তর্ক থেকে হাতাহাতি, আর্মেনিয়ার পার্লামেন্ট যেন বক্সিং রিং

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
তর্ক থেকে হাতাহাতি, আর্মেনিয়ার পার্লামেন্ট যেন বক্সিং রিং
পার্লামেন্টের ভেতরে সংঘর্সে জড়ান আইনপ্রণেতারা

আর্মেনিয়ার জাতীয় সংসদে অডিট চেম্বারের সদস্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তুমুল হট্টগোল থেকে একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যকার বাকবিতণ্ডা মুহূর্তেই রূপ নেয় কিল, ঘুসি ও লাথিতে। শুধু অধিবেশন কক্ষেই নয়, সংঘর্ষের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবনের করিডরেও। পুরো ঘটনাটি টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় এবং পরবর্তীতে এর ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অডিট চেম্বারের প্রতিনিধি নির্বাচন চলাকালে আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। অধিবেশন চলাকালে ক্ষমতাসীন দলের এমপি তারোন চাকোয়ান কথা প্রসঙ্গে বিরোধী দলের প্রভাবশালী নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের এক আত্মীয়ের পুরোনো একটি বিতর্কিত মন্তব্য টেনে আনেন। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ওই আত্মীয় বলেছিলেন- তাদের দল ক্ষমতায় এলে নারীদের সন্তুষ্ট করতে আলাদা একটি মন্ত্রণালয় গঠন করা হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে চাকোয়ান সরাসরি কারাপেতিয়ানকে লক্ষ্য করে বলেন, ওই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য তার চাচাতো ভাই আজও পর্যন্ত কোনো ক্ষমা চাননি।

চাকোয়ানের এ মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কারাপেতিয়ান। তিনি নিজের আসনে বসেই কড়া জবাব দেন এবং কথা বলতে বলতে ক্ষিপ্ত হয়ে সরাসরি মঞ্চের দিকে তেড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে পুরো কক্ষের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের সংসদ সদস্যরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সেশন টেবিল থেকে শুরু করে করিডর পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারি। সংসদ সদস্যরা একে অপরকে লক্ষ্য করে অনবরত ঘুসি ও লাথি মারতে থাকেন। গালিগালাজ ও অশালীন ভাষার ব্যবহারে পরিস্থিতি চরম রূপ নেয়। নিরাপত্তাকর্মী এবং অন্য আইনপ্রণেতারা অনেক চেষ্টা চালিয়েও বেশ কিছুক্ষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।

সংঘর্ষের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল, পরবর্তীতে পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হয়। মারামারির ঘটনায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আন্দ্রানিক গেভরগিয়ানের নাক ফেটে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। পাশাপাশি আরেক বিরোধী সংসদ সদস্য রুবেন মখিতারিয়ানের পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়। তবে এ ঘটনায় আর কেউ মারাত্মক আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

এমন তুলকালাম কাণ্ডের পর ঘটনার জন্য পুরোপুরি বিরোধী নেতা নারেক কারাপেতিয়ানকেই দায়ী করেছেন পার্লামেন্টের স্পিকার রুবেন রুবিনিয়ান। বিরতির সময় ঘটনার ফুটেজ দেখে তিনি বলেন, তারোন চাকোয়ানের বক্তব্যে আপত্তিকর কিছু ছিল বলে তার মনে হয়নি। তিনি আরও বলেন, কারাপেতিয়ান নিজের আসনে বসে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং পরে উঠে চাকোয়ানকে আঘাত করার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালীন বিরোধী সদস্য গার্নিক দাভতিয়ানও চাকোয়ানকে আঘাত করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

সাধারণত এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হলেও, এবার তা করা হয়নি। অধিবেশনের সরাসরি সম্প্রচার চালু রাখার ব্যাখ্যা দিয়ে স্পিকার রুবিনিয়ান জানান, পার্লামেন্টের ভেতরের আসল চিত্র এবং আইনপ্রণেতাদের আচরণ জনগণের নিজের চোখে দেখা উচিত বলেই লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করা হয়নি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

/এমএকে/