রুশ আগ্রাসন রুখতে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বাজেট ইউক্রেনের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
রুশ আগ্রাসন রুখতে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বাজেট ইউক্রেনের
ইউক্রেনের সেনাসদস্যরা। ছবি: টাইমস

রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় আগামী বছরে নিজেদের বাজেটের রেকর্ড দুই-তৃতীয়াংশই প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইউক্রেন। দীর্ঘস্থায়ী এ যুদ্ধের ধাক্কায় কিয়েভের অর্থনীতি এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে তৈরি হয়েছে বিশাল আর্থিক ঘাটতি এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আগামী বছর আরও ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি সহায়তা তোলার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থমন্ত্রী সের্গেই মারচেঙ্কো জানান, ‘২০২৭ সালের খসড়া বাজেটটি এমন এক সময়ে প্রণয়ন করা হয়েছে যখন রুশ আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘নিঃসন্দেহেই এটিই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আগ্রাসী শক্তিকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য সব অভ্যন্তরীণ সম্পদকে এ খাতে কাজে লাগানো হচ্ছে।’

সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ইউক্রেন তাদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ৪.৯ ট্রিলিয়ন রিভনিয়া বা ১০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করার ছক কষেছে, যা তাদের মোট জিডিপির প্রায় ৪৪ শতাংশ। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এটি তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়ের রেকর্ড। এ বিশাল বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খরচ হবে শুধু সেনাদের বেতন-ভাতা মেটানোর পেছনে, আর বাকি অর্থ দিয়ে কেনা হবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম। অন্যদিকে, তাদের প্রতিপক্ষ রাশিয়াও আগামী বছর প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ১৩.৬ ট্রিলিয়ন রুবল বা ১৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করার পরিকল্পনা করেছে, যা তাদের মোট বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ।

এদিকে বিদেশি অর্থায়নের প্রবাহ ধরে রাখতে ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টকে কিছু ‘অপ্রীতিকর ও অজনপ্রিয়’ সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আসা পার্সেল বা ডাকযোগে আসা পণ্যের ওপর নতুন করে কর বসানোর মতো কঠিন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব পদক্ষেপ ছাড়া আমাদের প্রতিরক্ষা খাতের পূর্ণ চাহিদা পূরণ এবং ইউক্রেনের টিকে থাকার সক্ষমতা বজায় রাখা অসম্ভব।’

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিমা ও বিদেশি অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সাহায্য এবং প্রচুর সামরিক সহায়তা পেয়েছে ইউক্রেন।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/