ফ্রান্স-স্পেনের পর ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের আঁচ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ফ্রান্স-স্পেনের পর ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের আঁচ
ইতালিতে বিক্ষোভে হাজারো মানুষ

জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়ে ইউরোপজুড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। ফ্রান্স ও স্পেনের পর এবার ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র বিক্ষোভ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকটের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মিলান থেকে লিসবনের রাজপথ।

ইতালির মিলান শহরে স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) সাধারণ মানুষের একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা দিয়ে কর্মসূচি শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে মুখোশধারী কিছু দাঙ্গাকারী পুলিশের দিকে পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তারা রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে। সংঘর্ষের পর প্রকাশিত ছবিতে পুলিশের বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দেখা গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম লাপ্রেসের তথ্যমতে, এ সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার সবার আছে। কিন্তু শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। সেখানে আকাশচুম্বী আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর দাবিতে অভিনব কায়দায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্পেনে বিক্ষোভেও ঠিক এমনভাবে তাঁবু বসিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে লিসবনের জনপ্রিয় রসিও স্কোয়ারে হাজার হাজার মানুষ পদযাত্রায় অংশ নেন। তাদের অনেকেই খোলা আকাশের নিচে সারা রাত তাঁবুতে কাটানোর প্রস্তুতি নিয়ে আসেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী এলেনা কস্তা বলেন, সমাজের যে শ্রেণির মানুষ কর দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখে তারা আক্রমণের শিকার ও অধিকার হারাচ্ছে। বিশেষ করে আবাসনের অধিকার সংকটের মুখে পড়েছে।

বর্তমান সরকারের বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নীতির তীব্র সমালোচনা করে ৫২ বছর বয়সী প্রকৌশলী আন্তোনিও মারগাদো বলেন, সরকার ভাড়াটিয়াদের কথা বিবেচনা করেনি। মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল- নয় বছরে পর্তুগালে আবাসনের খরচ বেড়েছে অবিশ্বাস্যভাবে ১২৪ শতাংশ। এটি পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। এর সবচেয়ে বড় আঘাত এসে পড়েছে দেশটির তরুণ সমাজ এবং রাজধানী লিসবনের বাসিন্দাদের ওপর। কারণ পর্তুগালের মোট এক কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশই বসবাস করে এ শহরে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের এ ক্ষোভ ও হতাশার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সতর্ক করে তিনি বলেন, এটিকে কেন্দ্র করে দেশের বাইরে থেকে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনার সুযোগ নেই।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/