মেক্সিকো সীমান্তে কার্টেল ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রযুক্তি

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
মেক্সিকো সীমান্তে কার্টেল ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রযুক্তি
ঘোস্ট ড্রোন একত্রিত করছেন মার্কিন এক সেনা সদস্য

মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে মাদক ও মানবপাচার ঠেকাতে আকাশপথে নজরদারি বাড়াচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অপরাধী চক্র বা কার্টেলগুলোর বাণিজ্যিক ড্রোনের ব্যবহার সামলাতে সীমান্ত নিরাপত্তায় যুক্ত করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন দ্রুত শনাক্ত করা, গতিবিধি অনুধাবন করা এবং প্রয়োজনে আকাশেই তা নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার সক্ষমতা বাড়াতে তৎপর ওয়াশিংটন।

অ্যারিজোনায় আয়োজিত মার্কিন নর্দার্ন কমান্ডের ফ্যালকন ‘পিক মহড়ায়’ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৈরি ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি সরাসরি পরীক্ষা করেন সেনারা। জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাউদার্ন বর্ডারের অপারেশনবিষয়ক উপকমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান ফিলার জানান, মহড়ার আগের ৩০ দিনে মার্কিন সামরিক বাহিনী সীমান্তে ৩৭৮টি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা শনাক্ত করেছে। তার মতে, এ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। সীমান্ত অতিক্রমের সময় মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পাচারকারীরা মূলত বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন ক্যামেরাযুক্ত ড্রোন ব্যবহার করছে। আকাশপথের এ হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন সেনারা শুধু ঐতিহ্যবাহী প্রথার ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিগত শক্তিতে জোর দিচ্ছে। এর সুফলও মিলতে শুরু করেছে। আগস্টে দক্ষিণ সীমান্তে পরীক্ষামূলকভাবে লেজার প্রযুক্তি মোতায়েনের পর ইতোমধ্যেই কার্টেলগুলোর ১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।

সীমান্তের এ প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি বাস্তবায়নে মার্কিন পরিকল্পনাকারীরা ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে নিচ্ছেন। ইউক্রেন রণাঙ্গনে সস্তা ও ছোট আকারের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার যেভাবে আধুনিক যুদ্ধরীতি বদলে দিয়েছে, মেক্সিকো সীমান্তকে এখন তেমনই এক বাস্তব পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃত্রিম গবেষণাগারের বাইরে একদম বাস্তব পরিবেশে প্রযুক্তির দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং সেনাসদস্যদের দ্রুত প্রশিক্ষিত করার সুযোগ মিলছে এখানে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ম্যাট রস বলেন, ইউক্রেনের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রযুক্তি ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তন করা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, মার্কিন সেনাবাহিনীরও একই গতিতে অভিযোজিত হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো দ্রুত অভিযোজনের সক্ষমতা।

ফ্যালকন পিক মহড়ায় অ্যান্ডুরিল, শিল্ড এআই কিংবা স্যারোনিকের মতো নতুন যুগের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোর তৈরি নানা সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে নজর কেড়েছে অ্যান্ডুরিলের ঘোস্ট ড্রোন, টেলিডাইন ফ্লির-এর তৈরি রাডার ও ক্যামেরাভিত্তিক ড্রোন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, অ্যালেন কন্ট্রোল সিস্টেমসের বুলফ্রগ স্বয়ংক্রিয় অ্যান্টি-ড্রোন মেশিনগান এবং পাওয়ারাসের তৈরি ইন্টারসেপ্টর ড্রোন।

মেক্সিকো সীমান্তে কার্টেলদের ব্যবহৃত প্রযুক্তি আর ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের ইউএভি (UAV) এক নয়, কর্মকর্তারাও সেটা মেনে নিচ্ছেন। তবে কম খরচের বাণিজ্যিক ড্রোন কীভাবে নিখুঁতভাবে ঠেকানো যায়, তার এক বাস্তবসম্মত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে এ অঞ্চল। রাডার, ক্যামেরা, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও লেজার প্রযুক্তির সমন্বয়ে এক অভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলাই এখন পেন্টাগনের মূল লক্ষ্য।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/