‘মিনিস্টার অব ডেথ’ স্লোগানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল স্পেন

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
‘মিনিস্টার অব ডেথ’ স্লোগানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল স্পেন
কোলাজ: সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর

স্পেনে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হওয়ার পর দেশজুড়ে চরম জনরোষ তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা সারারাত ধরে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগিগুলো কেটে আটকে পড়া মানুষের খোঁজ করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের পদত্যাগের দাবিতে মাদ্রিদের রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ।

স্প্যানিশ সম্প্রচারকারী মাধ্যম টিভিই-এর তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবিতে রাতভর স্প্যানিশ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভবনের বাইরে প্রায় দেড় হাজার মানুষ জড়ো হন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বোতল ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভকারীরা ‘CRIMINALES ABAJO EL REGIMEN DEL 78’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন। পুলিশ যখন তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়, তখন তারা স্কার পুয়েন্তে, ‘মিনিস্টার অব ডেথ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেল নিরাপত্তার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্পেনের রেল চালকরাও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, স্পেনের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক বিশ্বের অন্যতম সেরা ও উন্নত হিসেবে পরিচিত। ট্র্যাকের দৈর্ঘ্যের দিক থেকে এটি চীনের পরেই বিশ্বে দ্বিতীয়। তিন দশকেরও বেশি সময় আগে চালুর পর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত এতে কোনো বড় ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেনি।

কিন্তু বুধবারের (২৮ অক্টোবর) এ ঘটনা শান্ত একটি রেলপথকে মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত করে দেয়। দেশটিতে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক চার সপ্তাহ আগে এ ঘটনাটি ঘটলো। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ ৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং বহু মানুষের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর প্রধানমন্ত্রী সানচেজ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগে জানুয়ারিতেও দক্ষিণ স্পেনে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কোটি কোটি যাত্রী বহন করা এ রেল ব্যবস্থার ওপর মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে এই দুই দুর্ঘটনায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সানচেজ সরকার বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনার এ মর্মান্তিক ঘটনাটি স্পেনের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। এমনিতেই দেশটিতে আকাশছোঁয়া ভাড়া ও তীব্র আবাসন সংকট নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বিশেষ করে গত মাসে পুলিশ ৮৭ বছর বয়সী মারিক্যারমেন নামের এক বৃদ্ধাকে তার দীর্ঘদিনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের করে দেওয়ার পর থেকেই মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়, আর এ ট্রেন দুর্ঘটনা সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/