিসা বা অবস্থানসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে এখন সরাসরি অনলাইনে ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের গভর্নরের কাছে আপিল করা যাবে। আগে এ ধরনের আবেদন নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেত। নতুন বিধিমালায় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপিল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। ফলে আবেদনকারীদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় থাকতে হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

শিশুদের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত বিধানে স্বস্তি

কঠোরতার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম সহজও করেছে ভারত সরকার। বিদেশি দম্পতির ঘরে ভারতে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত বিধান আগের তুলনায় সরল করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি নবজাতকের বাবা বা মা—যেকোনো একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং শিশুটি ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রাখে, তাহলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আলাদাভাবে জন্ম নিবন্ধন করানোর বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে বিদেশিদের অবস্থান ও ভিসা ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে নাগরিকসেবাকে আরও সহজ করার চেষ্টা করছে ভারত সরকার। নতুন বিধিমালাকে তাই নিরাপত্তা ও সেবার মধ্যে ভারসাম্য আনার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/এমআর/