শিরোনাম

ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়ালো

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানে নিহতের সংখ্যা  ১,০০০ ছাড়ালো
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় পঞ্চম দিনে ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার (৪ মার্চ) তেহরানসহ পবিত্র শহর কোম, ইসফাহান এবং পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় বিভিন্ন আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর স্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের কার্যালয়।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৪৫ জন নিহত হয়েছেন। তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, পুরো দেশ এখন বিভিন্ন দিক থেকে হামলার মুখে রয়েছে। অন্তত ৩০০ শিশু ও কিশোর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং আহত মানুষের সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে।

ইরানের প্রেস টিভি ও আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে ১৯তম দফার হামলা শুরু করেছে।

আইআরজিসির বরাতে তাসনিম জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘ট্রু প্রমিজ-৪’।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছাকাছি দুটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। তবে মূল পারমাণবিক স্থাপনা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিকিরণের ঝুঁকিও নেই বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

ইরানে হামলায় নিহতদের কফিন নিয়ে যাচ্ছে তাদের স্বজনরা। ছবি: রয়টার্স
ইরানে হামলায় নিহতদের কফিন নিয়ে যাচ্ছে তাদের স্বজনরা। ছবি: রয়টার্স

হুমকি ও পাল্টা হুমকি

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইরানের পরবর্তী নেতা যেই হোন না কেন, তিনি যদি ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন, তবে তাকেও নির্মূল করা হবে।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের নেতৃত্ব এখন বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন খুব শক্তিশালী অবস্থানে আছি। যারা নেতা হতে চাচ্ছে, তারাই শেষ পর্যন্ত মারা যাচ্ছে।’

এই হুমকির জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি বলেন, লেবাননে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে ইসরায়েল হামলা চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের কারণে গত কয়েক দিনে প্রায় এক লাখ মানুষ তেহরান ছেড়ে পালিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তিনি আলোচনার টেবিলকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।’

/এসএ/