ভয়ঙ্কর রূপে হাম, রোগী বেড়েছে ৩৪ গুণ

ভয়ঙ্কর রূপে হাম, রোগী বেড়েছে ৩৪ গুণ
আয়নাল হোসেন

ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে হাম। প্রতিদিনই এ রোগে শিশু মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত বছরের প্রথম তিন মাসে যতসংখ্যক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছিল তার চেয়ে চলতি বছরের একই সময়ে ৩৪ গুণ বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।
হামের এই প্রার্দুভাবের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির কারণে দেশে হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ওই সময়ে মাঠ থেকে প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব হয়নি বলে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক বে–নজীর আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, গত বছর শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার ব্যত্যয় ঘটেছে। গত বছর শতকরা ৪০ ভাগ শিশু হামের টিকা পায়নি। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে শতকরা ৯৫ ভাগ শিশুকে টিকা দিতে হয়। কিন্তু গত বছর সেটি করা হয়নি। টিকা না দেওয়ায় শিশুদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। ফলে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারের গাফিলতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তৎকালীন সচিব সাইদুর রহমান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, টিকার সংকট কিংবা এ বিষয়ে কোথায় ঘাটতি ছিল সেটি মাঠ পর্যায়ে প্রতিবেদন তাদের কাছে আসেনি। এ কারণে কোথায় মূলত গ্যাপ হয়েছে সেটি নিশ্চিত জানা যায়নি। তবে সবগুলো কেন্দ্রেই টিকা সরবরাহ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটিজেন জার্নালকে বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর টিকার একটি ক্যাম্পেইন চালানো হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে করা হয়েছিল। আর ২০২৪ সালের ক্যাম্পেইনটি করা হয়নি। এ কারণে হামের ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৮। আর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩০০ এর অধিক, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩৪ গুণ বেশি।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘন্টায় (৪ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। আর সন্দেহভাজন ১০ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৫ এপ্রিলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭। আর ১১৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক) মারা গেছে।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। বছরের প্রথম তিন মাসেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে।
বিএমজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ এর বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৬৮৪ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রথম হামের রোগী শনাক্ত হয়। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই সংক্রমণের হার কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং বর্তমানে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়া, ল্যাবরেটরিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা এবং অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার ফলে অনেক তথ্য নথিভুক্ত হচ্ছে না।
হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি জেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়সী থেকে শুরু করে শিশুদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে কাছের হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৯৭৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে । একই সময়ে ৫৪ জনের শরীরে পরীক্ষায় হামের নিশ্চিত উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্তমানে হাসপাতালের শয্যাগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন । তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯৩ জন। মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে মোট সন্দেহজনক রোগী ৭ হাজার ৬১০ জন এবং নিশ্চিত আক্রান্ত ৯২৯ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন।
আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। এখানে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫৯ জন সন্দেহজনক এবং ৪৬৮ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১ হাজার ৪৮০ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯৯ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। ময়মনসিংহে আক্রান্তের হার তুলনামূলক কম (১৭৬ জন)।

ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে হাম। প্রতিদিনই এ রোগে শিশু মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত বছরের প্রথম তিন মাসে যতসংখ্যক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছিল তার চেয়ে চলতি বছরের একই সময়ে ৩৪ গুণ বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।
হামের এই প্রার্দুভাবের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির কারণে দেশে হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ওই সময়ে মাঠ থেকে প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব হয়নি বলে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক বে–নজীর আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, গত বছর শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার ব্যত্যয় ঘটেছে। গত বছর শতকরা ৪০ ভাগ শিশু হামের টিকা পায়নি। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে শতকরা ৯৫ ভাগ শিশুকে টিকা দিতে হয়। কিন্তু গত বছর সেটি করা হয়নি। টিকা না দেওয়ায় শিশুদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। ফলে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারের গাফিলতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তৎকালীন সচিব সাইদুর রহমান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, টিকার সংকট কিংবা এ বিষয়ে কোথায় ঘাটতি ছিল সেটি মাঠ পর্যায়ে প্রতিবেদন তাদের কাছে আসেনি। এ কারণে কোথায় মূলত গ্যাপ হয়েছে সেটি নিশ্চিত জানা যায়নি। তবে সবগুলো কেন্দ্রেই টিকা সরবরাহ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটিজেন জার্নালকে বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর টিকার একটি ক্যাম্পেইন চালানো হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে করা হয়েছিল। আর ২০২৪ সালের ক্যাম্পেইনটি করা হয়নি। এ কারণে হামের ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৮। আর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩০০ এর অধিক, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩৪ গুণ বেশি।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘন্টায় (৪ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। আর সন্দেহভাজন ১০ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৫ এপ্রিলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭। আর ১১৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক) মারা গেছে।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। বছরের প্রথম তিন মাসেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে।
বিএমজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ এর বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৬৮৪ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রথম হামের রোগী শনাক্ত হয়। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই সংক্রমণের হার কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং বর্তমানে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়া, ল্যাবরেটরিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা এবং অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার ফলে অনেক তথ্য নথিভুক্ত হচ্ছে না।
হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি জেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়সী থেকে শুরু করে শিশুদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে কাছের হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৯৭৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে । একই সময়ে ৫৪ জনের শরীরে পরীক্ষায় হামের নিশ্চিত উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্তমানে হাসপাতালের শয্যাগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন । তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯৩ জন। মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে মোট সন্দেহজনক রোগী ৭ হাজার ৬১০ জন এবং নিশ্চিত আক্রান্ত ৯২৯ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন।
আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। এখানে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫৯ জন সন্দেহজনক এবং ৪৬৮ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১ হাজার ৪৮০ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯৯ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। ময়মনসিংহে আক্রান্তের হার তুলনামূলক কম (১৭৬ জন)।

ভয়ঙ্কর রূপে হাম, রোগী বেড়েছে ৩৪ গুণ
আয়নাল হোসেন

ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে হাম। প্রতিদিনই এ রোগে শিশু মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত বছরের প্রথম তিন মাসে যতসংখ্যক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছিল তার চেয়ে চলতি বছরের একই সময়ে ৩৪ গুণ বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।
হামের এই প্রার্দুভাবের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির কারণে দেশে হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ওই সময়ে মাঠ থেকে প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব হয়নি বলে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক বে–নজীর আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, গত বছর শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার ব্যত্যয় ঘটেছে। গত বছর শতকরা ৪০ ভাগ শিশু হামের টিকা পায়নি। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে শতকরা ৯৫ ভাগ শিশুকে টিকা দিতে হয়। কিন্তু গত বছর সেটি করা হয়নি। টিকা না দেওয়ায় শিশুদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। ফলে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারের গাফিলতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তৎকালীন সচিব সাইদুর রহমান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, টিকার সংকট কিংবা এ বিষয়ে কোথায় ঘাটতি ছিল সেটি মাঠ পর্যায়ে প্রতিবেদন তাদের কাছে আসেনি। এ কারণে কোথায় মূলত গ্যাপ হয়েছে সেটি নিশ্চিত জানা যায়নি। তবে সবগুলো কেন্দ্রেই টিকা সরবরাহ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটিজেন জার্নালকে বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর টিকার একটি ক্যাম্পেইন চালানো হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে করা হয়েছিল। আর ২০২৪ সালের ক্যাম্পেইনটি করা হয়নি। এ কারণে হামের ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৮। আর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩০০ এর অধিক, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩৪ গুণ বেশি।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘন্টায় (৪ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। আর সন্দেহভাজন ১০ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৫ এপ্রিলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭। আর ১১৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক) মারা গেছে।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। বছরের প্রথম তিন মাসেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে।
বিএমজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ এর বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৬৮৪ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রথম হামের রোগী শনাক্ত হয়। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই সংক্রমণের হার কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং বর্তমানে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়া, ল্যাবরেটরিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা এবং অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার ফলে অনেক তথ্য নথিভুক্ত হচ্ছে না।
হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি জেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়সী থেকে শুরু করে শিশুদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে কাছের হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৯৭৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে । একই সময়ে ৫৪ জনের শরীরে পরীক্ষায় হামের নিশ্চিত উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্তমানে হাসপাতালের শয্যাগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন । তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯৩ জন। মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে মোট সন্দেহজনক রোগী ৭ হাজার ৬১০ জন এবং নিশ্চিত আক্রান্ত ৯২৯ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন।
আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। এখানে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫৯ জন সন্দেহজনক এবং ৪৬৮ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১ হাজার ৪৮০ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯৯ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। ময়মনসিংহে আক্রান্তের হার তুলনামূলক কম (১৭৬ জন)।




