শিরোনাম

হামের দাপট অব্যাহত: নমুনার অর্ধেকই পজিটিভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
হামের দাপট অব্যাহত: নমুনার অর্ধেকই পজিটিভ
মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জন। আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৮৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের বড় অংশই শিশু এবং তারা হামের টিকা পায়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) অনুমোদিত একমাত্র সরকারি পরীক্ষাগার ‘ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস-রুবেলা ল্যাবরেটরি’-তে দৈনিক গড়ে ২০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই ফল পজিটিভ আসছে।

পরীক্ষাগার সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৪৬১টি নমুনা পরীক্ষায় ২০ হাজার ৪৪৬ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। যা মোট পরীক্ষার ৫১ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি দুই জনের নমুনা পরীক্ষায় এক জনের শরীরে মিলছে হামের উপস্থিতি। তবে স্বস্তির খবর হলো, সাম্প্রতিক সময়ে শনাক্তের হার কিছুটা নিম্নমুখী।

পরীক্ষাগারের প্রধান খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, গত বছর ডিসেম্বরের দিকে হাম শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। জানুয়ারিতে শনাক্ত হয় ডিসেম্বরের দ্বিগুণ, ফেব্রুয়ারিতে জানুয়ারির দ্বিগুণ শনাক্ত হয়।

তিনি বলেন, এই পরীক্ষাগারের তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে এবং সেখানে শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই সময়ে ল্যাবভিত্তিক পরীক্ষায় ১৭ হাজার ৪০ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। মোট মৃতের মধ্যে ৯৮ জনের নিশ্চিত হাম এবং ৭৬৯ জনের হামের উপসর্গ ছিল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টাতেও দুই জন নিশ্চিত হামে এবং দুই জন উপসর্গে মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, দেশে বিনামূল্যে হাম পরীক্ষার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিই একমাত্র মাধ্যম। এর বাইরে গবেষণার প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং বাণিজ্যিকভাবে রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল নিদিষ্ট ফির বিনিময়ে এই পরীক্ষা করছে।

/এসবি/