অধ্যাপক জিনাত হুদার বহিষ্কারে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ক্ষোভ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
অধ্যাপক জিনাত হুদার বহিষ্কারে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ক্ষোভ
অধ্যাপক জিনাত হুদা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে চারটি দাবি তুলে ধরেন তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্তের প্রাসঙ্গিকতা, প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। এ তদন্ত ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন শিক্ষক সমাজের নেতারা।

তারা দাবি করেন, সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির ‘ফরমায়েশি’ প্রতিবেদনের মাধ্যমে অধ্যাপক জিনাত হুদাকে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়েছে। এতে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, শিক্ষকের মর্যাদা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতির বিবেক শিক্ষকদের কণ্ঠরোধ করার একের পর এক অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মতপ্রকাশের ঐতিহ্যগত কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ভিন্নমতের জবাব হতে হবে যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে। প্রশাসনিক হয়রানি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়।

কোনো শিক্ষককে তার মত, বক্তব্য বা অবস্থানের কারণে হয়রানি করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলেও জানান তারা।

এ সময় তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কার অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে; অপ্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত এবং ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে; প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/জেএইচ/