শিরোনাম

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নিয়ে যা বললেন রাহুল গান্ধী

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নিয়ে যা বললেন রাহুল গান্ধী
রাহুল গান্ধী এবং নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের ঘোষিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে জড়ো হয়। শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। তবে এতেও দমবে না বলে জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘নিজেদের অধিকারের দাবি তুলেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা কোনোভাবেই ‘গণতান্ত্রিক’ নয়, এটি ভারতের সংস্কৃতিও নয়। সরকার যেভাবে এই আন্দোলন দমন করেছে। এই দমনপীড়নের কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।

এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘দিল্লির রাজপথে যেসব ছেলেমেয়ে নেমেছে তারা কোনো অপরাধী নয়। তারা নিজেদের অধিকার দাবি করছে। একটি সম্মানজনক, ন্যায্য এবং কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা পাওয়া তাদের অধিকার।’

তরুণদের সমর্থনে সিজেপি আন্দোলনের অংশ হিসেবে টানা ২১ দিন অনশন করার পর গত শনিবার দেশটির মানবাধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরপরই ওই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

ভারতের এক বিচারপতির মন্তব্যের জেরে গত মে মাসে যাত্রা শুরু করে সিজেপি। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী তৈরি হয়েছে ব্যাঙ্গাত্মক এই দলটির। ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা ও বেকারত্ব নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ঘিরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি প্রশ্ন করেছে, ‘এটি কি কোনো যুদ্ধক্ষেত্র? পুলিশ কেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস হামলা চালাচ্ছে?’

দিল্লির পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর পরও তারা বিক্ষোভ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়াদিল্লির কিছু অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রাহুল গান্ধী বলেন, তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। প্রধানমন্ত্রীর এসব দাবি মেনে নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে চলছে তা নিয়ে সবাই চরম বিরক্ত। আরএসএস যেভাবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা দখল করে নিয়েছে এবং একটিমাত্র সংস্থা যেভাবে আমাদের সমস্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে, তাতে সবাই অতিষ্ঠ। তরুণরা যে প্রতিবাদ জানাচ্ছে তা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং তাদের এই প্রতিবাদকে শ্রদ্ধা করা উচিত।

এদিকে ইন্টারনেট বন্ধ করার পাশাপাশি দিল্লির জন্তর-মন্তরে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আগাম অনুমতি ছাড়া জন্তর-মন্তরের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ছাড়া অন্য কোথাও বিক্ষোভ মিছিল, শোভাযাত্রা, সমাবেশ কিংবা পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

এতে বলা হয়েছে, দিল্লি পুলিশ সব নাগরিককে আইন মেনে চলার, অনুমতি ছাড়া কোনও জমায়েত বা মিছিলে অংশ না নেয়ার এবং জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

/জেএইচ/