প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া
কয়েকটি বাসে করে কুয়ালালামপুরে লুমুতের নৌঘাঁটিতে পৌঁছায় রোহিঙ্গারা

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মাঝেই প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমার ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। তবে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন অধিকার সংগঠন বলছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে তাদেরকে ফেরত পাঠানো মানে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া।

মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন জানিয়েছেন, ১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গার দলটিতে ১ হাজার ৩৭০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন কিশোর, ৭ জন মেয়েশিশু রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে মালয়েশিয়ার লুমুত নৌঘাঁটি থেকে মিয়ানমার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজে করে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর নাম ইউএমএস মাউত্তামা, ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন এবং ইউএনএস থানলউইন।

এর আগে পুলিশি নিরাপত্তায় কয়েকটি বাসে করে মিয়ানমারের এ নাগরিকদের মানজুং স্টেডিয়ামে আনা হয়। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি দেশের দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের সরকারি পদক্ষেপ। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সমস্যাটি জাতির ওপর উল্লেখযোগ্য হারে আর্থিক বোঝা চাপিয়েছে, গুরুতর সামাজিক সংকট সৃষ্টি করেছে এবং মালয়েশিয়ার জনগণের জন্য বাস্তব নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা করেছিলেন ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।

মালয়েশিয়ার এমন পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক অবিলম্বে এ প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনে জর্জরিত একটি দেশে কাউকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর সময় এটা নয়। সেখানে ফেরার পর অনেকেই আবারও একই ধরনের সহিংসতার শিকার হতে পারে।

গত সপ্তাহেও ১৬০টির বেশি নাগরিক অধিকার সংগঠন যৌথভাবে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে এ জোরপূর্বক নির্বাসন অবিলম্বে থামানোর দাবি জানিয়েছিল। তবে ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদের স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় কুয়ালালামপুর।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এমএকে/