দিল্লিতে আন্দোলন অব্যাহত, কঠোর হচ্ছে মোদি সরকার

দিল্লিতে আন্দোলন অব্যাহত, কঠোর হচ্ছে মোদি সরকার
সিজেডএন ডেস্ক

দিল্লিতে অব্যাহত রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন। বৃহস্পতিবারও (২৩ জুলাই) যন্তর মন্তরে অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। নিট-ইউজিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বিষয়ে জবাবদিহিতা, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে অনশন ভাঙার জন্য শর্ত দিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সিজেপির আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছেন। বুধবার সোনম বলেন, ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও যুবকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা মামলা নেওয়া হবে না বলে কেন্দ্র আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙবেন।
এক বিবৃতিতে সোনম ওয়াংচুক বলেছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা তাকে আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের পরিবারকে সহায়তা ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করে দেখবেন।
তবে এতেও সোনম ওয়াংচুকের অনশন শেষ করা বা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থামানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং সংসদ চলো অভিযানের তিনদিন পর বৃহস্পতিবার সকালেও যন্তর মন্তরে অবস্থান করছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী। তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড রয়েছে। মাঝে মাঝেই দিচ্ছেন স্লোগান। দিল্লির গরম, আর্দ্র আবহাওয়া ও হঠাৎ বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মঞ্চের সামনে জমায়েত রয়েছেন ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা।
তাদের জন্য বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে খাবার আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। দেশের নানা রাজ্য থেকে। খাবার নিয়ে আসছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। দিল্লি ছাড়াও আরও একাধিক রাজ্যে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে এই বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন পন্থা নিচ্ছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্বে আসা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ২০ কোম্পানি সদস্যকে বিমানে করে দিল্লিতে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও রাজীব চক, প্যাটেল চক, আইটিও, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে আন্দোলনকারী আসতে না পারে।
তবে আন্দোলন নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিকোণ যে খুব একটা বদলায়নি তা বুঝা যায় মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের করা একটি এক্স পোস্ট থেকে। সর্বভারতীয় চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং তার জেরে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার দায় নিয়ে এই শিক্ষামন্ত্রীরই পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, ‘সংসদের অধিবেশনে নিট নিয়ে আলোচনা করতে এবং তরুণদের প্রতিটি যৌক্তিক উদ্বেগের সুরাহা করতে আমাদের সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য ভারতের শিক্ষার্থীরা। বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে তারা চায় নিশ্চয়তা, স্লোগানের পরিবর্তে সমাধান এবং বিঘ্ন সৃষ্টির পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা।’
অর্থাৎ দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির এই বিক্ষোভকে একটি রাজনৈতিক মদতপুষ্ট বিরোধিতা রূপেই মূল্যায়ন করছে সরকার। এমনকি সিনিয়র বিজেপি নেতা ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও বলেছেন যে ছাত্রদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্যের সমর্থন করেছেন দিল্লির এমপি বাঁসুরি স্বরাজও। এছাড়াও ককরোচ জনতা পার্টির উপর মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছেন তিনি। মঙ্গলবার ভারতের শাসক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালয়েন্স বা এনডিএর এক মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপকেই প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা ভারতের যুবসমাজের বিশ্বাস অর্জন করব।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিরোধী দলের সমর্থন বাড়ছে। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। কৃষক আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও যোগ দেওয়ার জন্য জড়ো হয়েছেন। তবে তাদের দিল্লি আসার পথে আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও বলিউড তারকারাও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন।
সোমবার সংসদ চলো অভিযানে পুলিশের আক্রমণের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ অন্যান্য নেতা। সেখান থেকে দুই ভাইবোনকে আটক করে পুলিশ। রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাবেক কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটক থাকাকালে রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি জানিয়ে একটি ভিডিও বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।
পাশাপাশি সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, বিক্ষোভ দমনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানান।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? প্রশ্নপত্র কেন ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়ানোর জন্য পরিবারগুলোকে কেন আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে হয়? এগুলো ন্যায্য প্রশ্ন এবং এই প্রশ্নগুলো করায় কোনো ভুল নেই।’
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে যারা একসঙ্গে লড়াই করছেন, আমি আপনাদের সবাইকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাই।’
সূত্র: এনডিটিভি, বিবিসি

দিল্লিতে অব্যাহত রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন। বৃহস্পতিবারও (২৩ জুলাই) যন্তর মন্তরে অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। নিট-ইউজিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বিষয়ে জবাবদিহিতা, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে অনশন ভাঙার জন্য শর্ত দিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সিজেপির আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছেন। বুধবার সোনম বলেন, ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও যুবকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা মামলা নেওয়া হবে না বলে কেন্দ্র আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙবেন।
এক বিবৃতিতে সোনম ওয়াংচুক বলেছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা তাকে আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের পরিবারকে সহায়তা ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করে দেখবেন।
তবে এতেও সোনম ওয়াংচুকের অনশন শেষ করা বা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থামানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং সংসদ চলো অভিযানের তিনদিন পর বৃহস্পতিবার সকালেও যন্তর মন্তরে অবস্থান করছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী। তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড রয়েছে। মাঝে মাঝেই দিচ্ছেন স্লোগান। দিল্লির গরম, আর্দ্র আবহাওয়া ও হঠাৎ বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মঞ্চের সামনে জমায়েত রয়েছেন ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা।
তাদের জন্য বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে খাবার আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। দেশের নানা রাজ্য থেকে। খাবার নিয়ে আসছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। দিল্লি ছাড়াও আরও একাধিক রাজ্যে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে এই বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন পন্থা নিচ্ছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্বে আসা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ২০ কোম্পানি সদস্যকে বিমানে করে দিল্লিতে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও রাজীব চক, প্যাটেল চক, আইটিও, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে আন্দোলনকারী আসতে না পারে।
তবে আন্দোলন নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিকোণ যে খুব একটা বদলায়নি তা বুঝা যায় মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের করা একটি এক্স পোস্ট থেকে। সর্বভারতীয় চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং তার জেরে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার দায় নিয়ে এই শিক্ষামন্ত্রীরই পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, ‘সংসদের অধিবেশনে নিট নিয়ে আলোচনা করতে এবং তরুণদের প্রতিটি যৌক্তিক উদ্বেগের সুরাহা করতে আমাদের সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য ভারতের শিক্ষার্থীরা। বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে তারা চায় নিশ্চয়তা, স্লোগানের পরিবর্তে সমাধান এবং বিঘ্ন সৃষ্টির পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা।’
অর্থাৎ দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির এই বিক্ষোভকে একটি রাজনৈতিক মদতপুষ্ট বিরোধিতা রূপেই মূল্যায়ন করছে সরকার। এমনকি সিনিয়র বিজেপি নেতা ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও বলেছেন যে ছাত্রদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্যের সমর্থন করেছেন দিল্লির এমপি বাঁসুরি স্বরাজও। এছাড়াও ককরোচ জনতা পার্টির উপর মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছেন তিনি। মঙ্গলবার ভারতের শাসক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালয়েন্স বা এনডিএর এক মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপকেই প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা ভারতের যুবসমাজের বিশ্বাস অর্জন করব।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিরোধী দলের সমর্থন বাড়ছে। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। কৃষক আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও যোগ দেওয়ার জন্য জড়ো হয়েছেন। তবে তাদের দিল্লি আসার পথে আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও বলিউড তারকারাও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন।
সোমবার সংসদ চলো অভিযানে পুলিশের আক্রমণের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ অন্যান্য নেতা। সেখান থেকে দুই ভাইবোনকে আটক করে পুলিশ। রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাবেক কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটক থাকাকালে রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি জানিয়ে একটি ভিডিও বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।
পাশাপাশি সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, বিক্ষোভ দমনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানান।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? প্রশ্নপত্র কেন ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়ানোর জন্য পরিবারগুলোকে কেন আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে হয়? এগুলো ন্যায্য প্রশ্ন এবং এই প্রশ্নগুলো করায় কোনো ভুল নেই।’
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে যারা একসঙ্গে লড়াই করছেন, আমি আপনাদের সবাইকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাই।’
সূত্র: এনডিটিভি, বিবিসি

দিল্লিতে আন্দোলন অব্যাহত, কঠোর হচ্ছে মোদি সরকার
সিজেডএন ডেস্ক

দিল্লিতে অব্যাহত রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন। বৃহস্পতিবারও (২৩ জুলাই) যন্তর মন্তরে অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। নিট-ইউজিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বিষয়ে জবাবদিহিতা, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে অনশন ভাঙার জন্য শর্ত দিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সিজেপির আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছেন। বুধবার সোনম বলেন, ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও যুবকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা মামলা নেওয়া হবে না বলে কেন্দ্র আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙবেন।
এক বিবৃতিতে সোনম ওয়াংচুক বলেছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা তাকে আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের পরিবারকে সহায়তা ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করে দেখবেন।
তবে এতেও সোনম ওয়াংচুকের অনশন শেষ করা বা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থামানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং সংসদ চলো অভিযানের তিনদিন পর বৃহস্পতিবার সকালেও যন্তর মন্তরে অবস্থান করছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী। তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড রয়েছে। মাঝে মাঝেই দিচ্ছেন স্লোগান। দিল্লির গরম, আর্দ্র আবহাওয়া ও হঠাৎ বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মঞ্চের সামনে জমায়েত রয়েছেন ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা।
তাদের জন্য বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে খাবার আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। দেশের নানা রাজ্য থেকে। খাবার নিয়ে আসছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। দিল্লি ছাড়াও আরও একাধিক রাজ্যে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে এই বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন পন্থা নিচ্ছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্বে আসা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ২০ কোম্পানি সদস্যকে বিমানে করে দিল্লিতে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও রাজীব চক, প্যাটেল চক, আইটিও, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে আন্দোলনকারী আসতে না পারে।
তবে আন্দোলন নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিকোণ যে খুব একটা বদলায়নি তা বুঝা যায় মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের করা একটি এক্স পোস্ট থেকে। সর্বভারতীয় চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং তার জেরে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার দায় নিয়ে এই শিক্ষামন্ত্রীরই পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, ‘সংসদের অধিবেশনে নিট নিয়ে আলোচনা করতে এবং তরুণদের প্রতিটি যৌক্তিক উদ্বেগের সুরাহা করতে আমাদের সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য ভারতের শিক্ষার্থীরা। বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে তারা চায় নিশ্চয়তা, স্লোগানের পরিবর্তে সমাধান এবং বিঘ্ন সৃষ্টির পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা।’
অর্থাৎ দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির এই বিক্ষোভকে একটি রাজনৈতিক মদতপুষ্ট বিরোধিতা রূপেই মূল্যায়ন করছে সরকার। এমনকি সিনিয়র বিজেপি নেতা ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও বলেছেন যে ছাত্রদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্যের সমর্থন করেছেন দিল্লির এমপি বাঁসুরি স্বরাজও। এছাড়াও ককরোচ জনতা পার্টির উপর মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছেন তিনি। মঙ্গলবার ভারতের শাসক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালয়েন্স বা এনডিএর এক মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপকেই প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা ভারতের যুবসমাজের বিশ্বাস অর্জন করব।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিরোধী দলের সমর্থন বাড়ছে। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। কৃষক আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও যোগ দেওয়ার জন্য জড়ো হয়েছেন। তবে তাদের দিল্লি আসার পথে আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও বলিউড তারকারাও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন।
সোমবার সংসদ চলো অভিযানে পুলিশের আক্রমণের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ অন্যান্য নেতা। সেখান থেকে দুই ভাইবোনকে আটক করে পুলিশ। রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাবেক কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটক থাকাকালে রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি জানিয়ে একটি ভিডিও বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।
পাশাপাশি সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, বিক্ষোভ দমনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানান।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? প্রশ্নপত্র কেন ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়ানোর জন্য পরিবারগুলোকে কেন আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে হয়? এগুলো ন্যায্য প্রশ্ন এবং এই প্রশ্নগুলো করায় কোনো ভুল নেই।’
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে যারা একসঙ্গে লড়াই করছেন, আমি আপনাদের সবাইকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাই।’
সূত্র: এনডিটিভি, বিবিসি

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সালমান খানের সমর্থন
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নিয়ে যা বললেন রাহুল গান্ধী
আবারও যন্তর-মন্তরে ককরোচ পার্টি, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা






