শিরোনাম

টিকার সংকটে ইপিআই: এমআর ও নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিনের মজুত শূন্য

বিশেষ প্রতিনিধি
টিকার সংকটে ইপিআই: এমআর ও নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিনের মজুত শূন্য
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় এক শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। ছবি: পাথওয়ে

দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) গুরুতর সংকট দেখা দিয়েছে। শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাম-রুবেলা (এমআর) ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধী (পিসিভি) ভ্যাকসিনের কেন্দ্রীয় মজুদ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।

সর্বশেষ ৩০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ইপিআইয়ের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে দেখা যায়, এমআর ৫ ডোজ ও পিসিভি ৪ ডোজ– এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিনের কোনো মজুত বর্তমানে সদর দপ্তরে নেই।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ভায়াল এমআর ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। একইভাবে পিসিভি ভ্যাকসিনের মাসিক চাহিদা প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ভায়াল। তবে বর্তমানে এই দুই ভ্যাকসিনের মজুত শূন্যে নেমে এসেছে।

সংকট মোকাবিলায় এফডিএমএন থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার ভায়াল এমআর এবং ১ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ ভায়াল পিসিভি ভ্যাকসিন ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এমআর ও পিসিভি ছাড়াও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুত ‘লাল সীমা’ বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে পোলিও প্রতিরোধী ওপিভি ভ্যাকসিনের মজুত আছে মাত্র ৪ হাজার ৪২০ ভায়াল, যা এক দিনের কিছু বেশি সময় চলবে।

টিটেনাস ও ডিপথেরিয়ার বুস্টার (টিডি) ভ্যাকসিনের মজুত ২০ হাজার ৬৭ ভায়াল, যা প্রায় ৫ দশমিক ৭৩ দিনের জন্য যথেষ্ট। যক্ষ্মা প্রতিরোধী বিসিজি ভ্যাকসিনের মজুত ৫৪ হাজার ৩২৪ ভায়াল, যা দিয়ে প্রায় ১২ দশমিক ৭৭ দিন টিকাদান কার্যক্রম চালানো সম্ভব।

পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিনের মজুত ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮২৪ ভায়াল থাকলেও চাহিদা বেশি হওয়ায় তা দিয়ে প্রায় ১২ দশমিক ৯৪ দিন চলবে।

তবে কিছু ভ্যাকসিনের মজুত পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো রয়েছে। আইপিভি ভ্যাকসিনের মজুত রয়েছে প্রায় ১০২ দিনের, এইচপিভি ভ্যাকসিন ৬৪৭ দিনের এবং টিসিভি ভ্যাকসিন প্রায় ৪৫০ দিনের জন্য পর্যাপ্ত রয়েছে। এছাড়া করোনা প্রতিরোধী কোরবেভ্যাক্স-এর ৭৫,০৬০ ভায়াল মজুদ আছে।

আগামী দিনের পরিকল্পনা

সংকট মোকাবিলায় ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৮০,০৮০ ভায়াল আইপিভি ভ্যাকসিন আসার একটি সম্ভাব্য সূচি রয়েছে (পিও নম্বর: ৪৫২১৩৮৩৯)। তবে এমআর ও পিসিভি ভ্যাকসিনের নিয়মিত সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করা না গেলে সারাদেশে রুটিন টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে এই ভ্যাকসিনগুলোর সরবরাহ চেইন নিরবচ্ছিন্ন রাখা জরুরি। অন্যথায় স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

/এসএ/