ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে ম্যালওয়্যার

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে ম্যালওয়্যার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ভুয়া বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ফেলে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সাইবার অপরাধীরা। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি বিভিন্ন অ্যাপের আড়ালে ছড়ানো এসব ক্ষতিকর সফটওয়্যার অনুমতি নিয়ে ব্যবহারকারীর অজান্তেই নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ফোনের নিয়ন্ত্রণও চলে যেতে পারে অপরাধীদের হাতে।

সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত কৌশলটি শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখানোর মাধ্যমে। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে অনেক সময় একটি অপরিচিত ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টলের পরিবর্তে সরাসরি এপিকে ফাইল ডাউনলোড করতে বলা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এসব ওয়েবসাইটে ‘ডট লাইভ’ ডোমেইনও ব্যবহার করা হচ্ছে।

ওয়েবসাইট থেকে এপিকে ফাইল ডাউনলোড করে ইনস্টল করার পরও প্রতারণার প্রক্রিয়া থেমে থাকে না। ব্যবহারকারীকে পরবর্তী ধাপে আরও একটি প্যাকেজ বা অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হতে পারে। সেটিকে অ্যাপের নতুন সংস্করণ, আপডেট কিংবা প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ফাইল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এভাবে বিভিন্ন কৌশলে ব্যবহারকারীকে একাধিক ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টলের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।

ইনস্টলের সময় অ্যাপগুলো ফোনের বিভিন্ন সংবেদনশীল সুবিধা ব্যবহারের অনুমতি চায়। এর মধ্যে অ্যাকসেসিবিলিটি পারমিশন অন্যতম। অ্যাপের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য এসব অনুমতি প্রয়োজন-এমন ধারণা তৈরি করে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে অনুমতি আদায় করা হয়। অনুমতি পাওয়ার পর ম্যালওয়্যারটি ফোনের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেতে পারে।

শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, কিছু ক্ষতিকর অ্যাপ ফোনে ভিপিএন (ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) ইনস্টলের চেষ্টাও করতে পারে। এর ফলে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগ-সংক্রান্ত তথ্য আক্রমণকারীদের নিয়ন্ত্রিত সার্ভারের মধ্য দিয়ে আদান-প্রদান হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে অনলাইন কার্যক্রমের গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

কোনো কোনো ম্যালওয়্যার ফোনের সেটিংস ব্যবহার করে নিজেকে মুছে ফেলার বা আনইনস্টল করার প্রক্রিয়াতেও বাধা দিতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী চাইলেও সহজে ক্ষতিকর অ্যাপটি ফোন থেকে সরাতে নাও পারেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে ডিভাইসের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ডিজিআর্মরএক্সের প্রতিষ্ঠাতা নিধি শ্রীবাস্তবের মতে, এ ধরনের প্রতারণায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় সামাজিক প্রকৌশল কৌশলের সঙ্গে ফোনের সংবেদনশীল অনুমতি ব্যবহারের সমন্বয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রথমে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে নেওয়া এবং পরে এপিকে ফাইল ইনস্টল করানো পর্যন্ত ঘটনাটি সাধারণ প্রতারণার মতো মনে হতে পারে। তবে অ্যাপটি যখন অ্যাকসেসিবিলিটি, ভিপিএন কিংবা অন্য অ্যাপ ইনস্টলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি চায়, তখন ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অনুমতি কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা ডিভাইসের ওপর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংকিং ও অন্যান্য আর্থিক সেবায় প্রতারণার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে থাকা লিংক থেকে সরাসরি এপিকে ফাইল ডাউনলোড এবং ইনস্টলের ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

/এসবি/