শিরোনাম

ব্রিটেনের সহায়তা ছাড়াই ইরান যুদ্ধে জিততে পারবো: ট্রাম্প

সিটিজেন ডেস্ক
ব্রিটেনের সহায়তা ছাড়াই ইরান যুদ্ধে জিততে পারবো: ট্রাম্প
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি

মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়ে ব্রিটেন ‘গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা’ করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিটেনের সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যে পশ্চিমা দুই সামরিক মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে শুরুতে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি লন্ডন। এতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বারবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্টারমার দুই দেশের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ‘ধ্বংস’ করছেন।

শনিবার (৭ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ সমর্থনের অভাব আমি ‘মনে রাখবো’।

পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, আমাদের এক সময়ের মহান মিত্র যুক্তরাজ্য সম্ভবত সবার মধ্যে মহত্তম, অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। ঠিক আছে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, এগুলো এখন আর আমাদের প্রয়োজন নেই। আমরা ইতোমধ্যে জয়ী হওয়ার পথে। যারা যুদ্ধ প্রায় শেষ হওয়ার পর যোগ দেয়, তাদের আমাদের দরকার নেই।

শনিবার ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ বিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে ওই পোস্টটি করেন ট্রাম্প।

ইরানে হামলা শুরুর প্রথমদিকে মার্কিন বাহিনীকে কোনো ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তখন বলেন, কোনো সামরিক পদক্ষেপ বৈধ ও সুপরিকল্পিত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পরে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। স্টারমার জানান, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালানোর ক্ষেত্রে সমরাস্ত্র গুদাম বা লঞ্চার লক্ষ্য করে এসব ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছার সমালোচনাও করেছিলেন স্টারমার। একইভাবে আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য যেখানে তিনি বলেছিলেন ইউরোপীয় সেনারা সম্মুখযুদ্ধ এড়িয়ে গেছে– তাকে ‘স্পষ্টতই সাংঘাতিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

/এসএ/