শিরোনাম

ট্রাম্পকে বাঁচাতে যাত্রীদের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে সমালোচনা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ট্রাম্পকে বাঁচাতে যাত্রীদের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে সমালোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

গত মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার হুমকি এড়াতে গোপনে নিজের বিমান বদলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, প্রাণ বাঁচাতে তিনি যে বিকল্প বিমানটিতে চড়েছিলেন, সেটি মূল বিমানের চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এদিকে এ ঘটনা এখন পর্যন্ত মার্কিন কংগ্রেসকে জানানো হয়নি। এজন্য কংগ্রেসে ব্রিফিং দাবি করেছেন দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা। ওই ঘটনায় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে কেন ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্ন তুলছেন তারা।

মার্কিন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় ট্রাম্পকে আড়াল করে সামরিক বিমানে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল রূপকথার গল্পের মতো। কোনো সাধারণ নিরাপত্তা বহর নয়, বরং প্রেসিডেন্টকে লুকিয়ে নিয়ে যেতে ব্যবহার করা হয়েছিল একটি সাধারণ ক্যাটারিং ট্রাক! এতদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা হোয়াইট হাউস কেউই বিষয়টি সামনে আনেনি। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই খবরটি সামনে না আনা পর্যন্ত এটি পুরোপুরি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ট্রাম্প যখন গোপনে এয়ার ফোর্স ওয়ান ত্যাগ করে অন্য বিমানে চলে যান, তখন মূল বিমানটিতে অবস্থান করছিলেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সহকারী ও সাংবাদিক মিলিয়ে শতাধিক মানুষ। হুমকির বিষয়টি তাদের না জানিয়ে উড়োজাহাজটি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করে। ইরানের সম্ভাব্য হামলার সরাসরি ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ওই সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি যে প্রেসিডেন্ট তাদের সেখানে রেখেই নিরাপদে কেটে পড়েছেন।

এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এ ধরনের বিপজ্জনক লুকোচুরির তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে কংগ্রেসকে পুরো অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানোর দাবি তুলেছেন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার। এক বিবৃতিতে শুমার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার এত বড় একটি হুমকির বিষয়ে কংগ্রেসকে অন্ধকারে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খোদ সরকারের কাছ থেকে না জেনে সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমাদের এমন খবর জানতে হচ্ছে- যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

এ ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দাবিষয়ক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ স্টেডি স্টেটের নির্বাহী পরিচালক এবং সিআইএর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা শাখার সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভেন ক্যাশ। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় মনে হচ্ছে, ভাবনাটা এমন ছিল যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জায়গায় ১০০ বা তার বেশি মানুষকে ইরানিদের হত্যার সুযোগ দিয়ে আমরা তার বিপদ কমাতে পারি।’

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আঙ্কারার সেই নাটকীয় অভিজ্ঞতার কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সিক্রেট সার্ভিস এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কড়া নির্দেশনার কারণেই তাকে এমন পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, আমাকে সিক্রেট সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর কথা মেনেই চলতে হয়। তারা চেয়েছিল আমি অন্য একটি ফ্লাইটে, অন্য কোনো বিমানে যাই। তারা যা সিদ্ধান্ত দেয়, আমাকে বাধ্য হয়ে সেটাই করতে হয়।

বিকল্প বিমানে ওঠার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি জানান, আমার মনে হয়, পরবর্তীতে আমি যে প্লেনটিতে ভ্রমণ করেছিলাম সেটি আসলে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ আমার ধারণা, শত্রুপক্ষ হয়তো ওই বিমানটিকেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিত। কথার ফাঁকে আফসোসের সুর টেনে ট্রাম্প বলেন, তাকে প্রায় প্রতিদিনই এমন নানা ধরনের হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল ট্রাম্পকে গোপনে অন্য উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন ও অদ্ভুত’ এবং ‘চরম ভীতিকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপরাষ্ট্রদূত নেড প্রাইস বলেন, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোয়াইট হাউস নজিরবিহীন কোনো পদক্ষেপ নিলে তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা না। তবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি ‘নিরেট মিথ্যা’ প্রচার চালিয়েছে এবং সাংবাদিকদের তাদের অজান্তেই সেই মিথ্যা প্রচারের সহযোগী বানিয়েছে।

এ ঘটনায় সাংবাদিকেরাও উদ্বগ প্রকাশ করেছেন। সিএনএনের উপস্থাপক জেক ট্যাপার বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের জীবন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আসন্ন হুমকি মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসের কর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়ে পুরো এয়ারফোর্স ওয়ানকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।’

/জেএইচ/