শিরোনাম

ভারত-বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক: গঙ্গা চুক্তি প্রশ্নে নীরবতা

সিটিজেন ডেস্ক
ভারত-বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক: গঙ্গা চুক্তি প্রশ্নে নীরবতা
কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর কয়েক মাস বাকি। এমন বাস্তবতায় কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলো দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক। তবে বহুল আলোচিত গঙ্গা চুক্তির নবায়ন বা নতুন কাঠামো নিয়ে বৈঠক শেষে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (২২ মে) কলকাতার নিউটাউনে অবস্থিত ফেয়ারফিল্ড ম্যারিয়ট হোটেলে বিকাল সোয়া চারটায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা অপেক্ষায় থাকলেও প্রতিনিধিদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেননি। ফলে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কূটনৈতিক নীরবতাই আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ফারাক্কা ব্যারেজ এলাকায় গঙ্গার পানিপ্রবাহ যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ করেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। বেনিয়া গ্রামের ঘাটপাড়া মেলা গ্রাউন্ডসংলগ্ন কার্যালয় থেকে গঙ্গার মূল স্রোত, ফারাক্কা ব্যারেজের পানিপ্রবাহ, ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর জলপ্রবাহ এবং ওয়াটারশেড এলাকা পরিদর্শন করা হয়। পরে ফিডার ক্যানালের পানিপ্রবাহ পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

তবে ওই পর্যবেক্ষণে কী তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দিল্লি থেকে আসা ভারতীয় প্রতিনিধিরা বিষয়টিকে ‘রুটিন অবজারভেশন’ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।

কলকাতার বৈঠকে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীর। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, মো. আবু সৈয়দ, মো. শামসুজ্জামান, মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ ও মো. রুমানুজ্জামান। এছাড়া কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে দিল্লিতে বাংলাদেশের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীরা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন বা নতুন কাঠামো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এখানেই দুই দেশের অবস্থানগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ভারত চাইছে ফারাক্কা পয়েন্টে বাস্তব পানিপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করে নতুন কাঠামো নির্ধারণ করতে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান হলো— শুধু ফারাক্কা নয়, গঙ্গার উজান থেকে মোট প্রবাহের হিসাব বিবেচনায় নিয়েই পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করা যায়।

১৯৯৬ সালের বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেয়। আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পায় ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ যায় বাংলাদেশের অংশে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গঙ্গা পানি চুক্তির পুনর্নবীকরণ এখন শুধু পানিবণ্টনের প্রশ্ন নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। পদ্মার নাব্যতা, পশ্চিমবঙ্গের নদীভাঙন, কলকাতা বন্দরের কার্যকারিতা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জলপ্রবাহ—সব মিলিয়ে আলোচনাটি দুই দেশের জন্যই কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।

/এমআর/