ডেঙ্গুর নতুন লক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ, বেড়েছে মৃত্যু

ডেঙ্গুর নতুন লক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ, বেড়েছে মৃত্যু
আয়নাল হোসেন

বর্ষা মৌসুম ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশার প্রধান প্রজননকাল। এই সময়ে বাড়তে থাকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এবারও ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে। মে মাসে তুলনায় জুনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার হার আশঙ্কাজনক। তবে এবার সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গুর নতুন লক্ষণ। এতে সহজে ডেঙ্গু শনাক্ত করতে না পারায় রোগীকে যথাসময়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ গুণ এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুতে দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের ঝুঁকি বেশি। এজন্য সচেতনতার পাশাপাশি মশা নিধনে কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গছে, মে মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন রোগী মারা যায়। আর মাত্র একমাস ব্যবধানে অর্থাৎ জুনে মারা গেছেন ১৩ জন। মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭১৪ জন সেখানে জুনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ৯০৭। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ঢাকার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ঢাকার বাইরের বাসিন্দা। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সেবচেয়ে বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিধন কার্যক্রমের অভাব এবং অসচেতনতা ঢাকার বাইরে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ায় হাসপাতালের নতুন ভবনের চতুর্থ তলায় ৫০ শয্যার একটি ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে ১১ জন রোগী ভর্তি ছিল।
ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, গত শুক্রবার হঠাৎ জ্বর আসে। এরপর শুরু হয় তীব্র মাথা ব্যথা। কোনো খাবার খেতে গেলেই শুরু হয় বমি। পরিস্থিতি খারাপ হলে রবিবার তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন তিনি সুস্থ হয়ে ওঠছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের কয়েকজন চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে যারা দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের জটিলতা বেশি। যেমন এবার রোগীদের পাতলা পায়খানা, বারবার বমি ও প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে। তবে তারা রোগীর শারিরীক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
জানতে চাইলে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহনূর শারমিন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হলে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়। হামের প্রার্দুভাব ছড়িয়ে পরার পর ডেঙ্গু পরিস্থিতি যাতে খারাপের দিকে না যায় সেজন্য আগেই থেকে সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সচেতন করতে একাধিক সভা ও সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। শিশু বিভাগ এবং স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়েও সভা করা হয়েছে।
ডা. শাহনূর শারমিন ডেঙ্গু রোগীরে সবচেয়ে জটিল সময়ের বিষয়ে বলেন, ডেঙ্গু রোগীর হঠাৎ জ্বর চলে যাওয়ার পর ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেশি ঝুঁকি থাকে। তাই এই সময়ে রোগীকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ কিংবা হাসপাতালে ভর্তি রাখা দরকার।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এখনই দেশব্যাপী সমন্বিত ও ব্যাপক মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ জোরালোভাবেদেওয়া হয়েছে।
প্রথম ৬ মাসের পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬ হাজার ১০৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময় ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৮ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে পুরুষ ৬২ দশমিক ২ শতাংশ এবং নারী ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে–নজীর আহমেদ বলেন, দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হলে জটিলতা অনেক বেশি। কেউ যাতে দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত না হন, সে ব্যাপারে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তবে মশা মারতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এঙ্গে কাজ করতে হবে। তারা কার্যক্রম জোরদার করলে এবার ডেঙ্গু রোগী বেশি হবে না বলে আশা করছেন তিনি।
কিছু পরামর্শ
জ্বর, শরীর ব্যথা বা ডেঙ্গুর যেকোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং পরীক্ষা করাতে হবে। আক্রান্তদের ঘরে বসে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সেবা নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, ব্যক্তিগত সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা এবং ঘরের ফুলের টব, ছাদ বা আঙিনায় তিন দিনের বেশি যাতে প জমে না থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ঢামেকে ৫০ শয্যার ডেডিকেটেড ওয়ার্ড, ২৪ ঘণ্টা সেবা
রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেকে) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে ৫০ শয্যার একটি ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই ওয়ার্ডটিতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক ও নার্সরা পালা করে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

বর্ষা মৌসুম ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশার প্রধান প্রজননকাল। এই সময়ে বাড়তে থাকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এবারও ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে। মে মাসে তুলনায় জুনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার হার আশঙ্কাজনক। তবে এবার সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গুর নতুন লক্ষণ। এতে সহজে ডেঙ্গু শনাক্ত করতে না পারায় রোগীকে যথাসময়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ গুণ এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুতে দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের ঝুঁকি বেশি। এজন্য সচেতনতার পাশাপাশি মশা নিধনে কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গছে, মে মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন রোগী মারা যায়। আর মাত্র একমাস ব্যবধানে অর্থাৎ জুনে মারা গেছেন ১৩ জন। মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭১৪ জন সেখানে জুনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ৯০৭। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ঢাকার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ঢাকার বাইরের বাসিন্দা। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সেবচেয়ে বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিধন কার্যক্রমের অভাব এবং অসচেতনতা ঢাকার বাইরে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ায় হাসপাতালের নতুন ভবনের চতুর্থ তলায় ৫০ শয্যার একটি ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে ১১ জন রোগী ভর্তি ছিল।
ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, গত শুক্রবার হঠাৎ জ্বর আসে। এরপর শুরু হয় তীব্র মাথা ব্যথা। কোনো খাবার খেতে গেলেই শুরু হয় বমি। পরিস্থিতি খারাপ হলে রবিবার তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন তিনি সুস্থ হয়ে ওঠছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের কয়েকজন চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে যারা দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের জটিলতা বেশি। যেমন এবার রোগীদের পাতলা পায়খানা, বারবার বমি ও প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে। তবে তারা রোগীর শারিরীক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
জানতে চাইলে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহনূর শারমিন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হলে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়। হামের প্রার্দুভাব ছড়িয়ে পরার পর ডেঙ্গু পরিস্থিতি যাতে খারাপের দিকে না যায় সেজন্য আগেই থেকে সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সচেতন করতে একাধিক সভা ও সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। শিশু বিভাগ এবং স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়েও সভা করা হয়েছে।
ডা. শাহনূর শারমিন ডেঙ্গু রোগীরে সবচেয়ে জটিল সময়ের বিষয়ে বলেন, ডেঙ্গু রোগীর হঠাৎ জ্বর চলে যাওয়ার পর ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেশি ঝুঁকি থাকে। তাই এই সময়ে রোগীকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ কিংবা হাসপাতালে ভর্তি রাখা দরকার।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এখনই দেশব্যাপী সমন্বিত ও ব্যাপক মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ জোরালোভাবেদেওয়া হয়েছে।
প্রথম ৬ মাসের পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬ হাজার ১০৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময় ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৮ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে পুরুষ ৬২ দশমিক ২ শতাংশ এবং নারী ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে–নজীর আহমেদ বলেন, দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হলে জটিলতা অনেক বেশি। কেউ যাতে দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত না হন, সে ব্যাপারে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তবে মশা মারতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এঙ্গে কাজ করতে হবে। তারা কার্যক্রম জোরদার করলে এবার ডেঙ্গু রোগী বেশি হবে না বলে আশা করছেন তিনি।
কিছু পরামর্শ
জ্বর, শরীর ব্যথা বা ডেঙ্গুর যেকোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং পরীক্ষা করাতে হবে। আক্রান্তদের ঘরে বসে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সেবা নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, ব্যক্তিগত সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা এবং ঘরের ফুলের টব, ছাদ বা আঙিনায় তিন দিনের বেশি যাতে প জমে না থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ঢামেকে ৫০ শয্যার ডেডিকেটেড ওয়ার্ড, ২৪ ঘণ্টা সেবা
রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেকে) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে ৫০ শয্যার একটি ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই ওয়ার্ডটিতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক ও নার্সরা পালা করে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ডেঙ্গুর নতুন লক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ, বেড়েছে মৃত্যু
আয়নাল হোসেন

বর্ষা মৌসুম ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশার প্রধান প্রজননকাল। এই সময়ে বাড়তে থাকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এবারও ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে। মে মাসে তুলনায় জুনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার হার আশঙ্কাজনক। তবে এবার সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গুর নতুন লক্ষণ। এতে সহজে ডেঙ্গু শনাক্ত করতে না পারায় রোগীকে যথাসময়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ গুণ এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুতে দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের ঝুঁকি বেশি। এজন্য সচেতনতার পাশাপাশি মশা নিধনে কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গছে, মে মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন রোগী মারা যায়। আর মাত্র একমাস ব্যবধানে অর্থাৎ জুনে মারা গেছেন ১৩ জন। মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭১৪ জন সেখানে জুনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ৯০৭। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ঢাকার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ঢাকার বাইরের বাসিন্দা। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সেবচেয়ে বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিধন কার্যক্রমের অভাব এবং অসচেতনতা ঢাকার বাইরে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ায় হাসপাতালের নতুন ভবনের চতুর্থ তলায় ৫০ শয্যার একটি ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে ১১ জন রোগী ভর্তি ছিল।
ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, গত শুক্রবার হঠাৎ জ্বর আসে। এরপর শুরু হয় তীব্র মাথা ব্যথা। কোনো খাবার খেতে গেলেই শুরু হয় বমি। পরিস্থিতি খারাপ হলে রবিবার তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন তিনি সুস্থ হয়ে ওঠছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের কয়েকজন চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে যারা দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের জটিলতা বেশি। যেমন এবার রোগীদের পাতলা পায়খানা, বারবার বমি ও প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে। তবে তারা রোগীর শারিরীক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
জানতে চাইলে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহনূর শারমিন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হলে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়। হামের প্রার্দুভাব ছড়িয়ে পরার পর ডেঙ্গু পরিস্থিতি যাতে খারাপের দিকে না যায় সেজন্য আগেই থেকে সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সচেতন করতে একাধিক সভা ও সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। শিশু বিভাগ এবং স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়েও সভা করা হয়েছে।
ডা. শাহনূর শারমিন ডেঙ্গু রোগীরে সবচেয়ে জটিল সময়ের বিষয়ে বলেন, ডেঙ্গু রোগীর হঠাৎ জ্বর চলে যাওয়ার পর ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেশি ঝুঁকি থাকে। তাই এই সময়ে রোগীকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ কিংবা হাসপাতালে ভর্তি রাখা দরকার।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এখনই দেশব্যাপী সমন্বিত ও ব্যাপক মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ জোরালোভাবেদেওয়া হয়েছে।
প্রথম ৬ মাসের পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬ হাজার ১০৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময় ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৮ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে পুরুষ ৬২ দশমিক ২ শতাংশ এবং নারী ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে–নজীর আহমেদ বলেন, দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হলে জটিলতা অনেক বেশি। কেউ যাতে দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত না হন, সে ব্যাপারে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তবে মশা মারতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এঙ্গে কাজ করতে হবে। তারা কার্যক্রম জোরদার করলে এবার ডেঙ্গু রোগী বেশি হবে না বলে আশা করছেন তিনি।
কিছু পরামর্শ
জ্বর, শরীর ব্যথা বা ডেঙ্গুর যেকোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং পরীক্ষা করাতে হবে। আক্রান্তদের ঘরে বসে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সেবা নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, ব্যক্তিগত সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা এবং ঘরের ফুলের টব, ছাদ বা আঙিনায় তিন দিনের বেশি যাতে প জমে না থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ঢামেকে ৫০ শয্যার ডেডিকেটেড ওয়ার্ড, ২৪ ঘণ্টা সেবা
রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেকে) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে ৫০ শয্যার একটি ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই ওয়ার্ডটিতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক ও নার্সরা পালা করে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।




