এবার বিক্ষোভে উত্তাল গ্রিস

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
এবার বিক্ষোভে উত্তাল গ্রিস
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ফ্রান্স ও আলবেনিয়ার পর এবার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ গ্রিস। রাজধানী এথেন্সসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বুধবার (২১ অক্টোবর) হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপের দাবিতে এই বিক্ষোভ করেছেন গ্রিসের শিক্ষার্থীরা। সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং সুপরিসর ক্লাসরুমের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল এথেন্স ও আশপাশের এলাকায় গতকাল প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন, তেমনি ছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। শান্তিপূর্ণ এই মিছিল শুধু এথেন্স নয়, গ্রিসের আরও কয়েকটি শহরে মিছিল করেন তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ফ্রান্স, স্পেনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এর মধ্যে ফ্রান্স ও আলবেনিয়ায় শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালিতে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে রাজপথ বেশ উত্তাল। কোথাও কোথাও ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিও উঠেছে।

২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে গ্রিসে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিসের মধ্য-ডানপন্থী সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এমন এক সময়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে- যখন গ্রিসের মানুষ ক্রমে স্থবির হয়ে আসা মজুরি, বাড়তি বাড়িভাড়া ও জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির মতো সমস্যার মোকাবিলা করছেন। দেশটির ঋণের সংকটের পর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও অবস্থার পুরোপুরি পরিবর্তন হয়নি।

এছাড়া বেতন ও কর্মী স্বল্পতার প্রতিবাদে কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চিকিৎসক কর্মবিরতি পালন করছেন। এজন্য সরকারি স্কুল ও হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এথেন্সে পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা বলেন, ‘গ্রিস থেকে ফ্রান্স-সবখানে আমরা বিনা মূল্যের সরকারি শিক্ষা চাই।’

বুধবারের মিছিলের আগে শিক্ষার্থীরা মধ্য এথেন্সের সিনতাগমা স্কোয়ারে তাঁবু খাটিয়ে রাতভর বিক্ষোভ করেছিল।

বিক্ষোভ শুরুর আগেই শিক্ষামন্ত্রী সোফিয়া জাছারাকি বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া শুনেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে আবাসন খরচ গ্রিক পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আবাসন নির্মাণ এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের জন্য ৭৩ কোটি ৩০ লাখ ইউরোর বেশি (প্রায় ৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান জাছারাকি।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঋণ সংকটে জর্জরিত ছিল গ্রিস। তবে সেই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে দেশটি। এজন্য গ্রিসকে প্রায় ২৯ হাজার কোটি ইউরোর তিনটি আন্তর্জাতিক বিশেষ প্রণোদনার (বেলআউট) মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পাশাপাশি দেশটিকে চরম কৃচ্ছ্রসাধনের পথে যেতে হয়। এজন্য বেতন ও শিক্ষা খাতে ব্যয় কমানো হয়।

পরবর্তী সময় বেতন বেড়েছে ঠিকই; তবে গ্রিসের অনেকের ক্রয়ক্ষমতা এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ কম। এর ওপর ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাড়তি দাম গ্রিসের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে নতুন করে চাপে ফেলেছে।

গ্রিসে এখন গড় মাসিক বেতন ১৫০০ ইউরো বা ১৬৮৫ ডলারে আটকে আছে, যেটা ২০০৯ সালের পর্যায়ের সমান। এছাড়া শহরাঞ্চলে বাড়িভাড়া অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এ কারণে গ্রিসের অনেক তরুণের পক্ষে বাসস্থান জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জানান, ‘এখানে টিকে থাকা খুবই কঠিন। ভাড়া অনেক বেশি। বাড়িগুলোও ছোট ছোট। আমাদের বাবা-মায়ের পক্ষে বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল আর এখানকার জীবনযাত্রার খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে উঠেছে।’

সূত্র: রয়টার্স

/জেএইচ/